ঢাকা ১০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে মনোযোগ বিএনপির

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • ৬০ বার

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি মনে করছে, গত বছরের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জনগণের সেই আগ্রহ-আকাঙ্ক্ষাকে কীভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জায়গা দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবছেন বিএনপির হাইকমান্ড। তাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে নির্বাচনে বিতর্কিত কাউকে প্রার্থী করতে চায় না দলটি। এ ক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজের অপেক্ষাকৃত তরুণ, সংগঠনের জন্য নিবেদিত, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন—এমন ব্যক্তিদের হাতেই আগামী নেতৃত্বের ঝান্ডা তুলে দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে শতাধিক আসনে তরুণ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

দলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রমতে, অতীতে বারবার নির্বাচন করেছেন কিন্তু এলাকায় অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছেন এমন নেতারা এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকাসহ যাদের ভাবমূর্তি সংকটে রয়েছে, তাদের ব্যাপারে বিএনপি এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেক্ষেত্রে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে হেভিওয়েট হিসেবে পরিচিত দুই ডজনেরও বেশি নেতা দলীয় মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। তবে কোনো কারণে কাউকে কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের মন্ত্রিসভায় রাখা নাও হতে পারে।

বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘দেশ তো এরই মধ্যে নির্বাচনের চ্যানেলে ঢুকে গেছে। সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল, স্বাভাবিকভাবে বিএনপিও তাদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘মনোনয়নের ব্যাপারটি প্রোগ্রেসিভলি (ক্রমান্বয়ে) হবে। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই দলীয় একটা প্রসেস (প্রক্রিয়া) আছে, সেটার মধ্য দিয়ে এটি হবে। আর নির্বাচন কমিশন শিডিউল ঘোষণা করলে তখন এটা চূড়ান্ত হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘আজকের প্রেক্ষাপটে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য, সৎ, জনপ্রিয় এবং বিগত দিনগুলোতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান, সবকিছু মিলিয়ে যথাসময়ে মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হওয়ার কথা এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনও (ইসি) নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এর ফলে রাজনীতির মাঠেও এক ধরনের নির্বাচনী হাওয়া বইছে। কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে মাঠে রয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের মাঠে সক্রিয়। তবে বিএনপি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আসনেই দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেনি। যদিও দলের ভেতরে বিচ্ছিন্নভাবে কেউ কেউ ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে দাবি করছেন। কিন্তু সেসব সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয় বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কারা হতে পারেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে কাজ চলছে। যার অংশ হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে একাধিক জরিপও করা হয়েছে। কাকে কোথায় প্রার্থী করলে জিতে আসতে পারেন, একই সঙ্গে পজিটিভ ইমেজ (ইতিবাচক ভাবমূর্তি) আছে এবং এলাকায় জনপ্রিয়—এগুলো বিবেচনা করে প্রার্থী চূড়ান্তের চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই প্রাথমিক বাছাইয়ের কাজ শেষ করবে দলটি। আর ইসি তপশিল ঘোষণার পরপরই বিএনপি তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবে।

অবশ্য নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় আছেন। যারা মনোনয়ন পেতে পারেন অথবা মনোনয়নপ্রত্যাশী, তারা নিজ নিজ এলাকায় জোরদার সাংগঠনিক কার্যক্রম ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। দল ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফাকেন্দ্রিক প্রচার চালাচ্ছেন। ঢাকাকেন্দ্রিক নেতারা শুক্র-শনিবার এলেই এলাকামুখী হচ্ছেন। আর যাদের ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণ কম, তারা এলাকাতেই রয়েছেন। মানুষের মন জয়ে তারা নিজেদের যুক্ত রেখেছেন নানা কর্মকাণ্ডে। কোনো কোনো প্রার্থী বিভিন্নভাবে দলের হাইকমান্ডের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ লন্ডনেও যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে নিজের জয়ের সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছেন। এ ছাড়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোরও চেষ্টা করছেন।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন হবে বলে মনে করছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় বিভিন্ন ফোরাম এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিতে একাধিকবার এ কথা বলেছেন। নেতাকর্মীদেরও সেভাবে সতর্ক থাকতে বলেছেন। একই সঙ্গে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে থেকে তাদের মন জয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে যে কোনো মূল্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও বদ্ধপরিকর তিনি। তাই দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে ৫ আগস্টের পর অপকর্মে সম্পৃক্ততা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দল ও অঙ্গ সংগঠনের চার হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী দিনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায়ও এ ধারা বজায় রাখা হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। বিতর্কিত কাউকেই তিনি প্রার্থী করতে চান না। তারেক রহমান রাজনীতিতে সত্যিকার অর্থে গুণগত পরিবর্তন চান বলে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন। যুগপৎ আন্দোলনের মিত্ররাও আগামী নির্বাচনে প্রধান শরিক বিএনপি থেকে বিতর্কিত কাউকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সম্প্রতি ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছেন। সেখানে মিত্রদের আগামীতে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। তাছাড়া বিএনপির অঙ্গীকার রয়েছে, যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের নিয়ে একসঙ্গে নির্বাচন ও সরকার গঠন করবে। আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে বিএনপি তাদের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবে। বিএনপির এই যে লক্ষ্য, তা পূরণে আগামী নির্বাচনে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দলের ভেতরে বিবেচিত হচ্ছে। এ কারণে বিএনপি এবং দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের যারা খুবই সম্ভাবনাময়ী ও তরুণ, অন্যদের সঙ্গে তাদেরও গুরুত্ব দেবে দল।

