ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তাড়াশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি, বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই থাকেন না রঙিন কাপড়ে ঝোলের পুরনো দাগ উঠবে মাত্র ৫ মিনিটে দুই মাসে ৪০০ টন পণ্য পরিবহন করেছে ‘স্পিড পোস্ট’ প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরলেই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ মেঘলাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়ি ও চালক আটক, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন বার্তা দিল দূতাবাস চট্টগ্রাম অভিমুখী ১১ দলীয় ঐক্যের ‘লং মার্চ’ শুরু বলিভিয়ায় সামরিকঘাঁটিতে বিস্ফোরণে ১০ জন নিহত, আহত ৫৮ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী পুলিশ অফিসারদের চিহ্নিত করা হয়েছে: আইজিপি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে

তারকাদের দলবদলের খেলায় জমে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:১৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ ২০২১
  • ২৭৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার নির্বাচনে রাজনীতির ময়দানে খবরের শিরোনামে এখন তারকারা। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে প্রতিদিনই গেরুয়া শিবির তথা পদ্মফুল অথবা তৃণমূলের ঘাসফুলে নাম লেখাচ্ছেন অনেকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ঘটা করে দলের প্রচার কার্যক্রমও চালাচ্ছেন। ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল- দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে চলবে ভোটগ্রহণ। শুধু বাংলায় কেন এত বেশি দফায় ভোটগ্রহণ, এই নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তর্কবিতর্ক থাকলেও সেটি ছাপিয়ে গেছে তারকাদের দলবদলের খেলা।

এরই মধ্যে টালিউডের অনেক তারকাই পেয়ে গেছেন মমতা ব্যানার্জির দলের টিকিট। মিমি, নুসরাত জাহান, দেবরা দলটির কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে আগে থেকেই সম্পৃক্ত। নতুন করে রাজ্যের বাঁকুড়া থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার টিকিট পেয়েছেন নায়িকা সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। নায়ক সোহম চক্রবর্তী নির্বাচন করছেন চণ্ডীপুর থেকে। অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আসানসোল দক্ষিণে। পরিচালক রাজ চক্রবর্তী দাঁড়িয়েছেন ব্যারাকপুর থেকে। কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সি নির্বাচন করছেন রাজারহাট-গোপালপুর আসনে। আলিপুরদুয়ারে প্রার্থী হয়েছেন টিভি অভিনেতা সৌরভ চক্রবর্তী। নায়িকা কৌশানী মুখোপাধ্যায়কে ঘাসফুলের প্রার্থী হিসাবে দেখা যাবে কৃষ্ণনগর উত্তরে। অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক প্রার্থী হয়েছেন উত্তরপাড়ার আসন থেকে। তৃণমূলে আরও যোগ দিয়েছেন অভিনেত্রী জুন মালিয়া, মানালি দে ও সুদেষ্ণা রায়।

এ তো গেল ঘাসফুলের কথা। গেরুয়া শিবির তথা বিজেপির পদ্মফুল নিয়েও লড়তে প্রস্তুত টালিউডের অনেক তারকা। এরই মধ্যে যোগ দিয়েছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, যশ দাশগুপ্ত, নায়িকা শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি ও পায়েল সরকার।

নির্বাচনী খেলায় একেবারে শেষে এসে চমক দেখিয়েছেন ‘ফাটাকেষ্ট’খ্যাত মিঠুন চক্রবর্তী। দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হয়ে দায়িত্ব পালন করলেও এবারের নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এ অভিনেতা।

ভারতের কেন্দ্রীয় কিংবা রাজ্যভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে আরও অনেক তারকা যুক্ত থাকলেও নির্বাচনে তারকাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ট্রলও হচ্ছে। বিশেষ করে নায়িকারা প্রার্থী হওয়ার কারণে শুনতে হচ্ছে আপত্তিকর মন্তব্য ও বিদ্রুপ। তৃণমূলে সদ্য যোগ দেওয়া পরিচালক সুদেষ্ণা রায় এ প্রসঙ্গে ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নারীরাই বেশিরভাগ আক্রমণের নিশানা। নোংরা নোংরা কথা বলা হচ্ছে। এটা পুরো নারী জাতির অপমান। আগে মিমি ও নুসরাতকে ট্রল করা হতো। তারা কাজ করেছেন, নিজেদের প্রমাণ করেছেন, ফলে ট্রল অনেকটা কমেছে। নেতিবাচক মন্তব্য যার সম্পর্কে করা হচ্ছে, তিনি ছোট হচ্ছেন না, বরং যিনি মন্তব্য করছেন তিনিই ছোট মনের পরিচয় দিচ্ছেন।’

বিজেপিতে নাম লেখানো নায়িকা পায়েল সরকার বলেন, ‘এমনিতেই তারকাদের নিয়ে সব সময়ই কটু কথা চলতে থাকে। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর তা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেছে। ট্রলিংয়ের শিকার হতে হয় প্রতিনিয়ত। নেতিবাচক মন্তব্য বা ট্রলিংকে খুব বেশি সিরিয়াস নেওয়া উচিত নয়। আমি যা চাই, তাতেই আমায় ফোকাস করতে হবে। নেতিবাচক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিলে আসল কাজের ক্ষতি।’

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কিছুদিন আগে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকেও একচোট নিয়েছেন ট্রলকারীরা। ছবির দৃশ্য ভাইরাল করে নায়িকার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়েছিল অন্তর্জালে। তবে সায়নী সেসব পাত্তা না দিয়ে রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করে লিখেছিলেন- ‘চিত্ত যেথা ভয় শূণ্য, উচ্চ যেথা শির’।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তাড়াশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বিক্রি, বরাদ্দ পাওয়া অনেকেই থাকেন না

তারকাদের দলবদলের খেলায় জমে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন

আপডেট টাইম : ০৯:১৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ মার্চ ২০২১

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার নির্বাচনে রাজনীতির ময়দানে খবরের শিরোনামে এখন তারকারা। নির্বাচনের আগ মুহূর্তে প্রতিদিনই গেরুয়া শিবির তথা পদ্মফুল অথবা তৃণমূলের ঘাসফুলে নাম লেখাচ্ছেন অনেকে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ঘটা করে দলের প্রচার কার্যক্রমও চালাচ্ছেন। ২৭ মার্চ থেকে ২৯ এপ্রিল- দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিমবঙ্গে চলবে ভোটগ্রহণ। শুধু বাংলায় কেন এত বেশি দফায় ভোটগ্রহণ, এই নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে তর্কবিতর্ক থাকলেও সেটি ছাপিয়ে গেছে তারকাদের দলবদলের খেলা।

এরই মধ্যে টালিউডের অনেক তারকাই পেয়ে গেছেন মমতা ব্যানার্জির দলের টিকিট। মিমি, নুসরাত জাহান, দেবরা দলটির কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে আগে থেকেই সম্পৃক্ত। নতুন করে রাজ্যের বাঁকুড়া থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার টিকিট পেয়েছেন নায়িকা সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। নায়ক সোহম চক্রবর্তী নির্বাচন করছেন চণ্ডীপুর থেকে। অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আসানসোল দক্ষিণে। পরিচালক রাজ চক্রবর্তী দাঁড়িয়েছেন ব্যারাকপুর থেকে। কীর্তনশিল্পী অদিতি মুন্সি নির্বাচন করছেন রাজারহাট-গোপালপুর আসনে। আলিপুরদুয়ারে প্রার্থী হয়েছেন টিভি অভিনেতা সৌরভ চক্রবর্তী। নায়িকা কৌশানী মুখোপাধ্যায়কে ঘাসফুলের প্রার্থী হিসাবে দেখা যাবে কৃষ্ণনগর উত্তরে। অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক প্রার্থী হয়েছেন উত্তরপাড়ার আসন থেকে। তৃণমূলে আরও যোগ দিয়েছেন অভিনেত্রী জুন মালিয়া, মানালি দে ও সুদেষ্ণা রায়।

এ তো গেল ঘাসফুলের কথা। গেরুয়া শিবির তথা বিজেপির পদ্মফুল নিয়েও লড়তে প্রস্তুত টালিউডের অনেক তারকা। এরই মধ্যে যোগ দিয়েছেন অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ, হিরণ চট্টোপাধ্যায়, যশ দাশগুপ্ত, নায়িকা শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি ও পায়েল সরকার।

নির্বাচনী খেলায় একেবারে শেষে এসে চমক দেখিয়েছেন ‘ফাটাকেষ্ট’খ্যাত মিঠুন চক্রবর্তী। দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হয়ে দায়িত্ব পালন করলেও এবারের নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এ অভিনেতা।

ভারতের কেন্দ্রীয় কিংবা রাজ্যভিত্তিক রাজনীতির সঙ্গে আরও অনেক তারকা যুক্ত থাকলেও নির্বাচনে তারকাদের সম্পৃক্ততা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ট্রলও হচ্ছে। বিশেষ করে নায়িকারা প্রার্থী হওয়ার কারণে শুনতে হচ্ছে আপত্তিকর মন্তব্য ও বিদ্রুপ। তৃণমূলে সদ্য যোগ দেওয়া পরিচালক সুদেষ্ণা রায় এ প্রসঙ্গে ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নারীরাই বেশিরভাগ আক্রমণের নিশানা। নোংরা নোংরা কথা বলা হচ্ছে। এটা পুরো নারী জাতির অপমান। আগে মিমি ও নুসরাতকে ট্রল করা হতো। তারা কাজ করেছেন, নিজেদের প্রমাণ করেছেন, ফলে ট্রল অনেকটা কমেছে। নেতিবাচক মন্তব্য যার সম্পর্কে করা হচ্ছে, তিনি ছোট হচ্ছেন না, বরং যিনি মন্তব্য করছেন তিনিই ছোট মনের পরিচয় দিচ্ছেন।’

বিজেপিতে নাম লেখানো নায়িকা পায়েল সরকার বলেন, ‘এমনিতেই তারকাদের নিয়ে সব সময়ই কটু কথা চলতে থাকে। রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর তা মাত্রাতিরিক্ত হয়ে গেছে। ট্রলিংয়ের শিকার হতে হয় প্রতিনিয়ত। নেতিবাচক মন্তব্য বা ট্রলিংকে খুব বেশি সিরিয়াস নেওয়া উচিত নয়। আমি যা চাই, তাতেই আমায় ফোকাস করতে হবে। নেতিবাচক বিষয়কে অগ্রাধিকার দিলে আসল কাজের ক্ষতি।’

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কিছুদিন আগে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকেও একচোট নিয়েছেন ট্রলকারীরা। ছবির দৃশ্য ভাইরাল করে নায়িকার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেওয়া হয়েছিল অন্তর্জালে। তবে সায়নী সেসব পাত্তা না দিয়ে রবীন্দ্রনাথকে উদ্ধৃত করে লিখেছিলেন- ‘চিত্ত যেথা ভয় শূণ্য, উচ্চ যেথা শির’।