,

news_267215_1

করোনায় ৭৭ শতাংশ পরিবারের আয় কমেছে বেড়েছে বাল্যবিবাহ

হাওর বার্তা ডেস্কঃ করোনা (কোভিড-১৯) মহামারিতে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার কারণে গত বছরের এপ্রিল-অক্টোবর সময়কালে ৭৭ শতাংশ পরিবারের গড় মাসিক আয় কমেছে এবং ৩৪ শতাংশ পরিবারের কেউ না কেউ চাকরি অথবা আয়ের সক্ষমতা হারিয়েছেন। এই সময়ে দৈনন্দিন খরচ মেটাতে পরিবারগুলো সঞ্চয় ও ধারদেনার ওপর নির্ভরশীল ছিল।

ব্র্যাক, ইউএন উইমেন বাংলাদেশ এবং নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটির যৌথভাবে পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। করোনাকালে বিপরীতমুখী অভিবাসনের প্রভাবে দেশের মধ্যম মানের শহর, উপজেলা এবং গ্রামীণ অঞ্চলে জনমিতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক পরিবেশের ওপর পরিবর্তনগুলো তুলে ধরা হয়েছে এ গবেষণায়।

বুধবার রাতে একটি ভার্চুয়াল আন্তর্জাতিক সংলাপের মাধ্যমে ‘কোভিড-১৯ এর কারণে জনমিতিক ও আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনসমূহ :নতুন পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই গবেষণার তথ্য ও ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সংখ্যাবাচক ও পরিমাণবাচক উভয় পদ্ধতি প্রয়োগে পরিচালিত গবেষণাটির সময়কাল ২০২০ সালের ১০ থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত যাতে ৬ হাজার ৩৭০টি খানা অংশগ্রহণ করে।

এতে গত বছরের এপ্রিল-অক্টোবর সময়কালকে ভিত্তিকাল (রেফারেন্স পিরিয়ড) হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, পরিবারগুলোর ৬১ শতাংশেই তাদের অন্তত এক জন সদস্য কোভিড-১৯ মহামারিতে চাকরি বা উপার্জনের সুযোগ হারিয়েছেন। আবার গ্রামাঞ্চল বা মফস্বল শহরে ফিরে আসা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ অভিবাসীদের প্রায় ৭৭ শতাংশ মনে করেন কাজ বা চাকুরি খুঁজে পাওয়া তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

সমীক্ষায় অংশ নেওয়া খানাগুলোতে প্রায় ২৫ শতাংশ ফেরত আসা আন্তর্জাতিক অভিবাসী অভিবাসন ঋণ পরিশোধ নিয়ে উদ্বিগ্ন, যার পরিমাণ ৭৬ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত। শতকরা ৪৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা কোনো উপার্জনমূলক কাজ পাননি। তাদের মধ্যে কিছু পরিবার সঞ্চয় উত্তোলন করে বা বিভিন্ন সম্পদ ভাড়া বা বন্ধক দিয়ে খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন। জরিপকৃত পরিবারগুলোতে মহামারি চলাকালীন সময়ে গড়ে মাসিক রেমিট্যান্স বা বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থ ৫৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী উক্ত সময়ে দেশে বাল্যবিবাহ বেড়েছে। বিয়ের সময় কনে কোন শ্রেণিতে পড়ত তার ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিন-চতুর্থাংশের বেশি (৭৭ শতাংশ) কনের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে এবং ৬১ শতাংশ কনের বয়স ছিল ১৬ বছরের কম।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর