ঢাকা ১১:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ সাবেক এমপি ও শিল্পপতি সেলিমা আহমাদ মারা গেছেন জিম লুকে গ্ল্যামার ও ফিটনেসে দুর্দান্ত কোয়েল মল্লিক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও একটি ‘জটিল অধ্যায়ের’ সূচনা : ইরান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে হান্নান মাসউদের বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে লাল গালিচা সংবর্ধনা, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির

আল্লাহ ক্ষমাকারীকে পছন্দ করেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৭:০৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মে ২০২২
  • ২১০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এক মাওলানা সাহেব এক মুসলিম উকিলের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কথায় কথায় উকিল এমন কিছু বলে ফেলেছিলেন যেখান থেকে বোঝা যায় মাওলানা সাহেবের ধর্মীয় চিন্তার সঙ্গে তার চিন্তায় অনেক তফাৎ।

মাওলানা সাহেব খেপে গিয়ে উকিলকে বেয়াদব, ভণ্ড ইত্যাদি বলে ফেললেন। উকিল সাহেব একদম চুপচাপ সব শুনলেন। মাওলানা সাহেব সব বলে যখন নিস্তার হলেন, উকিল সাহেব হেসে বললেন, আর কিছু বলার আছে?

উকিলের মুখ থেকে একথা শুনে মাওলানা সাহেব একদম নরম হয়ে গেলেন। তার ক্রোধ থেমে গেল। উকিলের একটা ঠাণ্ডা বাক্য মাওলানার রাগের আগুন নিভিয়ে দিল। এরপর যে আলাপ-আলোচনা হলো, তা সম্পূর্ণ ভিন্নরকম ছিল। আলাপের শুরু যেমন খুশি খুশি মুখে ছিল, আলাপের শেষটাও তা-ই হলো।

আমাদের সামাজিক জীবনে অধিকাংশ ঝগড়াই ছোটখাটো কথা থেকে শুরু হয়। কারও একটি কথা শুনে আমাদের দিলে ধাক্কা লাগে, ভেতরে প্রতিশোধের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে, এবং আমরা ওই লোকের মোকাবেলায় নেমে পড়ি।

কিন্তু বাস্তবতা হলো ক্ষমা করে দেওয়া সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ। কারও অনর্থক কথা শুনেও কেউ যদি চুপ থাকে, তাহলে তার এমন এক কিসিমের খুশি মিলে, যেই খুশি সবরকমের আনন্দ ছাপিয়ে যায়। অন্যদিক থেকে সেই শত্রুকেও একধরনের চিন্তায় ফেলে দেওয়া হয়, সে সারাক্ষণ মনের ভেতর খচখচানি নিয়ে কাটায়। ‘কাজটা আসলেই ঠিক করলাম কিনা’— এই ভাবনা তাকে ঘিরে রাখে।

বেশিরভাগ মানুষই মনে করে— ‘ইট মারলে তার জবাবে পাথর মারতে হয়’। যদি তুমি এমনটি না করো, তাহলে সে বড্ড বাড়া বেড়ে যাবে, ভবিষ্যতে এরচেয়ে বেশি খারাবি করবে। কিন্তু এই ধারণা একদম ভিত্তিহীন।

ইটের জবাবে পাথর না মারলে যদি শত্রুর বাড়াবাড়ির মাত্রা বেড়ে যায়, তাহলে পাথর মারলে তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি বাড়বে। তখন তার মধ্যে একধরনের প্রতিশোধের স্পৃহা জেগে উঠবে। সে প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত হয়ে আগের থেকে অনেক অনেক বেশি খারাবি করতে শুরু করবে।

প্রকৃত সত্য হলো মাফ করে দেওয়া বা দেখেও না দেখার ভাণ করা খুবই ভালো গুণ। ক্ষমাকারী ব্যক্তি নিজে প্রতিশোধ না নিয়ে বিচারের দায়িত্ব আল্লাহর কাছে হাওয়ালা করে দেন। তিনি প্রবৃত্তির অনুসরণের বদলে বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করেন। নিঃসন্দেহে এই ধরনের আচরণ মানুষকে বেশি প্রভাবিত করে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আল্লাহ ক্ষমাকারীকে পছন্দ করেন

আপডেট টাইম : ০৭:০৪:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মে ২০২২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এক মাওলানা সাহেব এক মুসলিম উকিলের সঙ্গে কথা বলছিলেন। কথায় কথায় উকিল এমন কিছু বলে ফেলেছিলেন যেখান থেকে বোঝা যায় মাওলানা সাহেবের ধর্মীয় চিন্তার সঙ্গে তার চিন্তায় অনেক তফাৎ।

মাওলানা সাহেব খেপে গিয়ে উকিলকে বেয়াদব, ভণ্ড ইত্যাদি বলে ফেললেন। উকিল সাহেব একদম চুপচাপ সব শুনলেন। মাওলানা সাহেব সব বলে যখন নিস্তার হলেন, উকিল সাহেব হেসে বললেন, আর কিছু বলার আছে?

উকিলের মুখ থেকে একথা শুনে মাওলানা সাহেব একদম নরম হয়ে গেলেন। তার ক্রোধ থেমে গেল। উকিলের একটা ঠাণ্ডা বাক্য মাওলানার রাগের আগুন নিভিয়ে দিল। এরপর যে আলাপ-আলোচনা হলো, তা সম্পূর্ণ ভিন্নরকম ছিল। আলাপের শুরু যেমন খুশি খুশি মুখে ছিল, আলাপের শেষটাও তা-ই হলো।

আমাদের সামাজিক জীবনে অধিকাংশ ঝগড়াই ছোটখাটো কথা থেকে শুরু হয়। কারও একটি কথা শুনে আমাদের দিলে ধাক্কা লাগে, ভেতরে প্রতিশোধের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে, এবং আমরা ওই লোকের মোকাবেলায় নেমে পড়ি।

কিন্তু বাস্তবতা হলো ক্ষমা করে দেওয়া সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ। কারও অনর্থক কথা শুনেও কেউ যদি চুপ থাকে, তাহলে তার এমন এক কিসিমের খুশি মিলে, যেই খুশি সবরকমের আনন্দ ছাপিয়ে যায়। অন্যদিক থেকে সেই শত্রুকেও একধরনের চিন্তায় ফেলে দেওয়া হয়, সে সারাক্ষণ মনের ভেতর খচখচানি নিয়ে কাটায়। ‘কাজটা আসলেই ঠিক করলাম কিনা’— এই ভাবনা তাকে ঘিরে রাখে।

বেশিরভাগ মানুষই মনে করে— ‘ইট মারলে তার জবাবে পাথর মারতে হয়’। যদি তুমি এমনটি না করো, তাহলে সে বড্ড বাড়া বেড়ে যাবে, ভবিষ্যতে এরচেয়ে বেশি খারাবি করবে। কিন্তু এই ধারণা একদম ভিত্তিহীন।

ইটের জবাবে পাথর না মারলে যদি শত্রুর বাড়াবাড়ির মাত্রা বেড়ে যায়, তাহলে পাথর মারলে তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি বাড়বে। তখন তার মধ্যে একধরনের প্রতিশোধের স্পৃহা জেগে উঠবে। সে প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত হয়ে আগের থেকে অনেক অনেক বেশি খারাবি করতে শুরু করবে।

প্রকৃত সত্য হলো মাফ করে দেওয়া বা দেখেও না দেখার ভাণ করা খুবই ভালো গুণ। ক্ষমাকারী ব্যক্তি নিজে প্রতিশোধ না নিয়ে বিচারের দায়িত্ব আল্লাহর কাছে হাওয়ালা করে দেন। তিনি প্রবৃত্তির অনুসরণের বদলে বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করেন। নিঃসন্দেহে এই ধরনের আচরণ মানুষকে বেশি প্রভাবিত করে।