ঢাকা ১২:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তুই মরে যা, আমার কিছু যায় আসে না, ইকরাকে বলতেন আলভী

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • ০ বার

আত্মহত্যার আগে স্ত্রী ইকরাকে ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভী বলেছিল, ‘তুই মরে যা, আত্মহত্যা কর। মরে গেলে কিছু যায় আসে না।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে বিষয়টি শুনানিতে জানান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আলভী। জামিনের বিরোধিতা করে আদালতকে এ কথা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ।

হারুন অর রশীদ আসামির জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘এটা একটা আলোচিত মামলা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। মার্চ, এপ্রিল মাসে ঘটনাটি টক অব দ্যা কান্ট্রিতে ছিল। অনেকে আন্দোলন, মানববন্ধন করেছে আসামিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য। তাদের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে। ঘটনার দুই বছর আগে থেকে আসামি কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়, নির্যাতন করে।’

তিনি বলেন, ‘বাচ্চার দিকে তাকিয়ে সব সয়ে সংসার করছিল। তাকে পরকীয়া থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। আলভী ইকরাকে বলেন, তুই মরে যা, আত্মহত্যা কর। মরে গেলে কিছু যায় আসে না। আকুতি, মিনতি করেও আসামির মন গলাতে পারেনি। তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। এ কারণে তাকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।’

এ আইনজীবী বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর গত ৩ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে কটা আবেদন করেন, আসামি দেশে আসার পর ইমিগ্রেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কতটা শক্তিশালী, প্রভাবশালী হলে ইমিগ্রেশন পার হতে পারে। কারা তাকে দেশে ঢুকতে সাহায্য করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা হবে। জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রার্থণা করছি।’

এদিকে অভিনেতা আলভীর পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘ঘটনা গত ২৮ ফেব্রুয়ারির। আর আসামি নেপালে চলে যায় ২৫ ফেব্রুয়ারি। দেশে না থাকায় জামিন নিতে পারেনি। তার পাঁচ বছরের বাচ্চা রয়েছে। টেক কেয়ার করার মত কেউ নেই। আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা। তার মা জামিনে আছেন। এ আসামিকে জামিন দিলে পলাতক হবে না।’

তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘মেয়েরা বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি আসে। স্বামীর দায়িত্ব তার হেফাজত করা। তা না করে পরকীয়া প্রেম করে তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রার্থণা করছি।’

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আলভীর মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে তার স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

ঘটনার দিনই মামলা করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।

গত ৪ জুন ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ’র আদালতে যাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

স্ত্রীর মৃত্যুর সময় বিদেশে থাকা যাহের আলভীর আইনজীবী উচ্চ আদালতে আর্জি জানান, তিনি দেশে ফিরলে যেন গ্রেপ্তার বা হেনস্তা না করা হয়। আদালত যাহের আলভীর পক্ষেই আদেশ দেন। এ আদেশের পর ৫ জুন দেশে ফেরেন যাহের আলভী

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তুই মরে যা, আমার কিছু যায় আসে না, ইকরাকে বলতেন আলভী

আপডেট টাইম : ১০:২৪:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

আত্মহত্যার আগে স্ত্রী ইকরাকে ছোট পর্দার অভিনেতা যাহের আলভী বলেছিল, ‘তুই মরে যা, আত্মহত্যা কর। মরে গেলে কিছু যায় আসে না।’ রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে বিষয়টি শুনানিতে জানান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আলভী। জামিনের বিরোধিতা করে আদালতকে এ কথা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুন অর রশীদ।

হারুন অর রশীদ আসামির জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘এটা একটা আলোচিত মামলা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। মার্চ, এপ্রিল মাসে ঘটনাটি টক অব দ্যা কান্ট্রিতে ছিল। অনেকে আন্দোলন, মানববন্ধন করেছে আসামিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য। তাদের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে। ঘটনার দুই বছর আগে থেকে আসামি কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ শুরু হয়, নির্যাতন করে।’

তিনি বলেন, ‘বাচ্চার দিকে তাকিয়ে সব সয়ে সংসার করছিল। তাকে পরকীয়া থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। আলভী ইকরাকে বলেন, তুই মরে যা, আত্মহত্যা কর। মরে গেলে কিছু যায় আসে না। আকুতি, মিনতি করেও আসামির মন গলাতে পারেনি। তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। এ কারণে তাকে পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।’

এ আইনজীবী বলেন, ‘মামলা দায়েরের পর গত ৩ মার্চ তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে কটা আবেদন করেন, আসামি দেশে আসার পর ইমিগ্রেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। কতটা শক্তিশালী, প্রভাবশালী হলে ইমিগ্রেশন পার হতে পারে। কারা তাকে দেশে ঢুকতে সাহায্য করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা হবে। জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রার্থণা করছি।’

এদিকে অভিনেতা আলভীর পক্ষে শুনানি করেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ‘ঘটনা গত ২৮ ফেব্রুয়ারির। আর আসামি নেপালে চলে যায় ২৫ ফেব্রুয়ারি। দেশে না থাকায় জামিন নিতে পারেনি। তার পাঁচ বছরের বাচ্চা রয়েছে। টেক কেয়ার করার মত কেউ নেই। আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা। তার মা জামিনে আছেন। এ আসামিকে জামিন দিলে পলাতক হবে না।’

তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, ‘মেয়েরা বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি আসে। স্বামীর দায়িত্ব তার হেফাজত করা। তা না করে পরকীয়া প্রেম করে তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রার্থণা করছি।’

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আলভীর মিরপুর ডিওএইচএসের বাসা থেকে তার স্ত্রী আফরা ইভনাথ ইকরাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। বাসার মালিকসহ স্বজনরা মিলে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট করাসহ বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

ঘটনার দিনই মামলা করেন ইকরার বাবা কবির হায়াত খান। দীর্ঘদিনের ‘পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণেই’ ইকরা আত্মহত্যা করতে ‘বাধ্য হয়েছেন’ বলে মামলায় অভিযোগ করেন তিনি।

গত ৪ জুন ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ’র আদালতে যাহের আলভীর মা নাসরিন সুলতানা আত্মসমর্পণ করে জামিন পান।

স্ত্রীর মৃত্যুর সময় বিদেশে থাকা যাহের আলভীর আইনজীবী উচ্চ আদালতে আর্জি জানান, তিনি দেশে ফিরলে যেন গ্রেপ্তার বা হেনস্তা না করা হয়। আদালত যাহের আলভীর পক্ষেই আদেশ দেন। এ আদেশের পর ৫ জুন দেশে ফেরেন যাহের আলভী