ঢাকা ১১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণমাধ্যমকে খবরের ফ্যাক্ট চেকিং নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী সংসদ সচিবালয় কমিশন গঠন সরকারি ও বেসরকারি অফিসের নতুন সময়সূচি ৯টা-৪টা, সন্ধ্যা ৬টার পর মার্কেট বন্ধ যুক্তরাষ্ট্রের ২ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করল ইরান; পরমুহূর্তেই ইসরায়েলে অপ্রতিরোধ্য ক্লাস্টার বোমা হামলা, চাকুরীচ্যুত হল মার্কিন সেনাপ্রধান ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হবে ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানালেন নাহিদ চীনের সোশ্যাল মিডিয়ায় ইরানকে সাহায্যের ধুম ১৬ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনার অনুমোদন সন্ধ্যা ৬টার পর সিনেমার শো বন্ধ পাকার আগেই জলাবদ্ধতায় ডুবল ধান, হাওরে কৃষকের কান্না

ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানালেন নাহিদ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:২৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩ বার
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নিতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের নিরাশ করেছে। কিন্তু যতটুকু অর্জন (সংস্কার) সে সময় হয়েছে, সেই অর্জন ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। ড. ইউনূসকেও আমি রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানাচ্ছি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ এসব কথা বলেন।
সংস্কারকে কেন্দ্র করে যা হচ্ছে, তা অপ্রত্যাশিত নয় বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যা কিছু হচ্ছে সংস্কারকে কেন্দ্র করে, এটা অপ্রত্যাশিত না। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে, ঐকমত্য কমিশন থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচন চায়।
নাহিদ ইসলাম জানান, তারা আমূল পরিবর্তন চেয়েছিলেন। আর বিএনপি পুরোনো সবকিছুকে রেখেই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল।
বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর আর কিছুকে তোয়াক্কা করছে না। তারা গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনতে পাচ্ছি, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের ১০-১১টি তারা সংসদে আনছে না। তারা সেগুলোকে আইনে পরিণত করবে না। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ রয়েছে। এগুলো বাতিল করে তারা আসলে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেখানে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করতে চাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে বিএনপি একটি সংস্কারবিরোধী দল মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, গত ১৬ বছর তারা নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছে, আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। কিন্তু মানুষ তাদের আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। কারণ, তাদের নেতৃত্বে কখনো আস্থা ছিল না মানুষের।
রাজপথে আন্দোলনের বিষয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আমরা সংসদে সমাধান চেয়েছিলাম। সংসদে যেহেতু উপযুক্ত সমাধান আমরা পাচ্ছি না, তাই রাজপথে অবস্থান নিতে হচ্ছে। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ হোক, অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করা হোক। বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে না যে সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসছে। এ অবস্থায় সরকারের ওপর যদি জনগণের আস্থা না থাকে, বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের সবাইকে অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এই অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন। এখন যে বাতিল হচ্ছে, এগুলো নিয়ে তাদের কথা বলতে হবে। ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে। তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছেন। এখন এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না, তারা কোনো কথা বলবেন না, ক্যারিয়ারে ফিরে যাবেন —এটা হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের সামনে যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তা সরকার বা বিরোধী দল কেউই যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারছে না। জনগণ ও বিরোধী দলগুলোর আস্থা ছাড়া সরকার কার্যকরভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় রাজনৈতিক ঐক্য থাকলে জনগণের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হতো। কিন্তু বাস্তবে সেই ঐক্যের অভাব রয়েছে।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি দীর্ঘদিন আন্দোলন করলেও জনগণের ব্যাপক সমর্থন পায়নি। মানুষের কাছে তাদের নেতৃত্বে আস্থার ঘাটতি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
নাহিদ আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় তাদের রাজপথে অবস্থান নিতে হচ্ছে। তবে এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার আহ্বান জানান।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

গণমাধ্যমকে খবরের ফ্যাক্ট চেকিং নিশ্চিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানালেন নাহিদ

