ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

যেসব আমলে কোরবানির সমান সওয়াব

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জুলাই ২০২১
  • ২৯০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কোরবানি তো তারাই দেবে, যাদের সামর্থ্য রয়েছে। যাদের রয়েছে কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার মতো নেসাব ও সম্পদ, তাদের ওপরই কোরবানি ওয়াজিব।

কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানি, ইচ্ছা করলে অসামর্থ্যবানরাও কোরবানির সওয়াব হাসিল করতে পারে। তারাও পারে আল্লাহর অফুরন্ত রহমত কুড়াতে, এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে। এটি শুধু কোরবানির ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রেও।

জান্নাত কেবল ধনীদের জন্য নয়, বরং এতে সবার প্রবেশাধিকার রয়েছে। তবে শর্ত হলো— প্রত্যেকে তার অবস্থা অনুযায়ী দায়িত্ব আদায় করা। যারা গরিব, তারা যদি আপন অবস্থার ওপর শোকর ও সবর করে, এবং অন্যান্য ফরজ দায়িত্বগুলো আদায় করে, তা হলে সে ধনীদের ৫০০ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। নবীজি (সা.) হাদিসে এমনটিই বলেছেন।

এমনিতে তো প্রত্যেক মুসলমানই একটি কোরবানির সওয়াব অবশ্যই পাবে। জীবনে সে কোরবানি করুক বা না করুক। কারণ আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) তার প্রিয় উম্মতের পক্ষ থেকেও কোরবানি করেছেন। এর দ্বারা উম্মতের ওয়াজিব দায়িত্ব পূর্ণ হবে না; কিন্তু সওয়াব প্রাপ্ত হবে।

এটি ছাড়াও আসন্ন কোরবানিতে দরিদ্ররাও দুভাবে কোরবানির সওয়াব কামাই করতে পারে।

১. কোরবানি করার নিয়ত ও আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। হায়, আমি যদি পারতাম, তা হলে আমিও কোরবানি করতাম। বহু মানুষ কাল কেয়ামতের মাঠে বহু নেকি নিয়ে ওঠবে শুধু নিয়তের কারণে। অথচ এ আমল সে জীবনেও করেনি এবং এটা করার সামর্থ্য তার ছিল না।

এ জন্য নবীজি (সা.) বলেছেন— ‘মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়েও সরস।’

২. যারা কোরবানির সামর্থ্য রাখে না, তারা যদি ঈদের দিন ক্ষৌর কর্ম করে। অর্থাৎ জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর ক্ষৌরকার্য না করে ঈদের নামাজ পড়ে এসে ক্ষৌরকর্ম করে।

একটি হাদিসে এমন ব্যক্তিকে একটি কোরবানির সওয়াব দেওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

আমর বিন আস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন: আমাকে আজহার দিনকে ঈদ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এটিকে আল্লাহতায়ালা সমগ্র উম্মতের জন্য ঈদ করেছেন।

জনৈক ব্যক্তি বললেন, আমার কাছে ধার করা দুধের বকরি ছাড়া আর কিছু না নেই, আমি কি কোরবানি করবে? নবীজি বললেন— না। তুমি তোমার চুল, নখ, গোঁফ কাটবে, এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এর দ্বারা তুমি আল্লাহর কাছে পূর্ণ কোরবানির সওয়াব প্রাপ্ত হবে। (সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং ৪৩৬৫, আবু দাউদ, ২৭৮৯)

কাজেই, যাদের এখনও জরুরি ক্ষৌরকর্মের প্রয়োজন রয়েছে, তারা জিলহজের চাঁদ ওঠার আগেই তা সেরে নিন। প্রয়োজন না থাকলে করার দরকার নেই। এর পর ঈদের দিনের অপেক্ষা করুন। সেদিন এই ক্ষৌরকার্য সম্পন্ন করুন। ইনশাআল্লাহ একটি পূর্ণ কোরবানির সওয়াব পাবেন।

জরুরি মাসয়ালা

ক্ষৌরকার্য ঈদের প্রথম দিন সম্ভব না হলে ২য়, ৩য় দিনও করা যাবে। সকালে সম্ভব না হলে বিকাল বা রাতেও করা যাবে।

যারা কোরবানি করবেন, তারাও ঈদের দিন ক্ষৌরকার্য করা মুস্তাহাব। (সহীহ মুসলিম: ১৯৭৭)

ক্ষৌরকর্মের মধ্যে দাড়ি শেভ করা অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এক মুষ্ঠির নিচে দাড়ি কাটা মাকরূহে তাহরিমি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

