ঢাকা ০৬:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

টাইম ম্যাগাজিনে হিলারি ক্লিনটনের কলামে ড. ইউনূসকে নিয়ে প্রশংসা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:৪১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫
  • ৭৮ বার

বিশ্বজুড়ে পাঠকপ্রিয় মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক সংখ্যায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে মুখবন্ধ লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্টলেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ওই কলামে হিলারি ড. ইউনূসের নেতৃত্ব, মানবিক উদ্যোগ ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

হিলারি ক্লিনটন লিখেছেন, গত বছর ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এক অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের কর্তৃত্ববাদী প্রধানমন্ত্রীর পতনের পর একজন সুপরিচিত নেতা জাতিকে গণতন্ত্রের দিকে পরিচালিত করার জন্য এগিয়ে আসেন, তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কয়েক দশক আগে ড. ইউনূস বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি লাখ লাখ দরিদ্র ব্যক্তিকে (যাদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই ছিলেন নারী) ঋণ প্রদান করেন, যেন তারা ব্যবসা গড়ে তুলতে পারে এবং তাদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে পারে। ইউনূস পিছিয়ে পড়া নারীদেরকে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এবং তাদের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

সাবেক এই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, ইউনূসের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল যখন তিনি তৎকালীন গভর্নর বিল ক্লিনটন এবং আমাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের কর্মসূচি স্থাপনে সহায়তা করার জন্য আরকানসাসে ভ্রমণ করেছিলেন। তারপর থেকে আমি বিশ্বের যেখানেই ভ্রমণ করেছি, আমি তার কাজের অসাধারণ প্রভাব দেখেছি। অনেক জীবন পরিবর্তিত হয়েছে, সম্প্রদায়গুলোর উন্নতি হয়েছে এবং তাদের আশার পুনর্জন্ম হয়েছে।

হিলারির মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশকে নিপীড়নের ছায়া থেকে বের করে আনছেন। তিনি বাংলাদেশে মানবাধিকার পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করছেন এবং একটি ন্যায়সঙ্গত ও মুক্ত সমাজের ভিত্তি স্থাপনে এগিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা পালিয়ে যান। পরদিন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করার পরে শিক্ষার্থীদের দাবির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করেন। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি।

সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ জন মুসলিমের মধ্যে একজন হিসেবে বিবেচিত। এ বছর টাইম ম্যাগাজিন তার নাম বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ জন ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

টাইম ম্যাগাজিনে হিলারি ক্লিনটনের কলামে ড. ইউনূসকে নিয়ে প্রশংসা

আপডেট টাইম : ০৩:৪১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৫

বিশ্বজুড়ে পাঠকপ্রিয় মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক সংখ্যায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে মুখবন্ধ লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্টলেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ওই কলামে হিলারি ড. ইউনূসের নেতৃত্ব, মানবিক উদ্যোগ ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

হিলারি ক্লিনটন লিখেছেন, গত বছর ছাত্র-নেতৃত্বাধীন এক অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের কর্তৃত্ববাদী প্রধানমন্ত্রীর পতনের পর একজন সুপরিচিত নেতা জাতিকে গণতন্ত্রের দিকে পরিচালিত করার জন্য এগিয়ে আসেন, তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস। ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে কয়েক দশক আগে ড. ইউনূস বাংলাদেশে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি লাখ লাখ দরিদ্র ব্যক্তিকে (যাদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই ছিলেন নারী) ঋণ প্রদান করেন, যেন তারা ব্যবসা গড়ে তুলতে পারে এবং তাদের পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে পারে। ইউনূস পিছিয়ে পড়া নারীদেরকে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে এবং তাদের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

সাবেক এই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, ইউনূসের সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়েছিল যখন তিনি তৎকালীন গভর্নর বিল ক্লিনটন এবং আমাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই ধরনের কর্মসূচি স্থাপনে সহায়তা করার জন্য আরকানসাসে ভ্রমণ করেছিলেন। তারপর থেকে আমি বিশ্বের যেখানেই ভ্রমণ করেছি, আমি তার কাজের অসাধারণ প্রভাব দেখেছি। অনেক জীবন পরিবর্তিত হয়েছে, সম্প্রদায়গুলোর উন্নতি হয়েছে এবং তাদের আশার পুনর্জন্ম হয়েছে।

হিলারির মতে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশকে নিপীড়নের ছায়া থেকে বের করে আনছেন। তিনি বাংলাদেশে মানবাধিকার পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করছেন এবং একটি ন্যায়সঙ্গত ও মুক্ত সমাজের ভিত্তি স্থাপনে এগিয়ে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা পালিয়ে যান। পরদিন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করার পরে শিক্ষার্থীদের দাবির ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত করেন। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি।

সম্প্রতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ জন মুসলিমের মধ্যে একজন হিসেবে বিবেচিত। এ বছর টাইম ম্যাগাজিন তার নাম বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ জন ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।