,

13

শ্রীমঙ্গলের রিসোর্টে দম্পতির অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণ করে টাকা দাবি, গ্রেফতার ২

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থেকে পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে এসেছিলেন এক দম্পতি। রাত্রিযাপনে ওঠেছিলেন মৌলভীবাজার সড়কের কাছে তামিম রিসোর্ট নামে এক রেস্ট হাউজে। ঐ রিসোর্টে ভয়াবহ বিপদ ও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন এই দম্পতি। রিসোর্টের দুই কর্মচারী টিস্যু বক্সের ভেতরে গোপন ক্যামেরা লাগিয়ে দম্পতির অন্তরঙ্গ দৃশ্য ধারণ করে। পরে এই দম্পতিকে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে ঐ দুই কর্মচারী।

এ ঘটনায় গত বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভিকটিম রিয়াজউদ্দিন পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দুই জনকে আসামি করে মামলা করেন। গত শুক্রবার কানাইঘাট উপজেলা থেকে তাদরে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হল, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার চড়িপারা এলাকার রেজোয়ান ও বিরাইমপুর এলাকার খালেদ মিয়া।

শ্রীমঙ্গল থানা সূত্র জানায়, গত বছরের ২৯ জুলাই এই দম্পতি রাত্রীযাপনে তামিম রিসোর্টে ওঠেছিলেন। ঘটনার কিছু দিন পর মোবাইল ফোনে রিয়াজউদ্দিনকে ফোন করে জানায়, তাদের ছবি ও ভিডিও আছে। ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে বলে ফোনের লাইন কেটে দেয়। তারপর গত বছরের ২১ অক্টোবর ‘নাদিরা আক্তার রুমি’ নামে একটা ফেক আইডি থেকে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে রিয়াজউদ্দিনের কাছে তাদের গোপন মেলামেশার ছবি পাঠায়। পরে ঐ নাম্বার থেকে বাদীর ইমু নাম্বারে কল করে হুমকি দিয়ে বলে ৫০ হাজার টাকা দিলে, ঐ ছবি ও ভিডিও ফেরত দেবে। না হয় তাদের এই ছবির ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেবে।

এদিকে এমন স্পর্শকাতর ঘটনায় রিয়াজউদ্দিন দম্পতি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তাদের সঙ্গে আপসের চেষ্টা চালান। ইতিমধ্যে তারা ফেসবুকে তাদের বন্ধু ও স্বজনের কমেন্ট ও ম্যাসেঞ্জারে দম্পতির ছবি ও ভিডিও পোস্ট করতে থাকে। অবশেষে নিরূপায় হয়ে এই দম্পতি শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। পরে দ্রুত পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী হারুণ মিয়া জানান, রেজোয়ান ও খালেদ এক সময় আমার এখানে ছিল, এখন নেই।

শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) হুমায়ুন কবির জানান, অভিযোগ পেয়ে আমরা দ্রুত মূল দুই আসামিকে গ্রেফতার করি। আসামিদের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর