ঢাকা ১০:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যে ফ্যাসিবাদকে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল, কারা এটাকে তুলে আনতে চায়

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৯:৪৭:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ২ বার

এখনকার প্রজন্মের বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তই ফ্যাসিবাদীদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ব‌লে মন্তব‌্য ক‌রে‌ছেন জাতীয় সংসদের বি‌রোধী দ‌লীয় নেতা ও বাংলা‌দেশ জামায়া‌তে ইসলামীর আমির ডা. শ‌ফিকুর রহমান।

তি‌নি ব‌লে‌ছেন, “৫৪ বছরে দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি, সেই ফ্যাসিবাদকে চব্বিশের বিপ্লবীরা ছুড়ে ফেলেছিল বঙ্গোপসাগরে, নালায়, নর্দমায়। এখন কারা নর্দমা থেকে এটাকে তুলে আনতে চায়? মনে রাখা দরকার, এই প্রজন্ম প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা জেগে উঠলে মাসের পর মাস, বছরের বছর আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না। তাদের বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তই ফ্যাসিবাদীদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।”

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। ‘৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিপ্লবী শপথ, বাস্তবায়ন করব জুলাই সনদ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাগপা।

বিরোধী দলীয় নেতা ব‌লেন, “যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই নতুন করে আবার ফ্যাসিবাদের যাত্রা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে। আমরা এই যাত্রা, কদম কদম যাত্রা থামিয়ে দেব, ইনশাআল্লাহ। আমরা এগোতে দেব না।”

সংস‌দ নির্বাচ‌নে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটকে হা‌রি‌য়ে দেওয়া হ‌য়ে‌ছে, অভিযোগ ক‌রে তি‌নি ব‌লেন, “আমাদের রায়কে হাইজ্যাক করা হয়েছে, ডাকাতি করা হয়েছে, জনগণকে অপমান করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই তার রাজসাক্ষীও পাওয়া গেছে। হ্যাঁ, ঘুঘু বারবার আসে ধান খেয়ে চলে যেতে। কিন্তু, কপাল যখন মন্দ, তখন কিন্তু জালে বেঁধে যায়। ঘুঘু তুমি একবার জনগণের ধান খেয়েছ, আবার খাওয়ার চিন্তা কোরো না। এবার এলে ঠিকই তোমার লেজ, ঠিকই তোমার পা, ঠিকই তোমার ডানা অবশ করে দেওয়া হবে।”

“বলবেন যে, জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে, তার প্রমাণ কী? ৭০ ভাগ জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে, এটাই তার প্রমাণ। আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ছিলাম। আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে আছি। আমরা দেখিয়ে যাব, এই সংসদ মানুক আর না মানুক, গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব,” ব‌লেন শ‌ফিুকর রহমান।

জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য বিরোধী দল সংসদ থেকে জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জা‌নি‌য়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ব‌লেন, “আমরা গত শনিবার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে‌ছি। এটা শুরু মাত্র। টালবাহনা কর‌লে রাজপ‌থে ফায়সালা হ‌বে।”

সরকা‌রের সমা‌লোচনা ক‌রে শ‌ফিকুর রহমান ব‌লেন, “বিরোধী দল জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলতে চাইলে নোটিশ আলোচনায় আসতে দেওয়া হয় না। তারা ভয় পায়, এর মাধ্যমে জনগণের কাছে সত্য প্রকাশ পেয়ে যাবে।”

“কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে এই মৌসুমে খামারিরা হা করে চেয়ে আছেন। তাদের ফসলে সেচ করবেন, কিন্তু পানি নেই। এখন আবার খোলা তেলও দেয় না। কার্ড নিয়ে আসতে বলে। তারা কার্ড আনবেন কীভাবে,” এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করার জন্য শিশুদের স্কুল বন্ধ করে দিয়ে তাদের ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, “করোনার সময় পড়াশোনা ব্যাহত হয়ে অনেক শিশু ড্রপআউট হয়ে গেছে। অনেকে বিপথে চলে গেছে। এখন আবার যদি একই পথে সরকার হাঁটে, তাহলে জাতিকে অন্ধত্ব ও মূর্খতার চাদরে ঢেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে। এটা রুখে দেওয়া হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইনজীবী এস এম শাহরিয়ার কবির বলেন, “মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে সংস্কার বাস্তবায়ন করার জন্য। তবে, সরকার এখন ১৬টি অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না করার চিন্তা করছে। ১২ এপ্রিলের মধ্যে সনদ বাস্তবায়ন না করলে এর পরিণতি ভালো হবে না।”

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান বলেন, “যাদের রক্তের বিনিময়ে দেশে পরিবর্তন এসেছে, অনেকে মন্ত্রী-এমপি হয়ে তাদের ভুলে গেছেন। জুলাইয়ে তরুণরা প্রাণ না দিলে এখনো লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করতে হতো। জুলাইকে অস্বীকার করলে দেশের মানুষ চব্বিশের মতো আরেকটা গণঅভ্যুত্থান করবে। সেই অভ্যুত্থানে জাগপা পাশে থাকবে।”

সভাপতির বক্তব্যে জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, “বিএনপি নির্বাচনের আগে বলেছিল, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। এখন তারা গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করে দিতে চায়। তারা ৫১ শতাংশ জনসমর্থন পেয়ে ৭০ শতাংশ জনসমর্থনের গণভোট বাতিল করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।”

আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম অলিউল আনোয়ার। বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

যে ফ্যাসিবাদকে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল, কারা এটাকে তুলে আনতে চায়

আপডেট টাইম : ০৯:৪৭:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

এখনকার প্রজন্মের বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তই ফ্যাসিবাদীদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ব‌লে মন্তব‌্য ক‌রে‌ছেন জাতীয় সংসদের বি‌রোধী দ‌লীয় নেতা ও বাংলা‌দেশ জামায়া‌তে ইসলামীর আমির ডা. শ‌ফিকুর রহমান।

তি‌নি ব‌লে‌ছেন, “৫৪ বছরে দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি, সেই ফ্যাসিবাদকে চব্বিশের বিপ্লবীরা ছুড়ে ফেলেছিল বঙ্গোপসাগরে, নালায়, নর্দমায়। এখন কারা নর্দমা থেকে এটাকে তুলে আনতে চায়? মনে রাখা দরকার, এই প্রজন্ম প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা জেগে উঠলে মাসের পর মাস, বছরের বছর আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না। তাদের বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তই ফ্যাসিবাদীদের কলিজায় কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।”

সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। ‘৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিপ্লবী শপথ, বাস্তবায়ন করব জুলাই সনদ’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে জাগপা।

বিরোধী দলীয় নেতা ব‌লেন, “যেদিন গণভোটের গণরায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকেই নতুন করে আবার ফ্যাসিবাদের যাত্রা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে। আমরা এই যাত্রা, কদম কদম যাত্রা থামিয়ে দেব, ইনশাআল্লাহ। আমরা এগোতে দেব না।”

সংস‌দ নির্বাচ‌নে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটকে হা‌রি‌য়ে দেওয়া হ‌য়ে‌ছে, অভিযোগ ক‌রে তি‌নি ব‌লেন, “আমাদের রায়কে হাইজ্যাক করা হয়েছে, ডাকাতি করা হয়েছে, জনগণকে অপমান করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই তার রাজসাক্ষীও পাওয়া গেছে। হ্যাঁ, ঘুঘু বারবার আসে ধান খেয়ে চলে যেতে। কিন্তু, কপাল যখন মন্দ, তখন কিন্তু জালে বেঁধে যায়। ঘুঘু তুমি একবার জনগণের ধান খেয়েছ, আবার খাওয়ার চিন্তা কোরো না। এবার এলে ঠিকই তোমার লেজ, ঠিকই তোমার পা, ঠিকই তোমার ডানা অবশ করে দেওয়া হবে।”

“বলবেন যে, জনগণ আপনাদের ভোট দিয়েছে, তার প্রমাণ কী? ৭০ ভাগ জনগণ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছে, এটাই তার প্রমাণ। আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ছিলাম। আমরা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে আছি। আমরা দেখিয়ে যাব, এই সংসদ মানুক আর না মানুক, গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব,” ব‌লেন শ‌ফিুকর রহমান।

জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য বিরোধী দল সংসদ থেকে জনগণের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জা‌নি‌য়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ব‌লেন, “আমরা গত শনিবার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে‌ছি। এটা শুরু মাত্র। টালবাহনা কর‌লে রাজপ‌থে ফায়সালা হ‌বে।”

সরকা‌রের সমা‌লোচনা ক‌রে শ‌ফিকুর রহমান ব‌লেন, “বিরোধী দল জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলতে চাইলে নোটিশ আলোচনায় আসতে দেওয়া হয় না। তারা ভয় পায়, এর মাধ্যমে জনগণের কাছে সত্য প্রকাশ পেয়ে যাবে।”

“কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে এই মৌসুমে খামারিরা হা করে চেয়ে আছেন। তাদের ফসলে সেচ করবেন, কিন্তু পানি নেই। এখন আবার খোলা তেলও দেয় না। কার্ড নিয়ে আসতে বলে। তারা কার্ড আনবেন কীভাবে,” এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করার জন্য শিশুদের স্কুল বন্ধ করে দিয়ে তাদের ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, “করোনার সময় পড়াশোনা ব্যাহত হয়ে অনেক শিশু ড্রপআউট হয়ে গেছে। অনেকে বিপথে চলে গেছে। এখন আবার যদি একই পথে সরকার হাঁটে, তাহলে জাতিকে অন্ধত্ব ও মূর্খতার চাদরে ঢেকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে। এটা রুখে দেওয়া হবে।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আইনজীবী এস এম শাহরিয়ার কবির বলেন, “মানুষ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে সংস্কার বাস্তবায়ন করার জন্য। তবে, সরকার এখন ১৬টি অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন না করার চিন্তা করছে। ১২ এপ্রিলের মধ্যে সনদ বাস্তবায়ন না করলে এর পরিণতি ভালো হবে না।”

প্রধান বক্তার বক্তব্যে জাগপা সভাপতি তাসমিয়া প্রধান বলেন, “যাদের রক্তের বিনিময়ে দেশে পরিবর্তন এসেছে, অনেকে মন্ত্রী-এমপি হয়ে তাদের ভুলে গেছেন। জুলাইয়ে তরুণরা প্রাণ না দিলে এখনো লন্ডন থেকে দল পরিচালনা করতে হতো। জুলাইকে অস্বীকার করলে দেশের মানুষ চব্বিশের মতো আরেকটা গণঅভ্যুত্থান করবে। সেই অভ্যুত্থানে জাগপা পাশে থাকবে।”

সভাপতির বক্তব্যে জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, “বিএনপি নির্বাচনের আগে বলেছিল, তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। এখন তারা গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করে দিতে চায়। তারা ৫১ শতাংশ জনসমর্থন পেয়ে ৭০ শতাংশ জনসমর্থনের গণভোট বাতিল করার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।”

আলোচনা সভার সঞ্চালক ছিলেন যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম অলিউল আনোয়ার। বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।