ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
‘দেশে যদি তেলই না থাকে, তাহলে লংমার্চের গাড়ি কি তেলে চলে না এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হতে পারে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্যাংকে পুরোনো মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ চায় সংসদীয় কমিটি প্রধানমন্ত্রীকে দুই বিষয়ে সতর্ক থাকতে বললেন মির্জা আব্বাস ১১ দলীয় ঐক্যের বিশাল সমাবেশ জনগণের প্রয়োজনে যেকোনো সময় আন্দোলনের ডাক: ডা. শফিকুর রহমান ইতিহাসের সেরা ২ নারী গোয়েন্দা ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ-পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র, লক্ষ্য কী দক্ষিণখানে অস্ত্র-মাদকসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৭ সদস্য গ্রেপ্তার

রাশিয়াকে কড়া বার্তা দিতে চলেছে ইউরোপ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:২১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০২৩
  • ১৫৯ বার

ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রায় ৪৭টি দেশের শীর্ষ নেতারা বৃহস্পতিবার মলদোভায় মিলিত হয়ে কৌশলগত হুমকি নিয়ে আলোচনা করবেন৷ মলদোভা ও ইউক্রেনের প্রতি তাদের সংহতির বার্তা মস্কোর জন্য স্বস্তিকর হবে না৷

গত বছর ইউক্রেনের উপর হামলার ‘অজুহাত’ হিসেবে রাশিয়া নিজের সীমানার দোরগোড়ায় পশ্চিমা বিশ্বের বেড়ে চলা প্রভাব তুলে ধরেছিল৷ বিশেষ করে সামরিক জোট ন্যাটোর থাবা থমকে দিতে ইউক্রেনের উপর কবজা করা জরুরি বলে যুক্তি দিয়েছিল রাশিয়ার নেতৃত্ব৷ অথচ বাস্তবে ইউক্রেনসহ রাশিয়ার সীমান্তের কাছের একাধিক দেশ বেশ কয়েক বছর ধরে ইইউ ও ন্যাটোর কাছে ‘অবহেলিত’ থেকেছে৷ এই দুই জোটে যোগদানের কোনো বাস্তব সম্ভাবনার আশ্বাস পায়নি ইউক্রেন, জর্জিয়া, মলদোভা ইত্যাদি দেশ৷

ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলা সেই বাস্তবতা বদলে দিচ্ছে৷ বহু বছরের ‘অবহেলা’ ঝেড়ে ফেলে পশ্চিমা বিশ্ব এবার সত্যি রাশিয়ার থাবা থেকে প্রতিবেশীদের মুক্ত রাখতে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে৷ মলদোভার রাজধানী চিসিনাউ-এর উপকণ্ঠে বৃহস্পতিবার ইউরোপের প্রায় ৪৭টি দেশের শীর্ষ নেতা মিলিত হয়ে রাশিয়াকে সেই বার্তা দিতে চলেছেন৷ ইউরোপীয় রাজনৈতিক সংঘ – ইপিসি’র দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যথেষ্ট সময় না থাকলেও এর মাধ্যমে ইউরোপীয় সমন্বয় প্রক্রিয়ায় মলদোভার প্রতি সমর্থন যথেষ্ট স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ শীর্ষ সম্মেলনের আগেই ইইউ নেতারা ছোট ভিডিও পোস্ট করছেন৷ সেগুলিতে হ্যাশট্যাগ হিসেবে ‘মলদোভা নট অ্যালোন’ ব্যবহার করা হচ্ছে৷ জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস এই সম্মেলনকে রাশিয়ার ‘উপনিশেবাদ’র বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন৷

প্রতিবেশী ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলা এবং মলদোভার নিজস্ব ভূখণ্ডে রাশিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রয়াস সে দেশের দুশ্চিন্তার কারণ৷ এমনকি ট্রান্সনিস্ট্রিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার স্বঘোষিত ‘শান্তি রক্ষী বাহিনী’-ও মোতায়েন রয়েছে৷ পশ্চিমা বিশ্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্ডু নিজের দেশ ও সরকারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ইউরোপের আরও সহায়তার আবেদন করে চলেছেন৷ তার আশা, ইপিসি’র শীর্ষ সম্মেলন সেই সংহতির বার্তা দেবে৷ মাত্র ২৬ লাখ জনসংখ্যার এই রাষ্ট্রে এ প্রথম এত বড় আকারের শীর্ষ সম্মেলন মস্কোর কাছে অস্বস্তিকর হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাঠামোর বাইরের এই বৃহত্তর রাষ্ট্রজোট সাধারণ কৌশলগত হুমকি নিয়ে আলোচনার মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে৷

রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে ইউক্রেন ও মলদোভা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে৷ রাশিয়ার হামলা না ঘটলে সেই স্বীকৃতি পেতে আরও বিলম্ব হতো, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ তবে ইইউ-তে পথে দুই দেশের সামনে এখনো অনেক বাধা রয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই৷ মলদোভায় ইপিসি সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদোমির জেলেনস্কিও সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেন৷ জেলেনস্কি দ্রুত ইইউ-তে যোগদানের আশা করলেও দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পর্কে হতাশা প্রকাশ করেছেন৷

