২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে যাচ্ছে—এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হলেও এর সঙ্গে নানা ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই উত্তরণকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে এখনই সদ্ভাবে কথা বলা দরকার।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ২৮ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, ‘এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে আমাদের শ্রমিক, কৃষক ও তরুণদের ঝুঁকিতে ফেলে দেওয়া যাবে না।
উত্তরণের সুফল যেন জনগণ ভোগ করতে পারে, সে জন্য বাস্তবসম্মত, দৃশ্যমান অগ্রগতি ও সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।’
বিএনপির উদ্বেগ
তারেক রহমান বলেন, এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে বাংলাদেশ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সুবিধা হারাবে। এতে তৈরি পোশাক খাতের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও ঋণের ওপর চাপ বাড়বে।
ফলে স্বল্প সুদে বৈদেশিক ঋণ পাওয়া কঠিন হবে। আর্থিক সহায়তার পরিমাণও কমে যেতে পারে।
তিনি আরো বলেন, এলডিসি দেশ হিসেবে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) থেকে যে সুবিধাগুলো পাওয়া যায় যেমন—ভর্তুকির নমনীয়তা, ওষুধের পেটেন্টসংক্রান্ত ছাড়ও আর প্রযোজ্য থাকবে না। ফলে ওষুধের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সমাধানে যেসব উদ্যোগের কথা বললেন
এই পরিস্থিতিতে এখনই প্রস্তুতি নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘একটি মাত্র খাতে রপ্তানিনির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই রপ্তানি বহুমুখীকরণ জরুরি, বিশেষ করে তথ্য-প্রযুক্তি, ওষুধ ও উচ্চমূল্য সংযোজনশীল শিল্পে।’
তাঁর প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে—উৎপাদনশীলতা, লজিস্টিকস ও অবকাঠামোতে বিনিয়োগ; সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা; আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নীতিগত প্রস্তুতি।
তারেক রহমান বলেন, ‘উত্তরণ যেন দেশকে ঋণের ফাঁদে না ফেলে বা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না দেয়, তা নিশ্চিত করতে হবে এখনই।’