ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিম আমদানিতে শুল্কছাড় চাচ্ছে আমদানিকারকরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৩
  • ১৪৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এবার ডিম আমদানিতে শুল্কছাড় চাচ্ছেন আমদানিকারকরা। আমদানির অনুমতি পাওয়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যমান ৩৩ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করলে ভোক্তা পর্যায়ে ডিমের দাম ১১ টাকার মধ্যেই রাখা সম্ভব। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানির প্রয়োজন হলেও দেশীয় খামারীদের সুরক্ষা দিতে হবে। এক্ষেত্রে অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক রাখার পরামর্শ তাদের।

দেশে গত ১০ বছরে ডিমের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন হয় মোট ২ হাজার ৩৩৮ কোটি ডিম। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তবুও অস্থির ডিমের বাজার। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সাময়িকভাবে ডিম আমদানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে এক মাসেও প্রত্যাশিত ডিম আসেনি। অস্থিরতাও কাটেনি বাজারে। যদিও এরই মধ্যে বেশ কটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ডিম আমদানির এলসিও খুলেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কম সময়ে ডিম আনা যায়; কিন্তু কমপ্লায়েন্স ইস্যু বা ডিম ও খামার নিরাপদ হওয়ার শর্ত থাকায় তা কঠিন।

ডিম আমদানীকারক নিজাম উদ্দিন বলেন, “আশা করছি, এই সপ্তাহে একজনের আমিদানী ডিম ঢোকার কথা আছে, যদি ওনার ঢুকে যায় তাহলে আমরা ৪-৫ জনে এক জায়গা থেকেই নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

স্বাভাবিক সময়ে ভারতে প্রতিটি ডিমের দাম ৪ থেকে সাড়ে ৪ রুপী। তবে পুজার কারণে দাম কিছুটা বাড়তি। এ অবস্থায় আমদানির ওপর ৩৩ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার চান ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সাফটা চুক্তিতে যেভাবে ভারতে ইলিশ যায়, একইভাবে ডিম আমদানি হলে ভোক্তারা ১১ টাকার মধ্যে ডিম পাবেন। এমনকি আরও কম দামে পেতেও পারেন ডিম।

ডিম আমদানীকারক মো. জাকির হোসেন বলেন, “এক কন্টেইনারে ২ লাখ ৪১ হাজার ৯২০ পিস থাকবে ডিম। আমরা এনে এক থেকে দু’জন বাইকারকে দিয়ে দিব। ওই বাইকারের হাত থেকে খুচরা মার্কেটে যাবে। প্রতিপিস ১০.২০ থেকে ১০.৫০ টাকা পর্যন্ত আমাদের কেনা পড়বে। আশা করছি, আমরা ১০.৮০ টাকায় বিক্রি করতে পারবো।”

আমদানীকারক নিজাম উদ্দিন বলেন, “সরকার ১২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে, তবে আমরা চেষ্টা করবো ১১ টাকার মধ্যেই ডিমটা ভোক্তার পর্যায় দেয়ার জন্য।”

এদিকে, নিত্যপণ্য হিসেবে ডিম আমদানির পক্ষে মত অর্থনীতিবিদদের। তারা বলছেন, দেশীয় খামারীদেরও সুরক্ষা দিতে হবে। তাই আমদানিতে শুল্ক কমালেও তা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ রাখার পরামর্শ তাদের।

অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “যারা কৃষক, তাদেরকে ২০-২৫ শতাংশ সুরক্ষা দিব আমরা। তাহলে যখনই আমার পণ্যের দাম ভারতের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি হয়ে যাবে তখন সেই পণ্য ভারত থেকে চলে আসবে।”

ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিম আমদানিতে শুল্কছাড় চাচ্ছে আমদানিকারকরা

আপডেট টাইম : ০৬:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৩

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এবার ডিম আমদানিতে শুল্কছাড় চাচ্ছেন আমদানিকারকরা। আমদানির অনুমতি পাওয়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যমান ৩৩ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করলে ভোক্তা পর্যায়ে ডিমের দাম ১১ টাকার মধ্যেই রাখা সম্ভব। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আমদানির প্রয়োজন হলেও দেশীয় খামারীদের সুরক্ষা দিতে হবে। এক্ষেত্রে অন্তত ২০ থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক রাখার পরামর্শ তাদের।

দেশে গত ১০ বছরে ডিমের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন হয় মোট ২ হাজার ৩৩৮ কোটি ডিম। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তবুও অস্থির ডিমের বাজার। এমন পরিস্থিতিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সাময়িকভাবে ডিম আমদানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে এক মাসেও প্রত্যাশিত ডিম আসেনি। অস্থিরতাও কাটেনি বাজারে। যদিও এরই মধ্যে বেশ কটি প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ডিম আমদানির এলসিও খুলেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে কম সময়ে ডিম আনা যায়; কিন্তু কমপ্লায়েন্স ইস্যু বা ডিম ও খামার নিরাপদ হওয়ার শর্ত থাকায় তা কঠিন।

ডিম আমদানীকারক নিজাম উদ্দিন বলেন, “আশা করছি, এই সপ্তাহে একজনের আমিদানী ডিম ঢোকার কথা আছে, যদি ওনার ঢুকে যায় তাহলে আমরা ৪-৫ জনে এক জায়গা থেকেই নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

স্বাভাবিক সময়ে ভারতে প্রতিটি ডিমের দাম ৪ থেকে সাড়ে ৪ রুপী। তবে পুজার কারণে দাম কিছুটা বাড়তি। এ অবস্থায় আমদানির ওপর ৩৩ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার চান ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সাফটা চুক্তিতে যেভাবে ভারতে ইলিশ যায়, একইভাবে ডিম আমদানি হলে ভোক্তারা ১১ টাকার মধ্যে ডিম পাবেন। এমনকি আরও কম দামে পেতেও পারেন ডিম।

ডিম আমদানীকারক মো. জাকির হোসেন বলেন, “এক কন্টেইনারে ২ লাখ ৪১ হাজার ৯২০ পিস থাকবে ডিম। আমরা এনে এক থেকে দু’জন বাইকারকে দিয়ে দিব। ওই বাইকারের হাত থেকে খুচরা মার্কেটে যাবে। প্রতিপিস ১০.২০ থেকে ১০.৫০ টাকা পর্যন্ত আমাদের কেনা পড়বে। আশা করছি, আমরা ১০.৮০ টাকায় বিক্রি করতে পারবো।”

আমদানীকারক নিজাম উদ্দিন বলেন, “সরকার ১২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে, তবে আমরা চেষ্টা করবো ১১ টাকার মধ্যেই ডিমটা ভোক্তার পর্যায় দেয়ার জন্য।”

এদিকে, নিত্যপণ্য হিসেবে ডিম আমদানির পক্ষে মত অর্থনীতিবিদদের। তারা বলছেন, দেশীয় খামারীদেরও সুরক্ষা দিতে হবে। তাই আমদানিতে শুল্ক কমালেও তা ২০ থেকে ২৫ শতাংশ রাখার পরামর্শ তাদের।

অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “যারা কৃষক, তাদেরকে ২০-২৫ শতাংশ সুরক্ষা দিব আমরা। তাহলে যখনই আমার পণ্যের দাম ভারতের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি হয়ে যাবে তখন সেই পণ্য ভারত থেকে চলে আসবে।”

ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত ১৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৫ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।