ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে। গতকাল রবিবার উপত্যকাটির বিভিন্ন জায়গায় নেতানিয়াহু বাহিনীর হামলায় অন্তত ৫১ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যে তালিকায় রয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল বারহুমও।
এক বিবৃতিতে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত উপত্যকাটিতে মৃতের সংখ্যা পঞ্চাশ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। যাদের মধ্যে ১৭ হাজারের বেশি শিশু।
এর আগে রবিবার রাতে গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই হামলাতে ইসমাইল বারহুম ও অপর একজন নিহত হন। হামাস ইসমাইল বারহুমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, ইসমাইল নাসের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সেখানেই তাকে হত্যা করা হয়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সন্ধ্যায় দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘সফলভাবে জ্যেষ্ঠ হামাস কর্মকর্তা ইসমাইল বারহুমকে নাসের হাসপাতালে হত্যা করেছে।’
ইসমাইল ছিলেন গাজার হামাস সরকারের নতুন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইসাম দা’আলিসের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। যাকে কয়েকদিন আগে হত্যা করা হয়।
এদিকে গাজার চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, সোমবার ভোর থেকে ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ১২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতের এই পরিসংখ্যানে খান ইউনিসে তাঁবুতে ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলায় নিহত ছয়জন এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরের মাইন এলাকায় একটি বাড়িতে সৈন্যদের হামলায় নিহত চারজনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এছাড়া মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় দুই নারীও নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রবেশ ও অতর্কিত হামলা চালিয়ে ১ হাজার ২০০ জনকে হত্যা ও ২৫১ জনকে জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাসের যোদ্ধারা। এই জিম্মিদের উদ্ধারে এবং হামলার জবাব দিতে সেদিন থেকেই গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে আইডিএফ।