ঢাকা ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ছাত্রদলের সবাই নেতা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৬
  • ৩৬৯ বার

অপ্রীতিকর ও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি এড়াতে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ইতিহাস গড়ে ৭৩৬ সদস্যের ছাত্রদলের বিশাল পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পদ বঞ্চিতদের আগের বিদ্রোহের বিষয়টি বিবেচনা করে এবার আর ঝুঁকি নিতে চাননি বিএনপির হাইকমান্ড।

এজন্য সবাইকে সন্তুষ্ট করতেই এ ধরনের কমিটি দেয়া হয়েছে। বিদ্রোহ এড়াতে যোগ্যদের পাশাপাশি অযোগ্যদেরও নেতা বানানোয় দলটিতে আলোচনা হচ্ছে ছাত্রদলে আর কর্মী রইল না। সবাই নেতা হয়ে গেছেন।

দল গোছানোর অংশ হিসেবে ২০১৪ সালে ১৪ অক্টোবর রাজিব আহসানকে সভাপতি ও মো. আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটি ঘোষণার পরপরই পদ বঞ্চিত এবং অবমূল্যায়িত নেতাকর্মীরা ব্যাপক বিক্ষোভ করেন। তাদের এ বিদ্রোহের কারণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ-অগি্নসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে।

তবে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের হস্তক্ষেপে সেই বিদ্রোহ অনেকটা প্রশমিত হয়। সে সময়ে বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা দলের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল। এ সময়ে তারা তাদের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। দল থেকে তাদের বহিষ্কারের দাবিও তুলেছিলেন বিদ্রোহী ছাত্রনেতারা। পদবঞ্চিতদের পদ দেয়া হবে এমন আশ্বাসেই তখন বিদ্রোহ দমন সম্ভব হয়েছিল। সেই কথা রখেছে সিনিয়র নেতারা। নিরাশ হতে হয়নি তাদের।

বিদ্রোহের পরে একটু লম্বা সময় পর শনিবার রাতে ছাত্রদলের ৭৩৬ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ইতিহাস তৈরির মতো এত বিশাল কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন ৬৯ জন। যুগ্ম সম্পাদক ৬৪ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ৬৪ জন, সহ-সম্পাদক ১৬৭ জন, সহ-সাংগঠনিক ১২৪ জনসহ সাধারণ সদস্য পদে ২৪২ জনকে রাখা হয়েছে।

ছাত্রদল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এরকম কমিটি এর আগে কখনো হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাবির হলসমূহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা জেলা কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ১৫১ সদস্যের হলেও এবার জায়গা পেয়েছেন ৭৩৬ জন। তবে এর মধ্যে ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজকে কেন্দ্রীয় সংসদের অধীনে নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পদাধিকার বলে এসব কমিটির নেতা কেন্দ্রীয় কমিটির আওতাধীন। সে হিসেবে এবং সংগঠনে সক্রিয় অথচ দির্ঘদিন ধরে পদ বঞ্চিতদের এবার পদায়নের সুযোগ করে দেয়ার সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় কমিটির কলেবর বেড়েছে বলে ছাত্রদল নেতারা জানান।

অপরদিকে নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাকর্মীরা জানান, ‘আমাদের এতদিন কোনো পরিচয় ছিল না। এখন আমাদের অন্তত রাজনৈতিক একটি স্বীকৃতি হয়েছে। এক্ষেত্রে সংগঠনের গঠণতন্ত্র লঙ্ঘিত হলেও আমাদের এতদিনের নেতৃত্ব গ্যাপ দূর হবে। অপরদিকে গঠনতন্ত্র মোতাবেক এই কমিটির মেয়াদ আছে আর মাত্র আট মাস। সুতরাং এ কমিটি আমাদের কাছে সান্ত্বনাস্বরূপ। এই স্বল্প মেয়াদে আমরা আমাদের পরিচয় পেলাম এটাই আমাদের সান্ত্বনা।’

গত শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সম্মতিতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. আকরামুল হাসান এই কমিটিসমূহ অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ৩ বছর ৪ মাস পর সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিও অনুমোদন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আল মেহেদী তালুকদারকে সভাপতি এবং আবুল বাসার সিদ্দিকীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব নেতার নামে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক উঠলেও সিন্ডিকেটের কারণে তারাই নেতৃত্বভার পান। ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ীর বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও নেতৃত্বের যোগ্যতায় তাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে হতাশ ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা। আবার প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কমিটিগুলোতেও ছিল সমানভাবে হস্তক্ষেপ।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এসব হল কমিটির প্রত্যেকটিতে প্রথম চারজনকে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর বলয়ের লোকদের নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এর বাইরে ঢাকা মহানগর কমিটিগুলোতেও ছিল তার আধিপত্য। ফলে এতদিন ধরে যেসব নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে থেকেছেন, নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত করে তুলেছেন তাদের অবমূল্যায়িত করা হয়েছে এসব কমিটিতে।

অনেককে আবার মহানগর রাজনীতি থেকে সরিয়ে তল্পিবাহক আর ধর্ষণ মামলার আসামি, এক সময়ের বহিষ্কৃতদের নেতৃত্বভার তুলে দিয়েছেন। এর ফলে আগামীতে মহানগরকেন্দ্রিক ছাত্র রাজনীতিতে ব্যাপক ধস নামার আশঙ্কা করছেন নেতাকর্মীরা। -যায়যায়দিন

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছাত্রদলের সবাই নেতা

আপডেট টাইম : ১০:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৬

অপ্রীতিকর ও সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি এড়াতে গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ইতিহাস গড়ে ৭৩৬ সদস্যের ছাত্রদলের বিশাল পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পদ বঞ্চিতদের আগের বিদ্রোহের বিষয়টি বিবেচনা করে এবার আর ঝুঁকি নিতে চাননি বিএনপির হাইকমান্ড।

এজন্য সবাইকে সন্তুষ্ট করতেই এ ধরনের কমিটি দেয়া হয়েছে। বিদ্রোহ এড়াতে যোগ্যদের পাশাপাশি অযোগ্যদেরও নেতা বানানোয় দলটিতে আলোচনা হচ্ছে ছাত্রদলে আর কর্মী রইল না। সবাই নেতা হয়ে গেছেন।

দল গোছানোর অংশ হিসেবে ২০১৪ সালে ১৪ অক্টোবর রাজিব আহসানকে সভাপতি ও মো. আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ কমিটি ঘোষণার পরপরই পদ বঞ্চিত এবং অবমূল্যায়িত নেতাকর্মীরা ব্যাপক বিক্ষোভ করেন। তাদের এ বিদ্রোহের কারণে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ-অগি্নসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে।

তবে দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের হস্তক্ষেপে সেই বিদ্রোহ অনেকটা প্রশমিত হয়। সে সময়ে বিদ্রোহী নেতাকর্মীরা দলের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ও সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল। এ সময়ে তারা তাদের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। দল থেকে তাদের বহিষ্কারের দাবিও তুলেছিলেন বিদ্রোহী ছাত্রনেতারা। পদবঞ্চিতদের পদ দেয়া হবে এমন আশ্বাসেই তখন বিদ্রোহ দমন সম্ভব হয়েছিল। সেই কথা রখেছে সিনিয়র নেতারা। নিরাশ হতে হয়নি তাদের।

বিদ্রোহের পরে একটু লম্বা সময় পর শনিবার রাতে ছাত্রদলের ৭৩৬ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। ইতিহাস তৈরির মতো এত বিশাল কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন ৬৯ জন। যুগ্ম সম্পাদক ৬৪ জন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ৬৪ জন, সহ-সম্পাদক ১৬৭ জন, সহ-সাংগঠনিক ১২৪ জনসহ সাধারণ সদস্য পদে ২৪২ জনকে রাখা হয়েছে।

ছাত্রদল প্রতিষ্ঠার পর থেকে এরকম কমিটি এর আগে কখনো হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাবির হলসমূহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম, ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা জেলা কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ১৫১ সদস্যের হলেও এবার জায়গা পেয়েছেন ৭৩৬ জন। তবে এর মধ্যে ঢাকা কলেজ, তিতুমীর কলেজ, তেজগাঁও কলেজ, সরকারি কবি নজরুল কলেজ, সরকারি বাংলা কলেজকে কেন্দ্রীয় সংসদের অধীনে নেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে পদাধিকার বলে এসব কমিটির নেতা কেন্দ্রীয় কমিটির আওতাধীন। সে হিসেবে এবং সংগঠনে সক্রিয় অথচ দির্ঘদিন ধরে পদ বঞ্চিতদের এবার পদায়নের সুযোগ করে দেয়ার সিদ্ধান্তে কেন্দ্রীয় কমিটির কলেবর বেড়েছে বলে ছাত্রদল নেতারা জানান।

অপরদিকে নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাকর্মীরা জানান, ‘আমাদের এতদিন কোনো পরিচয় ছিল না। এখন আমাদের অন্তত রাজনৈতিক একটি স্বীকৃতি হয়েছে। এক্ষেত্রে সংগঠনের গঠণতন্ত্র লঙ্ঘিত হলেও আমাদের এতদিনের নেতৃত্ব গ্যাপ দূর হবে। অপরদিকে গঠনতন্ত্র মোতাবেক এই কমিটির মেয়াদ আছে আর মাত্র আট মাস। সুতরাং এ কমিটি আমাদের কাছে সান্ত্বনাস্বরূপ। এই স্বল্প মেয়াদে আমরা আমাদের পরিচয় পেলাম এটাই আমাদের সান্ত্বনা।’

গত শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সম্মতিতে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. আকরামুল হাসান এই কমিটিসমূহ অনুমোদন করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ৩ বছর ৪ মাস পর সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিও অনুমোদন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আল মেহেদী তালুকদারকে সভাপতি এবং আবুল বাসার সিদ্দিকীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব নেতার নামে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক উঠলেও সিন্ডিকেটের কারণে তারাই নেতৃত্বভার পান। ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ীর বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও নেতৃত্বের যোগ্যতায় তাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে হতাশ ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা। আবার প্রকাশিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল কমিটিগুলোতেও ছিল সমানভাবে হস্তক্ষেপ।

নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এসব হল কমিটির প্রত্যেকটিতে প্রথম চারজনকে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর বলয়ের লোকদের নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এর বাইরে ঢাকা মহানগর কমিটিগুলোতেও ছিল তার আধিপত্য। ফলে এতদিন ধরে যেসব নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে থেকেছেন, নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচিত করে তুলেছেন তাদের অবমূল্যায়িত করা হয়েছে এসব কমিটিতে।

অনেককে আবার মহানগর রাজনীতি থেকে সরিয়ে তল্পিবাহক আর ধর্ষণ মামলার আসামি, এক সময়ের বহিষ্কৃতদের নেতৃত্বভার তুলে দিয়েছেন। এর ফলে আগামীতে মহানগরকেন্দ্রিক ছাত্র রাজনীতিতে ব্যাপক ধস নামার আশঙ্কা করছেন নেতাকর্মীরা। -যায়যায়দিন