ঢাকা ১০:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান ইরান চুক্তিতে অসন্তোষ ইসরায়েলের, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতির ভঙ্গের অভিযোগ একটি আদর্শ সমাজ গঠনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকা অপরিসীম : আমানউল্লাহ আমান চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে চালু হচ্ছে দু’টি করে নতুন বিষয় : মাহদী আমিন দেশে ২৩ লাখ হেক্টর বনভূমি রয়েছে : সংসদে পরিবেশমন্ত্রী বিশ্বের সর্বোচ্চ মিনার বিশিষ্ট মসজিদ ‘জামিউল জাজাইর’ প্রতিদিন লবঙ্গ খেলে মেলে যত উপকার বর্তমান সংসদ সদস্যদের কেউ ঋণখেলাপি নন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুইস ব্যাংকে টাকা জমানোর রেকর্ড বাংলাদেশিদের

গানে গানে কারাগার মাতালেন নোবেল, আবেগে আপ্লুত কারাবন্দীরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫
  • ৮৪ বার

বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো যে নামটি উজ্জ্বল আলোয় উদিত হয়েছিল, সেটি এখন বহুল অংশেই বিতর্ক আর সমালোচনার আবর্তনে ঢাকা। বলছি সারেগামাপা থেকে উঠে আসা গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের কথা। দেশের সংগীত অঙ্গনে রাজকীয় আবির্ভাব ঘটিয়ে তিনি দ্রুতই নজর কাড়েন, তবে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সেই স্থান খোয়ান। সর্বশেষ, নারী নির্যাতনের এক মামলায় তাঁকে যেতে হয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে।

গতকাল (৭ জুন) ঈদুল আজহায় কারাগারে আয়োজিত এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বন্দি হয়েও মঞ্চে ওঠেন এই আলোচিত গায়ক। সেখানে নগর বাউল জেমসের গানসহ নিজের জনপ্রিয় কিছু গান পরিবেশন করে বন্দিদের হৃদয় ছুঁয়ে যান তিনি। তাঁর কণ্ঠে ‘অভিনয়’, ‘ভিগি ভিগি’, ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হয়ে গেলে’—এই গানগুলো শুনে আবেগে ভেসে যান কারাবন্দীরা। কারা প্রাঙ্গণ যেন মুহূর্তে রঙিন হয়ে ওঠে সংগীতের মূর্ছনায়।

ঈদের বিকেল সাড়ে তিনটায় কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বন্দিশালার মাঠে শুরু হয় এই সাংস্কৃতিক আয়োজন। সেখানে অংশ নিয়ে নোবেল শুধু গানই শোনাননি, বরং বন্দিদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসবের আবহও সৃষ্টি করেন। কারাগারের ঈদ অনুষ্ঠান যেন ভিন্নমাত্রা পায় তাঁর পরিবেশনায়। অনেকেই মনে করছেন, এই পরিবেশনা হয়তো নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে নোবেলের ভক্তদের কাছে। হয়তো তাঁরা চান, নোবেল নিজেকে সংশোধন করে আবার ফিরুক রাজার বেশে তার মূল পরিচয়ে।

যদিও সংগীতের এই রঙিন মঞ্চের আড়ালে তার বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগের ছায়া। কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোবেলের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁকে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিও দেখে ভুক্তভোগীর পরিবার তাঁকে শনাক্ত করে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেয়। পরে ১৯ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডেমরা থানা পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে।

সেই ঘটনার জেরে ডেমরা থানায় নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করা হয়। থানা সূত্র জানায়, তদন্ত চলাকালীন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সমালোচিত ও বিতর্কিত অবস্থান সত্ত্বেও ঈদের দিন জেলের অন্দরে সংগীত পরিবেশন করে নোবেল যে অন্য এক মুখ দেখিয়েছেন, তা বলাই যায়। তবে তাঁর ভবিষ্যৎ গানের মঞ্চে ফিরবে কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

গানে গানে কারাগার মাতালেন নোবেল, আবেগে আপ্লুত কারাবন্দীরা

আপডেট টাইম : ০৬:৩০:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫

বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো যে নামটি উজ্জ্বল আলোয় উদিত হয়েছিল, সেটি এখন বহুল অংশেই বিতর্ক আর সমালোচনার আবর্তনে ঢাকা। বলছি সারেগামাপা থেকে উঠে আসা গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের কথা। দেশের সংগীত অঙ্গনে রাজকীয় আবির্ভাব ঘটিয়ে তিনি দ্রুতই নজর কাড়েন, তবে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে সেই স্থান খোয়ান। সর্বশেষ, নারী নির্যাতনের এক মামলায় তাঁকে যেতে হয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে।

গতকাল (৭ জুন) ঈদুল আজহায় কারাগারে আয়োজিত এক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বন্দি হয়েও মঞ্চে ওঠেন এই আলোচিত গায়ক। সেখানে নগর বাউল জেমসের গানসহ নিজের জনপ্রিয় কিছু গান পরিবেশন করে বন্দিদের হৃদয় ছুঁয়ে যান তিনি। তাঁর কণ্ঠে ‘অভিনয়’, ‘ভিগি ভিগি’, ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হয়ে গেলে’—এই গানগুলো শুনে আবেগে ভেসে যান কারাবন্দীরা। কারা প্রাঙ্গণ যেন মুহূর্তে রঙিন হয়ে ওঠে সংগীতের মূর্ছনায়।

ঈদের বিকেল সাড়ে তিনটায় কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বন্দিশালার মাঠে শুরু হয় এই সাংস্কৃতিক আয়োজন। সেখানে অংশ নিয়ে নোবেল শুধু গানই শোনাননি, বরং বন্দিদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসবের আবহও সৃষ্টি করেন। কারাগারের ঈদ অনুষ্ঠান যেন ভিন্নমাত্রা পায় তাঁর পরিবেশনায়। অনেকেই মনে করছেন, এই পরিবেশনা হয়তো নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে নোবেলের ভক্তদের কাছে। হয়তো তাঁরা চান, নোবেল নিজেকে সংশোধন করে আবার ফিরুক রাজার বেশে তার মূল পরিচয়ে।

যদিও সংগীতের এই রঙিন মঞ্চের আড়ালে তার বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগের ছায়া। কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোবেলের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁকে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিও দেখে ভুক্তভোগীর পরিবার তাঁকে শনাক্ত করে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দেয়। পরে ১৯ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডেমরা থানা পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার করে।

সেই ঘটনার জেরে ডেমরা থানায় নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করা হয়। থানা সূত্র জানায়, তদন্ত চলাকালীন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সমালোচিত ও বিতর্কিত অবস্থান সত্ত্বেও ঈদের দিন জেলের অন্দরে সংগীত পরিবেশন করে নোবেল যে অন্য এক মুখ দেখিয়েছেন, তা বলাই যায়। তবে তাঁর ভবিষ্যৎ গানের মঞ্চে ফিরবে কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।