ঢাকা ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
মদনে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার মিঠামইনে ‘তাজুল’ ইস্যুতে প্রবাসীর স্ট্যাটাস ভাইরাল, এলাকায় তোলপাড় ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে উন্নীতকরণের কাজ চলমান পুলিশে বড় নিয়োগ, কোন জেলায় পদসংখ্যা কত জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২ আসামির ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন ইহুদিদের জীবনে কিয়ামতের প্রলয়! তেল আবিব-জেরুজালেম জ্বালিয়ে দেওয়ার শপথ হিজবুল্লাহর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদে বাণিজ্য ঘাটতি ৮ মাসে দুই লাখ কোটি টাকা অতিক্রম শ্রমিক নিয়োগে ‘জিরো কস্ট’ নীতি, মালয়েশিয়ার বাজারে ফিরছে বাংলাদেশ

বামপন্থী থেকে আ.লীগের শীর্ষ নেতা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৬
  • ৩১৭ বার

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে স্থান পেয়েছেন চার বামপন্থী নেতা। দলটির ২০তম জাতীয় সম্মেলনে ঘোষিত কমিটিতে তিন বামপন্থী নেতাকে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয়েছে। তারা হলেন মতিয়া চৌধুরী, নুরুল ইসলাম নাহিদ ও আব্দুল মান্নান খান। আর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন ডা. দীপু মনি। তারা সবাই বামপন্থী নেতা হিসেবে বেশ পরিচিত।

বর্তমান সরকারের কৃষিমন্ত্রী এবং দলের সদ্য পুনর্নির্বাচিত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি। ১৯৬৩-৬৪ সালে ছাত্র ইউনিয়ন থেকে রোকেয়া হলের ভিপি এবং ১৯৬৪ সালে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৬৫ সালে মতিয়া চৌধুরী ও রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে ছাত্র ইউনিয়ন। তবে মূল অংশ থেকে যায় মতিয়ার নেতৃত্বে। তার নামেই ছাত্র ইউনিয়নে একটি গ্রুপের নাম হয়েছিল ‘মতিয়া গ্রুপ’।

১৯৭৯ সালে যখন আবদুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের মধ্যমণি, মতিয়া তখন ন্যাপ ছেড়ে তার সতীর্থদের নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৮৬ সালে দলের কৃষিবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া মতিয়া চৌধুরী বর্তমানে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা।

১৯৯৬ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে তিন দফা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিটিতেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ মেয়াদে তিনি কৃষি, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৯ সাল থেকে আরো দুই দফায় মন্ত্রী হিসেবে টানা দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদেরও রাজনৈতিক জীবনের সূচনা বামপন্থী দলের হাত ধরে। বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাহিদ ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। তা ছাড়া এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) অন্যতম সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ সময় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন নাহিদ। এ ছাড়া তিনি পার্টির আদর্শগত শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে নুরুল ইসলাম নাহিদ সিবিপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

পরবর্তীকালে ১৯৯৪ সালে পার্টির অন্যান্য সহকর্মীকে নিয়ে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এরপর তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক হন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হলেন।

বামপন্থী দলের মাধ্যমেই রাজনীতি শুরু আওয়ামী লীগের আরেকজন নতুন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মান্নান খানের। ১৯৮০ সালের শেষের দিকে ছাত্র ইউনিয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ পদ থেকে বিদায় নেন। পরবর্তী সময়ে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। এরপর দলটির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।

পেশায় আইনজীবী আবদুল মান্নান ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গত সরকারের আমলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান তিনি। এরপর দলে তাকে সক্রিয় দেখা যায়নি। তবে দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে ফের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ডা. দীপু মনি। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু বামপন্থী ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নে। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি মহিলা সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর তিন দফায় তিনি দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মদনে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

বামপন্থী থেকে আ.লীগের শীর্ষ নেতা

আপডেট টাইম : ১২:২৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৬

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে স্থান পেয়েছেন চার বামপন্থী নেতা। দলটির ২০তম জাতীয় সম্মেলনে ঘোষিত কমিটিতে তিন বামপন্থী নেতাকে সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য করা হয়েছে। তারা হলেন মতিয়া চৌধুরী, নুরুল ইসলাম নাহিদ ও আব্দুল মান্নান খান। আর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে স্থান পেয়েছেন ডা. দীপু মনি। তারা সবাই বামপন্থী নেতা হিসেবে বেশ পরিচিত।

বর্তমান সরকারের কৃষিমন্ত্রী এবং দলের সদ্য পুনর্নির্বাচিত সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি। ১৯৬৩-৬৪ সালে ছাত্র ইউনিয়ন থেকে রোকেয়া হলের ভিপি এবং ১৯৬৪ সালে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৬৫ সালে মতিয়া চৌধুরী ও রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে ছাত্র ইউনিয়ন। তবে মূল অংশ থেকে যায় মতিয়ার নেতৃত্বে। তার নামেই ছাত্র ইউনিয়নে একটি গ্রুপের নাম হয়েছিল ‘মতিয়া গ্রুপ’।

১৯৭৯ সালে যখন আবদুর রাজ্জাক আওয়ামী লীগের মধ্যমণি, মতিয়া তখন ন্যাপ ছেড়ে তার সতীর্থদের নিয়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ১৯৮৬ সালে দলের কৃষিবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া মতিয়া চৌধুরী বর্তমানে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতা।

১৯৯৬ সাল থেকে পরবর্তী সময়ে তিন দফা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিটিতেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ মেয়াদে তিনি কৃষি, খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৯ সাল থেকে আরো দুই দফায় মন্ত্রী হিসেবে টানা দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদেরও রাজনৈতিক জীবনের সূচনা বামপন্থী দলের হাত ধরে। বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাহিদ ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। তা ছাড়া এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৯৩ সালে তিনি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) অন্যতম সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ সময় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন নাহিদ। এ ছাড়া তিনি পার্টির আদর্শগত শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে নুরুল ইসলাম নাহিদ সিবিপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

পরবর্তীকালে ১৯৯৪ সালে পার্টির অন্যান্য সহকর্মীকে নিয়ে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। এরপর তিনি দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক হন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। সর্বশেষ দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হলেন।

বামপন্থী দলের মাধ্যমেই রাজনীতি শুরু আওয়ামী লীগের আরেকজন নতুন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুল মান্নান খানের। ১৯৮০ সালের শেষের দিকে ছাত্র ইউনিয়ের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮২ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ পদ থেকে বিদায় নেন। পরবর্তী সময়ে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। এরপর দলটির দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।

পেশায় আইনজীবী আবদুল মান্নান ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে গত সরকারের আমলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান তিনি। এরপর দলে তাকে সক্রিয় দেখা যায়নি। তবে দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে তিনি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন।

আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে ফের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ডা. দীপু মনি। তার রাজনৈতিক জীবন শুরু বামপন্থী ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নে। আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি মহিলা সম্পাদকের দায়িত্ব পান। এরপর তিন দফায় তিনি দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।