ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরকারের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন ফের লঘুচাপ সৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া নিয়ে নতুন বার্তা অধিদপ্তরের চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী সংসদে ‘ব্যক্তিগত মন্তব্য’ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী আদমদীঘিতে কাঁচা মরিচের দামে ‘সেঞ্চুরি’, স্বস্তিতে কৃষক ব্রয়লার মুরগি খাওয়া কতটা নিরাপদ ‘ব্রয়লার মুরগি’ মন্তব্য নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদলের নাছির দেশের যেসব অঞ্চলে রাত ১টার মধ্যে ঝড়ের আভাস

অস্ট্রেলিয়াকে টানা তিন ম্যাচে হারিয়ে, মোস্তাফিজের ম্যাজিকে সিরিজ জয়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ অগাস্ট ২০২১
  • ২৬৮ বার
হাওর বার্তা ডেস্কঃ টানা তিন ম্যাচে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশের। ১২৭ রানের মামুলি স্কোর নিয়েও ১০ রানে জয় পেল টাইগাররা। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২ ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল টাইগাররা।

আজ শুক্রবার (৬ আগস্ট) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১২৭ রান করে বাংলাদেশ।

১২৮ রানের টার্গেটে নেমে শুরু থেকেই ভুগছিল অজি দুই ওপেনার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে অজি অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েডকে সাজঘরে পাঠালেন নাসুম আহমেদ। ৫ বলে মাত্র ১ রান আসে ওয়েডের ব্যাট থেকে।

৮ রানে প্রথম উইকেট হারিয়ে অজি শিবিরের হাল ধরেছিলেন মিচেল মার্শ। ৪৫ বলে ফিফটি তুলেছেন। তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি। এরপর মার্শকে আর বেশি এগোতে দেননি শরিফুল। ফিফটির পর মাত্র ১ রান যোগ করেই ফেরেন সাজঘরে।

শেষ দুই ওভারে অজিদের প্রয়োজন ছিল ২৩। ১৯তম ওভারে মোস্তাফিজ মাত্র ১ রান দিয়ে ম্যাচ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন। শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ২২। কিন্তু ১১৭ রানের বেশি করতে পারেনি অজিরা। বাংলাদেশ জিতেছে ১০ রানে। টানা তিন ম্যাচ জিতে প্রথমবারের মতো যে কোনো ফরম্যাটের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ।

ইতিহাস গড়া এই জয়ে অনন্য ভূমিকা রাখেন মোস্তাফিজ। চার ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়েছেন কাটার মাষ্টার। সর্বোচ্চ ২ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়ে স্বস্তি এনে দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। প্রথম সাফল্য এনে দিয়েছিলেন নাসুম আহমেদ।

এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসে ভিন্ন কৌশল নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই টার্নারকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড। প্রথম ওভারে উঠে মাত্র ২ রান। আগের দুই ম্যাচের মত এদিনও ওপেনিংয়ে ব্যর্থ বাংলাদেশ। মাত্র ১ রান করে ফেরেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। পরের ওভারে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হন সৌম্য সরকার। বাংলাদেশ ৩ রানে হারায় ২ উইকেট।

এরপর সাকিবের সঙ্গে দলের হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ। মিচেল মার্শের করা ৮ম ওভারে উঠে ১৫ রান। ঠিক পরের ওভারের প্রথম বলেই সাকিবকে হারায় বাংলাদেশ। জাম্পাকে তুলে মারতে গিয়ে লং অফে ধরা পড়েন তিনি। ১৭ বলে ৪টি বাউন্ডারিতে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সাজান তার ২৬ রানের প্রতিশ্রুতিশীল ইনিংসটি।

সাকিব আউট হওয়ার পর ক্রিজে এসেই মারমুখি ভঙ্গিতে ব্যাট করেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। রান আউটে কাটা পড়েন তরুণ এই অলরাউন্ডার। ১৩ বলে ১৯ রান করেন আফিফ।

আফিফের বিদায়ের পর রান বাড়ানোর চাপ বাড়ছিল শামীমের ওপর। হ্যাজলউডের বলে তুলে মারতে চেয়েছিলেন, কিন্তু টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়ায় মিড উইকেটে ক্যাচ দেন শামীম। ধরা পড়েন ম্যাকডার্মটের হাতে। তার ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ৩ রান।

আফিফের মতো রান-আউট হন নুরুলও। ড্যান ক্রিস্টিয়ানের বলে ড্রাইভ করেন মাহমুদউল্লাহ। রান নিতে গিয়ে আসার আগেই হ্যানরিকসের থ্রো আঘাত হানে উইকেটে। মাত্র ৫ বলে ১১ রান করেই থেমে যায় সোহানের ইনিংস।

শেষের দিকে চার ওভারে দুর্দান্ত ফিফটি করে মাঝারি স্কোর গড়েন টাইগার দলপতি। টি-টোয়েন্টিতে নিজের পঞ্চম ফিফটি ও অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম অর্ধশতক হাঁকান মাহমুদউল্লাহ। ৫৩ বলে ৪ চারে ৫২ রান করে এলিসের বলে বোল্ড হন রিয়াদ। এলিস তার পরের বলে মোস্তাফিজকে মার্শের ক্যাচ বানিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন। পরের বলে মেহেদি উড়িয়ে মারলে বাউন্ডারি লাইনে অ্যাগারের ক্যাচ হন। এতে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাট্রিকের স্বাদ পান নাথান এলিস। দুইটি করে উইকেট নেন হ্যাজলউড-জাম্পা।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর কারণে খুব বড় সংগ্রহ করতে পারেননি স্বাগতিক বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকাত আতঙ্কে পর্যটকশূন্য কিশোরগঞ্জের হাওর ভেঙে পড়েছে পর্যটন অর্থনীতি, বিপাকে হাজারো মানুষের জীবিকা

