ঢাকা ০৪:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
সেবার হাত বাড়িয়ে প্রশংসার শীর্ষে মিঠামইনের ওসি মনোয়ার সরকার আ.লীগের অপতৎপরতায় শঙ্কিত নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপহার কেনার আগে যে ৭টি বিষয় মনে রাখা জরুরি চীনে ৩০ দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের গণমাধ্যম সহযোগিতা সেমিনার আগামী বছরের জানুয়ারিতে হতে পারে ইউপি নির্বাচন: ইসি মাছউদ জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে বাড়ল ২০ টাকা ইমরান খানের বোনকে গ্রেপ্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনা চীনা নাগরিকের ২.৫ কেজি সোনা উদ্ধার, আনসারের বিচক্ষণতায় পাচারচেষ্টা নস্যাৎ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী

মাইকিং করে ৪ গ্রামের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ১ আহত ৫০

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৮৯ বার

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ড এলাকায় টমটম ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে ৪ গ্রামের দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত ও উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জামারগাঁও ও রাধাপুর গ্রামের লোকজন মাইকিং করে প্রস্তুতি নিয়ে লাঠিসোটাসহ কাকুড়া ও করিমপুর গ্রামের কাছে এলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় যৌথবাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

এর আগে সোমবার রাত ১০টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ড এলাকার দীঘলবাক ইউনিয়নের জামারগাঁও, রাধাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী ফয়সল আহমদের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কাকুড়া, করিমপুর গ্রামের টমটমচালক রাশেদ, সিএনজিচালক মোহাম্মদ আলী ও সিরাজুলের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেন।

আহতদের মধ্যে ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় জামারগাঁও ও রাধাপুর গ্রামের লোকজন দৌড়ে পালিয়ে গেলে পেছনে একা পড়ে যান রাধাপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে সাব্বির মিয়া (৩৫)। তাকে একা পেয়ে ঘিরে ধরেন অপরপক্ষের লোকজন। এ সময় এলোপাতাড়ি দায়ের কোপে মারাত্মক আহত হন সাব্বির। কিছুক্ষণ পর তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাকুড়া ও করিমপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয় বিবিয়ানা চৌরাস্তায় টমটম ও সিএনজি চলাচল নিয়ে গত ১৫-২০ দিন যাবত জামারগাঁও ও রাধাপুর গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। কাকুড়া করিমপুর গ্রামের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মাখন মিয়া ও ইলিয়াছ মিয়া গং; অপরপক্ষে রাধাপুর, জামারগাঁও গ্রামের নেতৃত্ব দেন সাবেক মেম্বার আব্দুল বারিক রনি ও ফখরুল ইসলাম গং।

এ ব্যাপারে সাবেক মেম্বার ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কয়েকটি গ্রামের মানুষকে কয়েক দিন যাবত কাকুড়া করিমপুরের লোকজন পেলেই মারপিট করছে। গত রাতেও ফয়সল আহমদ নামে একজন ব্যবসায়ীকে তারা মারপিট করে টাকা লুটপাট করে। এ নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করেছি। তারা আমাদের গ্রামের কৃষক সাব্বিরকে একা পেয়ে মারপিট করে নিহত করেছে।

কাকুড়া গ্রামের মাখন মিয়া মোবাইল ফোনে বলেন, আমাদের গ্রামের টমটমচালক রাশেদ, সিএনজিচালক মোহাম্মদ আলীকে রাধাপুর ও জামারগাঁও গ্রামের লোকজন মারপিট করেছে। এরপর মঙ্গলবার সকালে আমাদের গ্রামে এসে লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ করে তারা।

নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

সেবার হাত বাড়িয়ে প্রশংসার শীর্ষে মিঠামইনের ওসি মনোয়ার

মাইকিং করে ৪ গ্রামের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ১ আহত ৫০

আপডেট টাইম : ০৬:৩৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ড এলাকায় টমটম ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে ৪ গ্রামের দুপক্ষের লোকজনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত ও উভয়পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জামারগাঁও ও রাধাপুর গ্রামের লোকজন মাইকিং করে প্রস্তুতি নিয়ে লাঠিসোটাসহ কাকুড়া ও করিমপুর গ্রামের কাছে এলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় যৌথবাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

এর আগে সোমবার রাত ১০টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ড এলাকার দীঘলবাক ইউনিয়নের জামারগাঁও, রাধাপুর গ্রামের ব্যবসায়ী ফয়সল আহমদের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী কাকুড়া, করিমপুর গ্রামের টমটমচালক রাশেদ, সিএনজিচালক মোহাম্মদ আলী ও সিরাজুলের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে উভয়পক্ষে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেন।

আহতদের মধ্যে ২০ জনকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের সময় জামারগাঁও ও রাধাপুর গ্রামের লোকজন দৌড়ে পালিয়ে গেলে পেছনে একা পড়ে যান রাধাপুর গ্রামের আব্দুর রউফের ছেলে সাব্বির মিয়া (৩৫)। তাকে একা পেয়ে ঘিরে ধরেন অপরপক্ষের লোকজন। এ সময় এলোপাতাড়ি দায়ের কোপে মারাত্মক আহত হন সাব্বির। কিছুক্ষণ পর তিনি ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাকুড়া ও করিমপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে স্থানীয় বিবিয়ানা চৌরাস্তায় টমটম ও সিএনজি চলাচল নিয়ে গত ১৫-২০ দিন যাবত জামারগাঁও ও রাধাপুর গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা চলে আসছিল। কাকুড়া করিমপুর গ্রামের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মাখন মিয়া ও ইলিয়াছ মিয়া গং; অপরপক্ষে রাধাপুর, জামারগাঁও গ্রামের নেতৃত্ব দেন সাবেক মেম্বার আব্দুল বারিক রনি ও ফখরুল ইসলাম গং।

এ ব্যাপারে সাবেক মেম্বার ফখরুল ইসলাম বলেন, আমাদের কয়েকটি গ্রামের মানুষকে কয়েক দিন যাবত কাকুড়া করিমপুরের লোকজন পেলেই মারপিট করছে। গত রাতেও ফয়সল আহমদ নামে একজন ব্যবসায়ীকে তারা মারপিট করে টাকা লুটপাট করে। এ নিয়ে আমরা প্রতিবাদ করেছি। তারা আমাদের গ্রামের কৃষক সাব্বিরকে একা পেয়ে মারপিট করে নিহত করেছে।

কাকুড়া গ্রামের মাখন মিয়া মোবাইল ফোনে বলেন, আমাদের গ্রামের টমটমচালক রাশেদ, সিএনজিচালক মোহাম্মদ আলীকে রাধাপুর ও জামারগাঁও গ্রামের লোকজন মারপিট করেছে। এরপর মঙ্গলবার সকালে আমাদের গ্রামে এসে লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ করে তারা।

নবীগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।