টানা তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ। দীর্ঘ এই সময়ে রুশ আগ্রাসন ও ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় হয়েছে হাজারও মানুষের প্রাণহানি। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে সামরিক ও বেসামরিক সকল অবকাঠামো। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে হামলা ও উত্তেজনা আরও জোরদার হয়েছে। এমন অবস্থায় এক বিস্ফোরক মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সরাসরি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে সতর্ক করে বলেছেন, পুতিন “আগুন নিয়ে খেলছেন”। চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেই এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় তিন বছর পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে চলছে ব্যাপক রক্তপাত, ধ্বংস ও মানবিক বিপর্যয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা আরও তীব্র হয়েছে, বিশেষ করে রাতভর বিমান হামলার ঘটনা ঘটছে বিভিন্ন শহরে। এই প্রেক্ষাপটেই মঙ্গলবার (২৭ মে) ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ এক পোস্টে পুতিনকে হুঁশিয়ার করে এই বক্তব্য দেন।
ট্রাম্প বলেন, “পুতিন বুঝতে পারছেন না যে আমি না থাকলে রাশিয়ার সঙ্গে ইতোমধ্যেই অনেক ভয়াবহ কিছু ঘটে যেত।” তিনি আরও যোগ করেন, “তিনি আগুন নিয়ে খেলছেন।” এর আগে রোববার ট্রাম্প বলেছিলেন, “পুতিন পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছেন।” কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া তিন রাত ধরে ইউক্রেনে টানা বিমান হামলা চালাচ্ছে, যা আগে কখনো এত নিয়মিতভাবে ঘটেনি। ট্রাম্প তার বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “আমি সব সময় পুতিনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখেছি, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ওর মধ্যে কিছু একটা ঘটেছে।” ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অনেকের নজর কাড়লেও, রাশিয়ার পক্ষ থেকে তা গুরুত্ব সহকারে নেওয়া হয়নি।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘আবেগতাড়িত’ বলে বর্ণনা করে বলেন, “তিনি হয়তো নিজের আবেগের মাত্রাতিরিক্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।” এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে রাশিয়া এই মন্তব্যকে বিশেষ আমলে নিচ্ছে না। তবে পশ্চিমা পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউক্রেনীয় বাহিনীকে চাপ দিতে রাশিয়া এখন আরও কঠোর হামলা কৌশল নিচ্ছে, যার ফলশ্রুতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতারাও প্রকাশ্যে কঠিন বার্তা দিচ্ছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইউক্রেনে রুশ হামলার মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে অনেক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হচ্ছে, এবং সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। পশ্চিমা দেশগুলোর মতে, এটি একটি কৌশলগত চাপের অংশ, যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারের ওপর প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছে মস্কো।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের মতো প্রভাবশালী রাজনীতিকের প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কের উত্তাপ আরও বাড়াবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও ট্রাম্প বর্তমানে প্রেসিডেন্ট পদে নেই, তবু তার মন্তব্য মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। একইসাথে এটি ইউক্রেন যুদ্ধের জটিলতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের আরেকটি বহিঃপ্রকাশ।
Reporter Name 

























