ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

সব জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল: হামাস

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
  • ৯৬ বার

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সশস্ত্র শাখা ইজ্জুদ্দিন আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র বলেছেন, গাজায় আটক সব জিম্মিকে মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইসরায়েল সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চুক্তি না হলে হামাস দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। গতকাল শুক্রবার প্রচারিত এক রেকর্ড করা ভিডিওতে এই অবস্থান জানান মুখপাত্র আবু উবাইদা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ২০ মিনিটের ভিডিও বার্তায় আল ক্বাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা বলেন, হামাস কয়েক মাসে একটি ‘সমন্বিত চুক্তির’ প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে সব জিম্মিকে একসঙ্গে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীরা সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আবু উবাইদা বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পরিষ্কার, অপরাধী নেতানিয়াহু সরকার আসলে জিম্মিদের ব্যাপারে আন্তরিক নয়। কারণ, তারা মূলত সৈনিক।’ তিনি আরও বলেন, হামাস এমন একটি চুক্তির পক্ষে, যেখানে যুদ্ধের ইতি টানা হবে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সরে যাবে এবং অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রবেশের নিশ্চয়তা থাকবে।

আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র জানান, কাতারে চলমান পরোক্ষ আলোচনায় ইসরায়েল যদি পিছিয়ে যায়, তাহলে হামাস আর আংশিক কোনো চুক্তিতে ফিরবে না। এমনকি বর্তমানে আলোচনার টেবিলে থাকা ৬০ দিনের একটি প্রস্তাবও বাতিল হতে পারে, যার আওতায় ১০ জন জিম্মির মুক্তির কথা রয়েছে। বর্তমানে গাজায় হামাসের হাতে ৫০ জন জিম্মি আছে, যাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউসে কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই গাজা থেকে আরও ১০ বন্দি মুক্তি পাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বেশির ভাগ জিম্মিকে ইতিমধ্যে ফিরিয়ে এনেছি। আরও ১০ জন শিগগিরই মুক্তি পাবে বলে আশা করছি এবং আমরা চাই বিষয়টি দ্রুত শেষ হোক।’ তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, যুদ্ধবিরতি এবং বন্দিমুক্তির চুক্তি আসন্ন, কিন্তু এখনো তেমন কিছু বাস্তবায়িত হয়নি। এ বছরের মার্চের পর এই প্রথম প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় আবু উবাইদা আরও বলেন, হামাস যোদ্ধারা ‘একটি দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’ এবং তারা গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যেতে চায়।

এ সময় তিনি আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতাদেরও সমালোচনা করে বলেন, ‘ইসরায়েলের এই গণহত্যার সামনে আপনাদের নীরবতা বিশ্বাসঘাতকতা। আপনারা নিরপরাধ হাজারো মানুষের রক্তপাতের জন্য দায়ী।’

কাতারের রাজধানী দোহায় চলমান আলোচনায় এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। কারণ, ইসরায়েল গাজায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় অটল। এর মধ্যে মোরাগ করিডর ও মাজেন ওজ করিডর উল্লেখযোগ্য।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৫৮ হাজার ৬৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৪ জন। শুধু চলতি বছরের মার্চে যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরায়েল হামলা শুরুর পর থেকে নিহত হয়েছে অন্তত ৭ হাজার ৮৪৩ জন এবং আহত হয়েছে ২৭ হাজার ৯৯৩ জন।

মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে গাজার যে কয়টা হাসপাতাল আংশিকভাবে টিকে আছে, সেগুলোর জরুরি বিভাগে অভাবনীয়সংখ্যক মানুষ আসছে চরম অপুষ্টি, দুর্বলতা ও ক্লান্তি নিয়ে। তাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

সব জিম্মির মুক্তির বিনিময়ে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল: হামাস

আপডেট টাইম : ১১:১৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের সশস্ত্র শাখা ইজ্জুদ্দিন আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র বলেছেন, গাজায় আটক সব জিম্মিকে মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইসরায়েল সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চুক্তি না হলে হামাস দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। গতকাল শুক্রবার প্রচারিত এক রেকর্ড করা ভিডিওতে এই অবস্থান জানান মুখপাত্র আবু উবাইদা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ২০ মিনিটের ভিডিও বার্তায় আল ক্বাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা বলেন, হামাস কয়েক মাসে একটি ‘সমন্বিত চুক্তির’ প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে সব জিম্মিকে একসঙ্গে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রীরা সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আবু উবাইদা বলেন, ‘আমাদের কাছে এখন পরিষ্কার, অপরাধী নেতানিয়াহু সরকার আসলে জিম্মিদের ব্যাপারে আন্তরিক নয়। কারণ, তারা মূলত সৈনিক।’ তিনি আরও বলেন, হামাস এমন একটি চুক্তির পক্ষে, যেখানে যুদ্ধের ইতি টানা হবে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সরে যাবে এবং অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রবেশের নিশ্চয়তা থাকবে।

আল-ক্বাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র জানান, কাতারে চলমান পরোক্ষ আলোচনায় ইসরায়েল যদি পিছিয়ে যায়, তাহলে হামাস আর আংশিক কোনো চুক্তিতে ফিরবে না। এমনকি বর্তমানে আলোচনার টেবিলে থাকা ৬০ দিনের একটি প্রস্তাবও বাতিল হতে পারে, যার আওতায় ১০ জন জিম্মির মুক্তির কথা রয়েছে। বর্তমানে গাজায় হামাসের হাতে ৫০ জন জিম্মি আছে, যাদের মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে গতকাল শুক্রবার হোয়াইট হাউসে কংগ্রেস সদস্যদের সঙ্গে নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই গাজা থেকে আরও ১০ বন্দি মুক্তি পাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা বেশির ভাগ জিম্মিকে ইতিমধ্যে ফিরিয়ে এনেছি। আরও ১০ জন শিগগিরই মুক্তি পাবে বলে আশা করছি এবং আমরা চাই বিষয়টি দ্রুত শেষ হোক।’ তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, যুদ্ধবিরতি এবং বন্দিমুক্তির চুক্তি আসন্ন, কিন্তু এখনো তেমন কিছু বাস্তবায়িত হয়নি। এ বছরের মার্চের পর এই প্রথম প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় আবু উবাইদা আরও বলেন, হামাস যোদ্ধারা ‘একটি দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’ এবং তারা গাজাজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যেতে চায়।

এ সময় তিনি আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতাদেরও সমালোচনা করে বলেন, ‘ইসরায়েলের এই গণহত্যার সামনে আপনাদের নীরবতা বিশ্বাসঘাতকতা। আপনারা নিরপরাধ হাজারো মানুষের রক্তপাতের জন্য দায়ী।’

কাতারের রাজধানী দোহায় চলমান আলোচনায় এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। কারণ, ইসরায়েল গাজায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনায় অটল। এর মধ্যে মোরাগ করিডর ও মাজেন ওজ করিডর উল্লেখযোগ্য।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৫৮ হাজার ৬৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে আরও ১ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৪ জন। শুধু চলতি বছরের মার্চে যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরায়েল হামলা শুরুর পর থেকে নিহত হয়েছে অন্তত ৭ হাজার ৮৪৩ জন এবং আহত হয়েছে ২৭ হাজার ৯৯৩ জন।

মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে গাজার যে কয়টা হাসপাতাল আংশিকভাবে টিকে আছে, সেগুলোর জরুরি বিভাগে অভাবনীয়সংখ্যক মানুষ আসছে চরম অপুষ্টি, দুর্বলতা ও ক্লান্তি নিয়ে। তাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।