আপডেট টাইম : ১১:২৬:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার উদ্যোগগুলোকে এগিয়ে নিতে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের নিরাশ করেছে। কিন্তু যতটুকু অর্জন (সংস্কার) সে সময় হয়েছে, সেই অর্জন ধরে রাখতে তাদেরও মাঠে নামতে হবে। ড. ইউনূসকেও আমি রাজপথে বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানাচ্ছি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ এসব কথা বলেন।
সংস্কারকে কেন্দ্র করে যা হচ্ছে, তা অপ্রত্যাশিত নয় বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে যা কিছু হচ্ছে সংস্কারকে কেন্দ্র করে, এটা অপ্রত্যাশিত না। এই রাজনীতি ৫ আগস্টের পর থেকে, ঐকমত্য কমিশন থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্টের পর দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম। বিএনপি বলেছিল তারা নির্বাচন চায়।
নাহিদ ইসলাম জানান, তারা আমূল পরিবর্তন চেয়েছিলেন। আর বিএনপি পুরোনো সবকিছুকে রেখেই নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল।
বিএনপির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনের পর বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়ার পর আর কিছুকে তোয়াক্কা করছে না। তারা গণভোটের গণরায় বাতিল করে দিয়েছে। এখন শুনতে পাচ্ছি, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশের ১০-১১টি তারা সংসদে আনছে না। তারা সেগুলোকে আইনে পরিণত করবে না। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ গুম প্রতিকার, মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ রয়েছে। এগুলো বাতিল করে তারা আসলে স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা যেখানে নির্বাহী বিভাগের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা ভোগ করতে চাচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে বিএনপি একটি সংস্কারবিরোধী দল মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, গত ১৬ বছর তারা নির্যাতিত-নিপীড়িত হয়েছে, আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে। কিন্তু মানুষ তাদের আন্দোলনে সাড়া দেয়নি। কারণ, তাদের নেতৃত্বে কখনো আস্থা ছিল না মানুষের।
রাজপথে আন্দোলনের বিষয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আমরা সংসদে সমাধান চেয়েছিলাম। সংসদে যেহেতু উপযুক্ত সমাধান আমরা পাচ্ছি না, তাই রাজপথে অবস্থান নিতে হচ্ছে। আমরা চাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ হোক, অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করা হোক। বিএনপি সরকার বুঝতে পারছে না যে সামনে অর্থনৈতিক মন্দা আসছে। এ অবস্থায় সরকারের ওপর যদি জনগণের আস্থা না থাকে, বিএনপি সরকার পরিচালনা করতে পারবে না।
অন্তর্বর্তী সরকারের সবাইকে অধ্যাদেশ বাতিলের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, যারা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে ছিলেন ড. ইউনূস, আসিফ নজরুলসহ উপদেষ্টাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা এই অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন। এখন যে বাতিল হচ্ছে, এগুলো নিয়ে তাদের কথা বলতে হবে। ড. ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে। তারা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপির হাতে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছেন। এখন এই অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাবে, সংস্কার হবে না, তারা কোনো কথা বলবেন না, ক্যারিয়ারে ফিরে যাবেন —এটা হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে।
আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের সামনে যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, তা সরকার বা বিরোধী দল কেউই যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারছে না। জনগণ ও বিরোধী দলগুলোর আস্থা ছাড়া সরকার কার্যকরভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময় রাজনৈতিক ঐক্য থাকলে জনগণের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হতো। কিন্তু বাস্তবে সেই ঐক্যের অভাব রয়েছে।
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, দলটি দীর্ঘদিন আন্দোলন করলেও জনগণের ব্যাপক সমর্থন পায়নি। মানুষের কাছে তাদের নেতৃত্বে আস্থার ঘাটতি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
নাহিদ আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে কার্যকর সমাধান না পাওয়ায় তাদের রাজপথে অবস্থান নিতে হচ্ছে। তবে এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার আহ্বান জানান।