ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) বিমান অভিযানে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহত হয়েছেন ১১৫ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২১৬ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য। তবেএই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ অনেক মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন। গত দেড় বছরে টানা চলতে থাকা এই সংঘর্ষে মানবিক বিপর্যয় এক ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
এই হামলা কেন, কখন এবং কী ঘটল? ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের এক আকস্মিক হামলার পর থেকেই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। ওই হামলায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অন্তত ১,২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়। সেই ঘটনার প্রতিশোধ ও জিম্মিদের মুক্ত করতেই ইসরায়েল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও ১৯ জানুয়ারি একবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এসেছিল, কিন্তু তা স্থায়ী হয়নি। ১৮ মার্চ থেকে আবারও পূর্ণমাত্রায় শুরু হয় হামলা, যার ফলে গত দুই মাসেই গাজায় নিহত হয়েছেন ২,৯৮৫ জন ফিলিস্তিনি এবং আহত হয়েছেন ৮,১৭৩ জন।
এই একদিনের হামলার প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে, শুধু সামরিক লক্ষ্যে নয়, বেসামরিক এলাকাও এই বোমাবর্ষণের শিকার হচ্ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৫৩,১১৯ জন এবং আহত হয়েছেন ১,২০,২১৪ জন ফিলিস্তিনি, যার মধ্যে ৫৬ শতাংশই নারী ও শিশু। এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে। এখনও ধারণা করা হচ্ছে, হামাসের হাতে জিম্মি থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন জীবিত রয়েছেন, যাদের মুক্ত করতে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আইডিএফ।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ একাধিকবার ইসরায়েলকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, এমনকি ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, হামাসকে পুরোপুরি নিঃশেষ না করা এবং সব জিম্মিকে উদ্ধার না করা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি, আল-জাজিরা
Reporter Name 

