অস্ট্রেলিয়াকে টানা তিন ম্যাচে হারিয়ে, মোস্তাফিজের ম্যাজিকে সিরিজ জয়

আপডেট টাইম : ১১:২৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ অগাস্ট ২০২১
হাওর বার্তা ডেস্কঃ টানা তিন ম্যাচে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশের। ১২৭ রানের মামুলি স্কোর নিয়েও ১০ রানে জয় পেল টাইগাররা। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ২ ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করল টাইগাররা।

আজ শুক্রবার (৬ আগস্ট) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ১২৭ রান করে বাংলাদেশ।

১২৮ রানের টার্গেটে নেমে শুরু থেকেই ভুগছিল অজি দুই ওপেনার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে অজি অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েডকে সাজঘরে পাঠালেন নাসুম আহমেদ। ৫ বলে মাত্র ১ রান আসে ওয়েডের ব্যাট থেকে।

৮ রানে প্রথম উইকেট হারিয়ে অজি শিবিরের হাল ধরেছিলেন মিচেল মার্শ। ৪৫ বলে ফিফটি তুলেছেন। তার ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি। এরপর মার্শকে আর বেশি এগোতে দেননি শরিফুল। ফিফটির পর মাত্র ১ রান যোগ করেই ফেরেন সাজঘরে।

শেষ দুই ওভারে অজিদের প্রয়োজন ছিল ২৩। ১৯তম ওভারে মোস্তাফিজ মাত্র ১ রান দিয়ে ম্যাচ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন। শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ২২। কিন্তু ১১৭ রানের বেশি করতে পারেনি অজিরা। বাংলাদেশ জিতেছে ১০ রানে। টানা তিন ম্যাচ জিতে প্রথমবারের মতো যে কোনো ফরম্যাটের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ।

ইতিহাস গড়া এই জয়ে অনন্য ভূমিকা রাখেন মোস্তাফিজ। চার ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়েছেন কাটার মাষ্টার। সর্বোচ্চ ২ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল ইসলাম। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট নিয়ে স্বস্তি এনে দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। প্রথম সাফল্য এনে দিয়েছিলেন নাসুম আহমেদ।

এর আগে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসে ভিন্ন কৌশল নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই টার্নারকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড। প্রথম ওভারে উঠে মাত্র ২ রান। আগের দুই ম্যাচের মত এদিনও ওপেনিংয়ে ব্যর্থ বাংলাদেশ। মাত্র ১ রান করে ফেরেন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। পরের ওভারে এলবিডব্লিউ হয়ে আউট হন সৌম্য সরকার। বাংলাদেশ ৩ রানে হারায় ২ উইকেট।

এরপর সাকিবের সঙ্গে দলের হাল ধরেন মাহমুদউল্লাহ। মিচেল মার্শের করা ৮ম ওভারে উঠে ১৫ রান। ঠিক পরের ওভারের প্রথম বলেই সাকিবকে হারায় বাংলাদেশ। জাম্পাকে তুলে মারতে গিয়ে লং অফে ধরা পড়েন তিনি। ১৭ বলে ৪টি বাউন্ডারিতে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সাজান তার ২৬ রানের প্রতিশ্রুতিশীল ইনিংসটি।

সাকিব আউট হওয়ার পর ক্রিজে এসেই মারমুখি ভঙ্গিতে ব্যাট করেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। বেশিক্ষণ টিকতে পারলেন না। রান আউটে কাটা পড়েন তরুণ এই অলরাউন্ডার। ১৩ বলে ১৯ রান করেন আফিফ।

আফিফের বিদায়ের পর রান বাড়ানোর চাপ বাড়ছিল শামীমের ওপর। হ্যাজলউডের বলে তুলে মারতে চেয়েছিলেন, কিন্তু টাইমিংয়ে গড়বড় হওয়ায় মিড উইকেটে ক্যাচ দেন শামীম। ধরা পড়েন ম্যাকডার্মটের হাতে। তার ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ৩ রান।

আফিফের মতো রান-আউট হন নুরুলও। ড্যান ক্রিস্টিয়ানের বলে ড্রাইভ করেন মাহমুদউল্লাহ। রান নিতে গিয়ে আসার আগেই হ্যানরিকসের থ্রো আঘাত হানে উইকেটে। মাত্র ৫ বলে ১১ রান করেই থেমে যায় সোহানের ইনিংস।

শেষের দিকে চার ওভারে দুর্দান্ত ফিফটি করে মাঝারি স্কোর গড়েন টাইগার দলপতি। টি-টোয়েন্টিতে নিজের পঞ্চম ফিফটি ও অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম অর্ধশতক হাঁকান মাহমুদউল্লাহ। ৫৩ বলে ৪ চারে ৫২ রান করে এলিসের বলে বোল্ড হন রিয়াদ। এলিস তার পরের বলে মোস্তাফিজকে মার্শের ক্যাচ বানিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন। পরের বলে মেহেদি উড়িয়ে মারলে বাউন্ডারি লাইনে অ্যাগারের ক্যাচ হন। এতে অভিষেক ম্যাচেই হ্যাট্রিকের স্বাদ পান নাথান এলিস। দুইটি করে উইকেট নেন হ্যাজলউড-জাম্পা।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোর কারণে খুব বড় সংগ্রহ করতে পারেননি স্বাগতিক বাংলাদেশ। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৭ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।