বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেড় দশকের বেশি সময় ধরে একজন নাগরিক হিসেবে সব ধরনের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার ফলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের অসহিষ্ণুতা জন্ম নিয়েছে। এই অসহিষ্ণুতা কাটিয়ে ওঠার জন্য এবং একজন মানবিক মানুষ হয়ে উঠতে হলে আমাদের অঙ্গীকার হোক—মনুষ্যত্ব অর্জন এবং পশুত্ব বর্জন।’
গতকাল শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘প্রাণী ও প্রাণের মিলনমেলা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রের সঙ্গে যেমন মানুষের অধিকারের সম্পর্ক, তেমনি বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে পশুপাখি ও বন্যপ্রাণীর অধিকারও জড়িয়ে আছে। সুতরাং রাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও শুদ্ধাচার নিশ্চিত হলে বাস্তুতন্ত্রও নিরাপদ থাকে।’
তিনি বলেন, ‘যদি মানুষ রাষ্ট্র ও সমাজে নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারে, তবে অন্য প্রাণীর অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও সচেতনতা ও যত্নশীলতা বাড়ে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেশের রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে এসে প্রাণীপ্রেমী মানুষের এমন আয়োজন অবশ্যই অর্থবহ ও ইতিবাচক একটি উদ্যোগ।
তারেক রহমান বলেন, ‘এই যাত্রায় আমাদের স্লোগান হোক—প্রাণ বাঁচাও, প্রাণী বাঁচাও। দেশ হোক সব প্রাণের নিরাপদ আশ্রয়স্থল।’
তিনি জানান, বাংলাদেশে এক হাজার ৬০০টির বেশি প্রাণী প্রজাতির অস্তিত্ব রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৯০টি বিলুপ্তির মুখে। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বজুড়েই নানা কারণে অনেক প্রাণী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
তাঁর ভাষ্য, ‘বাংলাদেশের গর্ব ও ঐতিহ্যের প্রতীক বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ১৯৮০-এর দশকে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী তা কমে এসে এখন ১০০-এর কাছাকাছি। হাতির সংখ্যাও ২০০-এর নিচে নেমে এসেছে বলে মনে হয়।’
তিনি বলেন, ‘বহু প্রজাতির প্রাণী ক্রমেই বিলুপ্তির পথে।
পাশাপাশি বন্য প্রাণী পাচারও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ফলে জলজ উদ্ভিদ ও বন্য প্রাণীর আবাসস্থল মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।’
তিনি জানান, ভবিষ্যতে জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পশুপাখি ও বাস্তুতন্ত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন সময়োপযোগী করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিবর্ধন করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে সচেতন করা জরুরি। আমাদের মনে রাখা উচিত, বন্য প্রাণীর নিরাপত্তার সঙ্গে মানবসমাজের নিরাপত্তাও জড়িত।’
তিনি বলেন, ‘মানুষ যখন মানুষের প্রতিও সহানুভূতিহীন হয়ে পড়ে, তখন প্রাণীর প্রতি মমতা হয়তো অনেকের কাছে বাহুল্য মনে হতে পারে। তবে এটাও সত্য যে পশুপাখির প্রতি মানুষের হৃদয়ে জায়গা না হলে শুধু আইন করে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। মানবিক অনুভূতির বিকাশ ছাড়া আইন কার্যকর হয় না।’
তারেক রহমান বলেন, ‘প্রাণীর প্রতি সহানুভূতি ও নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা মানবসমাজের পরিপক্বতা ও নৈতিকতার পরিচায়ক। সুতরাং নিজেদের প্রয়োজনেই আমাদের প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখা জরুরি।’
মানবাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে—যখন রাষ্ট্র খোদ মানুষের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করতে পারছে না, তখন প্রাণীর নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলাটা কতটা যৌক্তিক? তবে আমাদের বুঝতে হবে, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সমাজে শুভ উদ্যোগগুলোর প্রসার ঘটাতে হবে। এদের প্রতিদিনের চর্চা ও আলোচনায় রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান, ক্রিকেটার শফিউল আলম, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনোয়ার হোসেন তুহিন, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সহস্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাম্মি আকতার, মিডিয়া সেল সদস্য শায়রুল কবির খান, বাংলাদেশ এনিম্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও চিত্রনায়ক আদনান আজাদ, আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