জানা গেছে, যুগপতের শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা করেনি বিএনপি। তবে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি যথাসময়ে মিত্রদের সঙ্গেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা এবং প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবে বিএনপি। অবশ্য আসন বণ্টন চূড়ান্ত না হলেও শরিকদের অনেকেও নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন, গণসংযোগ করছেন। অনেকে ৩১ দফার প্রচারও চালাচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে মনোযোগ বিএনপির

আপডেট টাইম : ১১:২৫:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে বেশ সতর্কতা অবলম্বন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটি মনে করছে, গত বছরের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তরুণ নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ মানুষের এক ধরনের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জনগণের সেই আগ্রহ-আকাঙ্ক্ষাকে কীভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জায়গা দেওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবছেন বিএনপির হাইকমান্ড। তাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে নির্বাচনে বিতর্কিত কাউকে প্রার্থী করতে চায় না দলটি। এ ক্ষেত্রে ক্লিন ইমেজের অপেক্ষাকৃত তরুণ, সংগঠনের জন্য নিবেদিত, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন—এমন ব্যক্তিদের হাতেই আগামী নেতৃত্বের ঝান্ডা তুলে দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে সারা দেশে শতাধিক আসনে তরুণ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন।

দলটির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রমতে, অতীতে বারবার নির্বাচন করেছেন কিন্তু এলাকায় অজনপ্রিয় হয়ে পড়েছেন এমন নেতারা এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকাসহ যাদের ভাবমূর্তি সংকটে রয়েছে, তাদের ব্যাপারে বিএনপি এবার কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেক্ষেত্রে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে হেভিওয়েট হিসেবে পরিচিত দুই ডজনেরও বেশি নেতা দলীয় মনোনয়ন নাও পেতে পারেন। তবে কোনো কারণে কাউকে কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও বিএনপি সরকার গঠন করলে তাদের মন্ত্রিসভায় রাখা নাও হতে পারে।

বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রসঙ্গে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘দেশ তো এরই মধ্যে নির্বাচনের চ্যানেলে ঢুকে গেছে। সবাই প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল, স্বাভাবিকভাবে বিএনপিও তাদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

দলীয় মনোনয়ন প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘মনোনয়নের ব্যাপারটি প্রোগ্রেসিভলি (ক্রমান্বয়ে) হবে। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই দলীয় একটা প্রসেস (প্রক্রিয়া) আছে, সেটার মধ্য দিয়ে এটি হবে। আর নির্বাচন কমিশন শিডিউল ঘোষণা করলে তখন এটা চূড়ান্ত হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু বলেন, ‘আজকের প্রেক্ষাপটে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য, সৎ, জনপ্রিয় এবং বিগত দিনগুলোতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান, সবকিছু মিলিয়ে যথাসময়ে মনোনয়নের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হওয়ার কথা এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনও (ইসি) নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। এর ফলে রাজনীতির মাঠেও এক ধরনের নির্বাচনী হাওয়া বইছে। কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে মাঠে রয়েছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের মাঠে সক্রিয়। তবে বিএনপি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আসনেই দলীয় প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেনি। যদিও দলের ভেতরে বিচ্ছিন্নভাবে কেউ কেউ ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বা সবুজ সংকেত পেয়েছেন বলে দাবি করছেন। কিন্তু সেসব সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয় বলে দলীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কারা হতে পারেন, তা নিয়ে দলের অভ্যন্তরে কাজ চলছে। যার অংশ হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে একাধিক জরিপও করা হয়েছে। কাকে কোথায় প্রার্থী করলে জিতে আসতে পারেন, একই সঙ্গে পজিটিভ ইমেজ (ইতিবাচক ভাবমূর্তি) আছে এবং এলাকায় জনপ্রিয়—এগুলো বিবেচনা করে প্রার্থী চূড়ান্তের চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগেই প্রাথমিক বাছাইয়ের কাজ শেষ করবে দলটি। আর ইসি তপশিল ঘোষণার পরপরই বিএনপি তাদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবে।

অবশ্য নির্বাচন সামনে রেখে এরই মধ্যে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় আছেন। যারা মনোনয়ন পেতে পারেন অথবা মনোনয়নপ্রত্যাশী, তারা নিজ নিজ এলাকায় জোরদার সাংগঠনিক কার্যক্রম ও গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। দল ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফাকেন্দ্রিক প্রচার চালাচ্ছেন। ঢাকাকেন্দ্রিক নেতারা শুক্র-শনিবার এলেই এলাকামুখী হচ্ছেন। আর যাদের ঢাকাকেন্দ্রিক রাজনীতিতে অংশগ্রহণ কম, তারা এলাকাতেই রয়েছেন। মানুষের মন জয়ে তারা নিজেদের যুক্ত রেখেছেন নানা কর্মকাণ্ডে। কোনো কোনো প্রার্থী বিভিন্নভাবে দলের হাইকমান্ডের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ লন্ডনেও যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন পেলে নিজের জয়ের সম্ভাবনার কথা জানাচ্ছেন। এ ছাড়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোরও চেষ্টা করছেন।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামী নির্বাচন অত্যন্ত কঠিন হবে বলে মনে করছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় বিভিন্ন ফোরাম এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিতে একাধিকবার এ কথা বলেছেন। নেতাকর্মীদেরও সেভাবে সতর্ক থাকতে বলেছেন। একই সঙ্গে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানুষের পাশে থেকে তাদের মন জয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে যে কোনো মূল্যে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও বদ্ধপরিকর তিনি। তাই দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে ৫ আগস্টের পর অপকর্মে সম্পৃক্ততা এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দল ও অঙ্গ সংগঠনের চার হাজারের বেশি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ শাস্তিমূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। দলীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী দিনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায়ও এ ধারা বজায় রাখা হবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এ ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। বিতর্কিত কাউকেই তিনি প্রার্থী করতে চান না। তারেক রহমান রাজনীতিতে সত্যিকার অর্থে গুণগত পরিবর্তন চান বলে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা জানিয়েছেন। যুগপৎ আন্দোলনের মিত্ররাও আগামী নির্বাচনে প্রধান শরিক বিএনপি থেকে বিতর্কিত কাউকে প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সম্প্রতি ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করেছেন। সেখানে মিত্রদের আগামীতে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছেন। তাছাড়া বিএনপির অঙ্গীকার রয়েছে, যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের নিয়ে একসঙ্গে নির্বাচন ও সরকার গঠন করবে। আর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে বিএনপি তাদের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবে। বিএনপির এই যে লক্ষ্য, তা পূরণে আগামী নির্বাচনে কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দলের ভেতরে বিবেচিত হচ্ছে। এ কারণে বিএনপি এবং দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের যারা খুবই সম্ভাবনাময়ী ও তরুণ, অন্যদের সঙ্গে তাদেরও গুরুত্ব দেবে দল।

জানা গেছে, যুগপতের শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আলোচনা করেনি বিএনপি। তবে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি যথাসময়ে মিত্রদের সঙ্গেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা এবং প্রার্থিতা চূড়ান্ত করবে বিএনপি। অবশ্য আসন বণ্টন চূড়ান্ত না হলেও শরিকদের অনেকেও নিয়মিত এলাকায় যাচ্ছেন, গণসংযোগ করছেন। অনেকে ৩১ দফার প্রচারও চালাচ্ছেন।