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

‘দেশে যদি তেলই না থাকে, তাহলে লংমার্চের গাড়ি কি তেলে চলে না এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

রাশিয়াকে কড়া বার্তা দিতে চলেছে ইউরোপ

আপডেট টাইম : ১০:২১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০২৩

ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রায় ৪৭টি দেশের শীর্ষ নেতারা বৃহস্পতিবার মলদোভায় মিলিত হয়ে কৌশলগত হুমকি নিয়ে আলোচনা করবেন৷ মলদোভা ও ইউক্রেনের প্রতি তাদের সংহতির বার্তা মস্কোর জন্য স্বস্তিকর হবে না৷

গত বছর ইউক্রেনের উপর হামলার ‘অজুহাত’ হিসেবে রাশিয়া নিজের সীমানার দোরগোড়ায় পশ্চিমা বিশ্বের বেড়ে চলা প্রভাব তুলে ধরেছিল৷ বিশেষ করে সামরিক জোট ন্যাটোর থাবা থমকে দিতে ইউক্রেনের উপর কবজা করা জরুরি বলে যুক্তি দিয়েছিল রাশিয়ার নেতৃত্ব৷ অথচ বাস্তবে ইউক্রেনসহ রাশিয়ার সীমান্তের কাছের একাধিক দেশ বেশ কয়েক বছর ধরে ইইউ ও ন্যাটোর কাছে ‘অবহেলিত’ থেকেছে৷ এই দুই জোটে যোগদানের কোনো বাস্তব সম্ভাবনার আশ্বাস পায়নি ইউক্রেন, জর্জিয়া, মলদোভা ইত্যাদি দেশ৷

ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলা সেই বাস্তবতা বদলে দিচ্ছে৷ বহু বছরের ‘অবহেলা’ ঝেড়ে ফেলে পশ্চিমা বিশ্ব এবার সত্যি রাশিয়ার থাবা থেকে প্রতিবেশীদের মুক্ত রাখতে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে৷ মলদোভার রাজধানী চিসিনাউ-এর উপকণ্ঠে বৃহস্পতিবার ইউরোপের প্রায় ৪৭টি দেশের শীর্ষ নেতা মিলিত হয়ে রাশিয়াকে সেই বার্তা দিতে চলেছেন৷ ইউরোপীয় রাজনৈতিক সংঘ – ইপিসি’র দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য যথেষ্ট সময় না থাকলেও এর মাধ্যমে ইউরোপীয় সমন্বয় প্রক্রিয়ায় মলদোভার প্রতি সমর্থন যথেষ্ট স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ শীর্ষ সম্মেলনের আগেই ইইউ নেতারা ছোট ভিডিও পোস্ট করছেন৷ সেগুলিতে হ্যাশট্যাগ হিসেবে ‘মলদোভা নট অ্যালোন’ ব্যবহার করা হচ্ছে৷ জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস এই সম্মেলনকে রাশিয়ার ‘উপনিশেবাদ’র বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন৷

প্রতিবেশী ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলা এবং মলদোভার নিজস্ব ভূখণ্ডে রাশিয়ার বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রয়াস সে দেশের দুশ্চিন্তার কারণ৷ এমনকি ট্রান্সনিস্ট্রিয়া অঞ্চলে রাশিয়ার স্বঘোষিত ‘শান্তি রক্ষী বাহিনী’-ও মোতায়েন রয়েছে৷ পশ্চিমা বিশ্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মলদোভার প্রেসিডেন্ট মাইয়া সান্ডু নিজের দেশ ও সরকারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ইউরোপের আরও সহায়তার আবেদন করে চলেছেন৷ তার আশা, ইপিসি’র শীর্ষ সম্মেলন সেই সংহতির বার্তা দেবে৷ মাত্র ২৬ লাখ জনসংখ্যার এই রাষ্ট্রে এ প্রথম এত বড় আকারের শীর্ষ সম্মেলন মস্কোর কাছে অস্বস্তিকর হবে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে৷ ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাঠামোর বাইরের এই বৃহত্তর রাষ্ট্রজোট সাধারণ কৌশলগত হুমকি নিয়ে আলোচনার মঞ্চ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে৷

রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে ইউক্রেন ও মলদোভা ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানের প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেয়েছে৷ রাশিয়ার হামলা না ঘটলে সেই স্বীকৃতি পেতে আরও বিলম্ব হতো, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷ তবে ইইউ-তে পথে দুই দেশের সামনে এখনো অনেক বাধা রয়েছে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই৷ মলদোভায় ইপিসি সম্মেলনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদোমির জেলেনস্কিও সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেন৷ জেলেনস্কি দ্রুত ইইউ-তে যোগদানের আশা করলেও দীর্ঘ প্রক্রিয়া সম্পর্কে হতাশা প্রকাশ করেছেন৷