,

image-403497-1616126889

যে কারণে হেঁটেই জুমার নামাজ পড়তে গেলেন বৃদ্ধ

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বর্তমান বিশ্বে সবাই যখন তাড়াহুড়োয় ব্যস্ত, তখন এমন হৃদয়ছোঁয়া ঘটনা বিরলই বটে। সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক বৃদ্ধ শুক্রবার জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছেন, তখন এক গাড়ির চালক তাকে মসজিদ পর্যন্ত এগিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।

কিন্তু ওই বৃদ্ধ রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিস শুনিয়ে হেঁটেই মসজিদে চলে যান। তিনি চালকের রাইড দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।

হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল (ফরজ) অথবা (সাধারণ) গোসল করল, তাড়াতাড়ি মসজিদে গেল অথবা যাওয়ার চেষ্টা করল, যাওয়ার পথে কোনো কিছুতে আরোহন না করে হেঁটে গেল, ইমামের কাছে ঘেঁষে বসল, কোনো প্রকার অহেতুক কথাবার্তা না বলে মনোযোগের সঙ্গে খুতবা শোনে ও নামাজ আদায় করে, তা হলে তার প্রতিটি কদমের (পদক্ষেপ) বিনিময়ে এক বছর রোজা ও নামাজের সওয়াব দেওয়া হবে। (তিরমিজি, হাদিস নম্বর: ৪৫৬)

পরবর্তীতে সামাজিকমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। নবীজির বাণীর প্রতি বৃদ্ধের ভালোবাস ও তার আমলে নেটিজেনরাও মুগ্ধ হয়ে যান এবং মানুষকে উৎসাহিত করতে নিজেদের ওয়ালে ভিডিওটি শেয়ার করেন।

ফেসবুকে মন্তব্যে রহমান রোনাক নামে এক ব্যক্তিকে বলতে দেখা গেছে, যদি আমরা হৃদয় ও মন দিয়ে আল্লাহকে ভালোবাসি, তবে আল্লাহও আমাদের রক্ষা করবেন। আল্লাহ আমাদের পাপগুলোকে ক্ষমা করে দেবেন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করবেন।

হেঁটে জুমায় যাওয়া রাসুল (সা.)-এর সুন্নত। অবশ্য মসজিদ যদি বেশি দূরে হয়, তখন কষ্ট করে হেঁটে যাওয়ার দরকার নেই।

অন্যান্য সাহাবায়ে কেরামের মতো রাসুল (সা.)-এর প্রিয় সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.) মসজিদে হেঁটে আসতেন, তবে ফিরে যাওয়ার সময় কখনও হেঁটে যেতেন, আবার কখনও আরোহন করে যেতেন।(ইবনে আবি শায়বা)।

ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.) তার গভর্নরদের কাছে লিখে পাঠিয়ে ছিলেন যে, কেউ যেন আরোহিত হয়ে জুমায় না আসেন। (ইবনে সায়াদের বরাতে ‘ফাতহুল বারি লিল হাফিজ ইবনে রজব আল-হাম্বলি)।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর