ঢাকা ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
‘পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে মানসম্মত উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি’ শাহজালালে বিমানের জরুরি অবতরণের পর ছুটে গেলেন মন্ত্রী এআই দিয়ে জামায়াত-শিবির সরকারবিরোধী যে অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, তা আ. লীগও করেনি দেশের ৫০৩টি উপজেলার উন্নয়নে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে : এলজিআরডি মন্ত্রী আঙুলের কালির দাগ শুকানোর আগেই সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ৪ সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ ৭ হাজারের বেশি আটক: মোদি সরকারকে তীব্র নিন্দা জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টিসহ বিরোধীদের আগামী বছরের রমজান শুরু হতে পারে ৮ ফেব্রুয়ারি ক্যামেরার ফ্রেমে পরিযায়ী পাখির চোখজুড়ানো দৃশ্য পতনের দ্বারপ্রান্তে মোদির সরকার বিদ্যুৎ বিভাগের ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার সহায়তা

রাসুল (সা.) কি রসিকতা করা পছন্দ করতেন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:২৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৬
  • ৫৩৮ বার

মানবজীবনে আনন্দের অংশ হিসেবে বিনোদন, গল্প, চুটকি, কৌতুক, রসিকতা অনস্বীকার্য। কমবেশি প্রত্যেকেই রসগল্প করে থাকেন। তাই রসগল্পে শুধুমাত্র আত্মীয়-স্বজনের জন্য নয়, তা হতে পারে সবার সঙ্গে। ইসলামেও রসগল্প, কথ্যবিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে, তবে তা হতে হবে অবশ্যই সীমার মধ্যে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পাপ বা বিশৃঙ্খলার কোনো সম্ভাবনা না থাকে।

ছোট-বড় সবার মধ্যেই রসিকতা হতে পারে। সেক্ষেত্রে, ছোটদের রসিকতা যেন বড়দের সঙ্গে আদবের গণ্ডি অতিক্রম না করে। আর বড়দের রসিকতায় যেন ছোটদের প্রতি আদর-স্নেহের আবহ থাকে। উদাহরণ স্বরূপ জনৈক সাহাবির ঘটনা উল্লেখ করা যায়। একদিন রাসুল

(সা.) তাঁবুর ভেতর অবস্থানকালে জনৈক সাহাবি এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন। রাসুল (সা.) তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে বললেন, কিন্তু তাঁবুটি ছিল বেশ ছোট। যে কারণে সাহাবি রসিকতা করে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পুরো শরীরটাই প্রবেশ করাব, না আংশিক?’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘পুরোটাই।’ (আবু দাউদ)

হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, একবার এক ব্যক্তি এসে রাসুল (সা.) এর কাছে একটা বাহনজন্তু চাইলেন। রাসুল (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, আমরা তোমাকে একটা উটনীর বাচ্চা দেব।’ লোকটি বলল,‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি উটনীর বাচ্চা দিয়ে কী করব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আরে উটেরা সব উটনীদেরই বাচ্চা নয় কি?’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

আমাদের রসিকতা অনেক সময় এতোটা লাগামহীন হয় যে হাসতে হাসতে কখনো মিথ্যা কথা বলি, কিংবা কাউকে আহত করি। এসবই কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা করো না এবং তার সঙ্গে পরিহাস করো না।’ অনেকে আবার শরীরে আঘাত করেও রসিকতা করেন। এমনটি রসিকতার নামে জুলুম। অহেতুক অন্যকে বিরক্ত করাও রসিকতা হতে পারে না। এমনটি করা কোনো সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে খোসগল্প, রসিকতায় মিথ্যা ও অনৈসলামিক বিষয়াদি পরিহার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।-প্রিয়.কম
লেখক : ফয়জুল আল আমীন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

‘পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে মানসম্মত উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি’

রাসুল (সা.) কি রসিকতা করা পছন্দ করতেন

আপডেট টাইম : ০৯:২৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৬

মানবজীবনে আনন্দের অংশ হিসেবে বিনোদন, গল্প, চুটকি, কৌতুক, রসিকতা অনস্বীকার্য। কমবেশি প্রত্যেকেই রসগল্প করে থাকেন। তাই রসগল্পে শুধুমাত্র আত্মীয়-স্বজনের জন্য নয়, তা হতে পারে সবার সঙ্গে। ইসলামেও রসগল্প, কথ্যবিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে, তবে তা হতে হবে অবশ্যই সীমার মধ্যে। খেয়াল রাখতে হবে যেন পাপ বা বিশৃঙ্খলার কোনো সম্ভাবনা না থাকে।

ছোট-বড় সবার মধ্যেই রসিকতা হতে পারে। সেক্ষেত্রে, ছোটদের রসিকতা যেন বড়দের সঙ্গে আদবের গণ্ডি অতিক্রম না করে। আর বড়দের রসিকতায় যেন ছোটদের প্রতি আদর-স্নেহের আবহ থাকে। উদাহরণ স্বরূপ জনৈক সাহাবির ঘটনা উল্লেখ করা যায়। একদিন রাসুল

(সা.) তাঁবুর ভেতর অবস্থানকালে জনৈক সাহাবি এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাইলেন। রাসুল (সা.) তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে বললেন, কিন্তু তাঁবুটি ছিল বেশ ছোট। যে কারণে সাহাবি রসিকতা করে বললেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পুরো শরীরটাই প্রবেশ করাব, না আংশিক?’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘পুরোটাই।’ (আবু দাউদ)

হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, একবার এক ব্যক্তি এসে রাসুল (সা.) এর কাছে একটা বাহনজন্তু চাইলেন। রাসুল (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ, আমরা তোমাকে একটা উটনীর বাচ্চা দেব।’ লোকটি বলল,‘ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি উটনীর বাচ্চা দিয়ে কী করব?’ রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘আরে উটেরা সব উটনীদেরই বাচ্চা নয় কি?’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

আমাদের রসিকতা অনেক সময় এতোটা লাগামহীন হয় যে হাসতে হাসতে কখনো মিথ্যা কথা বলি, কিংবা কাউকে আহত করি। এসবই কবিরা গুনাহ বা মহাপাপ। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা করো না এবং তার সঙ্গে পরিহাস করো না।’ অনেকে আবার শরীরে আঘাত করেও রসিকতা করেন। এমনটি রসিকতার নামে জুলুম। অহেতুক অন্যকে বিরক্ত করাও রসিকতা হতে পারে না। এমনটি করা কোনো সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ নয়। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে খোসগল্প, রসিকতায় মিথ্যা ও অনৈসলামিক বিষয়াদি পরিহার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।-প্রিয়.কম
লেখক : ফয়জুল আল আমীন