ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল দুর্ঘটনায় আহত প্রবাসীর চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়ালেন ছাত্রদল নেতা নিরাপত্তা যেন দূরে ঠেলে না দেয় : প্রধানমন্ত্রী ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টার উদ্বোধন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সুবাতাস এই সপ্তাহে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের জন্য যা থাকছে সংসদে প্রবেশের সময় মাথা নত করার প্রথা বিলুপ্ত করায় স্পিকারকে মোবারকবাদ মুহিউদ্দীনের শাকিরার প্রেম-বিচ্ছেদের গল্প শিক্ষা খাতে ৮৩ হাজারো মামলার জটে আটকা শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

গ্রামাঞ্চলে করোনার সংক্রমণ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুন ২০২১
  • ২৪০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একদিনে ৮ হাজারের বেশি সংক্রমণের তথ্য থেকেই স্পষ্ট-সবাই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খুলনার গ্রামগঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসা নিতে শহরে ছুটছেন আক্রান্তরা। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা শহরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।

কেবল খুলনা অঞ্চল নয়, সারা দেশেই এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, এর আগে গ্রামে করোনা সংক্রমণ কম ছিল। এখন করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামে চিকিৎসার সুযোগ কম। তাই তাদের যে কোনো স্বাস্থ্যসেবার জন্য নিকটস্থ শহরে দৌড়াতে হয়। কিন্তু করোনায় আক্রান্তরা নিকটস্থ শহরে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষত যেসব রোগীর অক্সিজেন সাপোর্ট বা আইসিইউ প্রয়োজন, তাদের জেলা শহরে যেতে হয়; সেখানে সেবা না পেলে যেতে হয় রাজধানীতে।

করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বেড়েছে। তবে এ সেবা যে সবাই নিতে পারে না, তা বলাই বাহুল্য। রাজধানী বা বিভাগীয় শহর দূরে থাক, নিকটস্থ জেলা শহরে গিয়েও চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সাধ্য অনেকের নেই।

দুঃখজনক হলো, বিভাগীয় পর্যায়ের কোনো কোনো হাসপাতালেও শুধু প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে আইসিইউসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সেবা জনগণ পায় না। কোনো কোনো হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে এক্স-রেসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি। এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মানুষ যাতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে, এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের রূপান্তরিত ধরন ‘ডেল্টা প্লাস’ নিয়ে বিশ্বে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ডেল্টা প্লাস’ ধরন সফলভাবে মোকাবিলা করতে হলে টিকা নিতে হবে; সেই সঙ্গে মাস্ক পরাসহ সুরক্ষামূলক পদক্ষেপগুলোও পরিপালন করতে হবে।

দেশে করোনা প্রতিরোধের অন্যতম উপায় গণটিকাদান। এতে মানুষের মধ্যে হার্ড ইউমিনিটি তৈরি হবে এবং করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলের খুব কম মানুষই টিকা নিয়েছেন বা নিতে পেরেছেন। গ্রামে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এখন এদিকে দৃষ্টি দেওয়ার সময় এসেছে। বস্তুত শুধু করোনা প্রতিরোধ ও এর চিকিৎসা নয়, প্রত্যন্ত এলাকায় সব ধরনের রোগের চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতির উদ্যোগে ২০ জুন আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

গ্রামাঞ্চলে করোনার সংক্রমণ

আপডেট টাইম : ০৯:৫৯:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ জুন ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ দেশে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একদিনে ৮ হাজারের বেশি সংক্রমণের তথ্য থেকেই স্পষ্ট-সবাই যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পরিস্থিতি আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, খুলনার গ্রামগঞ্জ ও পাড়া-মহল্লায় করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসা নিতে শহরে ছুটছেন আক্রান্তরা। কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় তারা শহরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।

কেবল খুলনা অঞ্চল নয়, সারা দেশেই এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, এর আগে গ্রামে করোনা সংক্রমণ কম ছিল। এখন করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামে চিকিৎসার সুযোগ কম। তাই তাদের যে কোনো স্বাস্থ্যসেবার জন্য নিকটস্থ শহরে দৌড়াতে হয়। কিন্তু করোনায় আক্রান্তরা নিকটস্থ শহরে গিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। বিশেষত যেসব রোগীর অক্সিজেন সাপোর্ট বা আইসিইউ প্রয়োজন, তাদের জেলা শহরে যেতে হয়; সেখানে সেবা না পেলে যেতে হয় রাজধানীতে।

করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও রোগীর চাপ বেড়েছে। তবে এ সেবা যে সবাই নিতে পারে না, তা বলাই বাহুল্য। রাজধানী বা বিভাগীয় শহর দূরে থাক, নিকটস্থ জেলা শহরে গিয়েও চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সাধ্য অনেকের নেই।

দুঃখজনক হলো, বিভাগীয় পর্যায়ের কোনো কোনো হাসপাতালেও শুধু প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে আইসিইউসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের সেবা জনগণ পায় না। কোনো কোনো হাসপাতালে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে এক্স-রেসহ বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি। এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মানুষ যাতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে, এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের রূপান্তরিত ধরন ‘ডেল্টা প্লাস’ নিয়ে বিশ্বে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ডেল্টা প্লাস’ ধরন সফলভাবে মোকাবিলা করতে হলে টিকা নিতে হবে; সেই সঙ্গে মাস্ক পরাসহ সুরক্ষামূলক পদক্ষেপগুলোও পরিপালন করতে হবে।

দেশে করোনা প্রতিরোধের অন্যতম উপায় গণটিকাদান। এতে মানুষের মধ্যে হার্ড ইউমিনিটি তৈরি হবে এবং করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত গ্রামাঞ্চলের খুব কম মানুষই টিকা নিয়েছেন বা নিতে পেরেছেন। গ্রামে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এখন এদিকে দৃষ্টি দেওয়ার সময় এসেছে। বস্তুত শুধু করোনা প্রতিরোধ ও এর চিকিৎসা নয়, প্রত্যন্ত এলাকায় সব ধরনের রোগের চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।