ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

ছয় মাসে মন্দ ঋণ বেড়েছে ১৭৬৩ কোটি টাকা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০২:২০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২০
  • ৩১৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের বড় অংশই মন্দ মানে (কুঋণ) পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এ খাতে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৮৭ শতাংশই মন্দ মানের। এর পরিমাণ ৮৩ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। গত ছয় মাসে মন্দ ঋণ বেড়েছে প্রায় এক হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এর বাইরে অবলোপনকৃত (রাইট অফ) মন্দ ঋণ রয়েছে আরো ৪৪ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের মূল হিসাব থেকে এটা বাদ দেওয়া হয়েছে। সব মিলে আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে।

আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণ বেশি সরকারি ব্যাংকগুলোতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যথাযথ নিয়মাচার ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সর্বোত্তম পরিপালন না করে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করায় ঋণের বড় অংশই খেলাপি হয়ে একটা সময় আদায় অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এই মানের ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। এই ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর পরিচালন আয় কমে নিট মুনাফায় প্রভাব পড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো নিম্নমান, সন্দেহজনক ও মন্দ মান। অর্থাৎ সর্বশেষ ধাপের খেলাপি ঋণকে মন্দ বা ক্ষতিজনক বলে ধরা হয়। এটা ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ হিসেবেও বিবেচিত। এ জন্য এই ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। অপর দুটি পর্যায়ের মধ্যে সন্দেহজনক ঋণে ৫০ শতাংশ ও নিম্নমানের ঋণে ২০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হয়। সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, তদবির ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ বের করে নেওয়া হয়েছে। এখন ওই সব ঋণের একটা বড় অংশ খেলাপি হয়ে মন্দ মানে পরিণত হয়েছে।

মহামারি করোনার কারণে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ পরিশোধে ছাড় দেওয়ায় মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা কমে ৯২ হাজার ৫১০ কোটি টাকায় নেমে আসে। জুন প্রান্তিকে আবার খেলাপি ঋণ প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। এই খেলাপি ঋণের মধ্যে ৮৩ হাজার ৬৪২ কোটি টাকাই মন্দ মানের, যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৮৭ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে ৯৪ হাজার ৩১২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের মধ্যে মন্দ মানের খেলাপি ঋণ ছিল ৮১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। ফলে গত ছয় মাসের ব্যবধানে মন্দ মানের খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় এক হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্দ মানের খেলাপি ঋণের ৪৩ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকাই সরকারি ব্যাংকের। এ সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মন্দ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিদেশি আট ব্যাংকের এক হাজার ৯২৬ কোটি টাকা মন্দ ঋণে পরিণত হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

ছয় মাসে মন্দ ঋণ বেড়েছে ১৭৬৩ কোটি টাকা

আপডেট টাইম : ০২:২০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২০

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের বড় অংশই মন্দ মানে (কুঋণ) পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এ খাতে মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৮৭ শতাংশই মন্দ মানের। এর পরিমাণ ৮৩ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। গত ছয় মাসে মন্দ ঋণ বেড়েছে প্রায় এক হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এর বাইরে অবলোপনকৃত (রাইট অফ) মন্দ ঋণ রয়েছে আরো ৪৪ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের মূল হিসাব থেকে এটা বাদ দেওয়া হয়েছে। সব মিলে আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৭ হাজার ৯২২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠে আসে।

আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণ বেশি সরকারি ব্যাংকগুলোতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যথাযথ নিয়মাচার ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সর্বোত্তম পরিপালন না করে ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করায় ঋণের বড় অংশই খেলাপি হয়ে একটা সময় আদায় অযোগ্য হয়ে পড়ছে। এই মানের ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। এই ঋণের বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর পরিচালন আয় কমে নিট মুনাফায় প্রভাব পড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের তিনটি পর্যায় রয়েছে। এগুলো হলো নিম্নমান, সন্দেহজনক ও মন্দ মান। অর্থাৎ সর্বশেষ ধাপের খেলাপি ঋণকে মন্দ বা ক্ষতিজনক বলে ধরা হয়। এটা ব্যাংকের ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদ হিসেবেও বিবেচিত। এ জন্য এই ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে শতভাগ প্রভিশন রাখতে হয়। অপর দুটি পর্যায়ের মধ্যে সন্দেহজনক ঋণে ৫০ শতাংশ ও নিম্নমানের ঋণে ২০ শতাংশ প্রভিশন রাখতে হয়। সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, তদবির ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ বের করে নেওয়া হয়েছে। এখন ওই সব ঋণের একটা বড় অংশ খেলাপি হয়ে মন্দ মানে পরিণত হয়েছে।

মহামারি করোনার কারণে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ পরিশোধে ছাড় দেওয়ায় মার্চ প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা কমে ৯২ হাজার ৫১০ কোটি টাকায় নেমে আসে। জুন প্রান্তিকে আবার খেলাপি ঋণ প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ হাজার ১১৬ কোটি টাকা। এই খেলাপি ঋণের মধ্যে ৮৩ হাজার ৬৪২ কোটি টাকাই মন্দ মানের, যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৮৭ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে ৯৪ হাজার ৩১২ কোটি টাকা খেলাপি ঋণের মধ্যে মন্দ মানের খেলাপি ঋণ ছিল ৮১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। ফলে গত ছয় মাসের ব্যবধানে মন্দ মানের খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় এক হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্দ মানের খেলাপি ঋণের ৪৩ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকাই সরকারি ব্যাংকের। এ সময়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মন্দ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া বিদেশি আট ব্যাংকের এক হাজার ৯২৬ কোটি টাকা মন্দ ঋণে পরিণত হয়েছে।