ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যেখানে ছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৬৩ বার
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ছিলেন। ব্যারাকে ৯ দিন কাটানোর পর একটি ব্যক্তিগত জায়গায় চলে গেছেন। খবর কাঠমাণ্ডু পোস্টের।

খবরে বলা হয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগের পর থেকে তিনি শিবপুরীর সেনা স্টাফ কলেজে অবস্থান করছিলেন।

তবে গত বৃহস্পতিবার তিনি সেখান থেকে বের হয়ে যান। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম বিবৃতিতে ভারতের সমালোচনা করেছেন অলি।সেনাবাহিনী সূত্রের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, সেনা নিরাপত্তায় ৯ দিন কাটানোর পর নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান একটি ব্যক্তিগত জায়গায় চলে গেছেন। তবে এখন থেকে তিনি কোথায় থাকবেন, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কাঠমাণ্ডু থেকে ১৫ কিলোমিটার পূর্বে ভক্তপুর জেলার গুণ্ডু এলাকার একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে চলে যেতে পারেন অলি।গতকাল শুক্রবার নেপালের সংবিধান দিবসে ফেসবুকে এক বিবৃতিতে অলি দেশটির সংবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।

তিনি লিখেছেন, ‘অবরোধ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে সংবিধান জারি করা হয়েছিল।’ তিনি ২০১৫ সালের অবরোধের কথা উল্লেখ করেন, যে অবরোধে ভারতের হাত ছিল বলে দোষারোপ করা হয়।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নেপাল দক্ষিণ সীমান্তে তীব্র অবরোধের সম্মুখীন হয়। সেখানে জ্বালানি, ওষুধ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ বহনকারী ট্রাকগুলোকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এই অবরোধের নেতৃত্ব দেওয়া হয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের দিয়ে। ভারত সেই সময় নেপালে সরবরাহ বন্ধ করার কথা অস্বীকার করে বলেছিল, নেপালের দিকের নেপালি জনগোষ্ঠীই এই বাধা সৃষ্টি করছে। যদিও অলি তার পোস্টে স্পষ্টভাবে ভারতের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার মন্তব্য দেশটির দিকেই ইঙ্গিত করে।

তিনি বলেন, অবরোধ নেপালের পররাষ্ট্রনীতি এবং অবকাঠামোগত কৌশলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে কাজ করেছে।অলি দাবি করেছেন, পুলিশকে কখনোই বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিইনি।

হত্যায় ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র পুলিশের কাছে ছিলই না বলেও দাবি তার। আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আয়োজকরা নিজেরাই স্বীকার করেছেন আন্দোলনে অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। সরকার কখনোই পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে নির্দেশ দেয়নি। তদন্তে বেরিয়ে আসুক, কারা সেই স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যেখানে ছিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ১১:২৪:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ছিলেন। ব্যারাকে ৯ দিন কাটানোর পর একটি ব্যক্তিগত জায়গায় চলে গেছেন। খবর কাঠমাণ্ডু পোস্টের।

খবরে বলা হয়, গত ৯ সেপ্টেম্বর পদত্যাগের পর থেকে তিনি শিবপুরীর সেনা স্টাফ কলেজে অবস্থান করছিলেন।

তবে গত বৃহস্পতিবার তিনি সেখান থেকে বের হয়ে যান। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথম বিবৃতিতে ভারতের সমালোচনা করেছেন অলি।সেনাবাহিনী সূত্রের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, সেনা নিরাপত্তায় ৯ দিন কাটানোর পর নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান একটি ব্যক্তিগত জায়গায় চলে গেছেন। তবে এখন থেকে তিনি কোথায় থাকবেন, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি।

গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কাঠমাণ্ডু থেকে ১৫ কিলোমিটার পূর্বে ভক্তপুর জেলার গুণ্ডু এলাকার একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে চলে যেতে পারেন অলি।গতকাল শুক্রবার নেপালের সংবিধান দিবসে ফেসবুকে এক বিবৃতিতে অলি দেশটির সংবিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।

তিনি লিখেছেন, ‘অবরোধ এবং দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর উদ্ভূত চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে সংবিধান জারি করা হয়েছিল।’ তিনি ২০১৫ সালের অবরোধের কথা উল্লেখ করেন, যে অবরোধে ভারতের হাত ছিল বলে দোষারোপ করা হয়।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে নেপাল দক্ষিণ সীমান্তে তীব্র অবরোধের সম্মুখীন হয়। সেখানে জ্বালানি, ওষুধ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ বহনকারী ট্রাকগুলোকে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

এই অবরোধের নেতৃত্ব দেওয়া হয় জাতিগত সংখ্যালঘুদের দিয়ে। ভারত সেই সময় নেপালে সরবরাহ বন্ধ করার কথা অস্বীকার করে বলেছিল, নেপালের দিকের নেপালি জনগোষ্ঠীই এই বাধা সৃষ্টি করছে। যদিও অলি তার পোস্টে স্পষ্টভাবে ভারতের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার মন্তব্য দেশটির দিকেই ইঙ্গিত করে।

তিনি বলেন, অবরোধ নেপালের পররাষ্ট্রনীতি এবং অবকাঠামোগত কৌশলের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে কাজ করেছে।অলি দাবি করেছেন, পুলিশকে কখনোই বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিইনি।

হত্যায় ব্যবহৃত স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র পুলিশের কাছে ছিলই না বলেও দাবি তার। আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আয়োজকরা নিজেরাই স্বীকার করেছেন আন্দোলনে অনুপ্রবেশ ঘটেছিল। ষড়যন্ত্রকারীরা সহিংসতা সৃষ্টি করেছে। সরকার কখনোই পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে নির্দেশ দেয়নি। তদন্তে বেরিয়ে আসুক, কারা সেই স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহার করেছে।’