যেসব আমলে কোরবানির সমান সওয়াব

আপডেট টাইম : ০৫:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জুলাই ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ কোরবানি তো তারাই দেবে, যাদের সামর্থ্য রয়েছে। যাদের রয়েছে কোরবানি ওয়াজিব হওয়ার মতো নেসাব ও সম্পদ, তাদের ওপরই কোরবানি ওয়াজিব।

কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানি, ইচ্ছা করলে অসামর্থ্যবানরাও কোরবানির সওয়াব হাসিল করতে পারে। তারাও পারে আল্লাহর অফুরন্ত রহমত কুড়াতে, এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে। এটি শুধু কোরবানির ক্ষেত্রেই নয়, অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রেও।

জান্নাত কেবল ধনীদের জন্য নয়, বরং এতে সবার প্রবেশাধিকার রয়েছে। তবে শর্ত হলো— প্রত্যেকে তার অবস্থা অনুযায়ী দায়িত্ব আদায় করা। যারা গরিব, তারা যদি আপন অবস্থার ওপর শোকর ও সবর করে, এবং অন্যান্য ফরজ দায়িত্বগুলো আদায় করে, তা হলে সে ধনীদের ৫০০ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। নবীজি (সা.) হাদিসে এমনটিই বলেছেন।

এমনিতে তো প্রত্যেক মুসলমানই একটি কোরবানির সওয়াব অবশ্যই পাবে। জীবনে সে কোরবানি করুক বা না করুক। কারণ আমাদের প্রিয় নবীজি (সা.) তার প্রিয় উম্মতের পক্ষ থেকেও কোরবানি করেছেন। এর দ্বারা উম্মতের ওয়াজিব দায়িত্ব পূর্ণ হবে না; কিন্তু সওয়াব প্রাপ্ত হবে।

এটি ছাড়াও আসন্ন কোরবানিতে দরিদ্ররাও দুভাবে কোরবানির সওয়াব কামাই করতে পারে।

১. কোরবানি করার নিয়ত ও আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। হায়, আমি যদি পারতাম, তা হলে আমিও কোরবানি করতাম। বহু মানুষ কাল কেয়ামতের মাঠে বহু নেকি নিয়ে ওঠবে শুধু নিয়তের কারণে। অথচ এ আমল সে জীবনেও করেনি এবং এটা করার সামর্থ্য তার ছিল না।

এ জন্য নবীজি (সা.) বলেছেন— ‘মুমিনের নিয়ত তার আমলের চেয়েও সরস।’

২. যারা কোরবানির সামর্থ্য রাখে না, তারা যদি ঈদের দিন ক্ষৌর কর্ম করে। অর্থাৎ জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর ক্ষৌরকার্য না করে ঈদের নামাজ পড়ে এসে ক্ষৌরকর্ম করে।

একটি হাদিসে এমন ব্যক্তিকে একটি কোরবানির সওয়াব দেওয়ার সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

আমর বিন আস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন: আমাকে আজহার দিনকে ঈদ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এটিকে আল্লাহতায়ালা সমগ্র উম্মতের জন্য ঈদ করেছেন।

জনৈক ব্যক্তি বললেন, আমার কাছে ধার করা দুধের বকরি ছাড়া আর কিছু না নেই, আমি কি কোরবানি করবে? নবীজি বললেন— না। তুমি তোমার চুল, নখ, গোঁফ কাটবে, এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এর দ্বারা তুমি আল্লাহর কাছে পূর্ণ কোরবানির সওয়াব প্রাপ্ত হবে। (সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং ৪৩৬৫, আবু দাউদ, ২৭৮৯)

কাজেই, যাদের এখনও জরুরি ক্ষৌরকর্মের প্রয়োজন রয়েছে, তারা জিলহজের চাঁদ ওঠার আগেই তা সেরে নিন। প্রয়োজন না থাকলে করার দরকার নেই। এর পর ঈদের দিনের অপেক্ষা করুন। সেদিন এই ক্ষৌরকার্য সম্পন্ন করুন। ইনশাআল্লাহ একটি পূর্ণ কোরবানির সওয়াব পাবেন।

জরুরি মাসয়ালা

ক্ষৌরকার্য ঈদের প্রথম দিন সম্ভব না হলে ২য়, ৩য় দিনও করা যাবে। সকালে সম্ভব না হলে বিকাল বা রাতেও করা যাবে।

যারা কোরবানি করবেন, তারাও ঈদের দিন ক্ষৌরকার্য করা মুস্তাহাব। (সহীহ মুসলিম: ১৯৭৭)

ক্ষৌরকর্মের মধ্যে দাড়ি শেভ করা অন্তর্ভুক্ত নয়। বরং এক মুষ্ঠির নিচে দাড়ি কাটা মাকরূহে তাহরিমি।