ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৪, ৩০ কার্তিক ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান এক হওয়া নিয়ে ভারতে হুলস্থূল কাণ্ড

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:০১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫
  • ৩৫২ বার

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত মিলে একদিন আবার মানুষের ইচ্ছাতেই এক অখন্ড ভারত গড়ে তোলা সম্ভব – বিজেপির প্রভাবশালী নেতা রাম মাধব এই মন্তব্য করার পর দলের পক্ষ থেকে সেটাকে তার ব্যক্তিগত মত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বিজেপি এই বিতর্কিত মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরে রাখতে চাইলেও তাদের আদর্শিক অভিভাবক বলে পরিচিত বলে আরএসএস অবশ্য দাবি করছে ‘অখন্ড ভারত’ কোনও অবাস্তব কল্পনা নয়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা যায়। ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস আবার এই ভাবনা-কে ভারতের কূটনীতির জন্য চরম বিপর্যয় বলেই মনে করছে। কিন্তু কেন অখন্ড ভারত নিয়ে আচমকা এই বিতর্ক? আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলে অখন্ড ভারত নিয়ে মুখ খুলে যিনি তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন – বিজেপির সেই সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব দলের খুব ক্ষমতাশালী একজন নীতি-নির্ধারক হিসেবেই পরিচিত। বহু বছর আরএসএসের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করার পর কিছু কারণেই তাকে বিজেপিতে পাঠিয়েছে দল আর আরএসএসের মধ্যে সমন্বয় রাখার দায়িত্ব দিয়ে। এমন কী কাশ্মীরে পিডিপি-র সঙ্গে সমঝোতা কিংবা বাংলাদেশে বিএনপি-র সঙ্গে দলের যোগাযোগও সামলান তিনি। এহেন রাম মাধবকেই জিজ্ঞেস করা হয়েছিল অখন্ড ভারত নিয়ে এখন আরএসএসের মনোভাব কী? উত্তরে তিনি স্পষ্ট বলেন মাত্র ৬০ বছর আগে ঐতিহাসিক কারণে যে ভৌগোলিক ভূখন্ডগুলো আলাদা হয়েছিল, আরএসএস বিশ্বাস করে মানুষের ইচ্ছাতেই তা আবার এক হয়ে অখন্ড ভারত গড়ে উঠতে পারে। তিনি আরও বলেন, `একজন আরএসএস সদস্য হিসেবে আমিও তা মনে করি। তবে তার মানে এই নয় যে এর জন্য আমরা কোনও দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব বা কোনও দেশ দখল করে নেব। ` সপ্তাহ তিনেক আগে রেকর্ড করা এই সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পরই তা নিয়ে হইচই পড়ে যায়। ঘটনাচক্রে ঠিক সে সময়ই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আচমকা পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন। তাই অনেকেই বলতে শুরু করেন মি. মোদির উদ্যোগকে ভেস্তে দিতেই আরএসএস এমন একটা অন্তর্ঘাতমূলক মন্তব্য করেছে। মি. মাধব নিজে সাফাই দিয়ে বলেন, ইন্টারভিউটা অনেক আগে রেকর্ড করা। আর এরপর বিজেপি-র পক্ষ থেকে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল অখন্ড ভারতের প্রশ্নে সরকারের অবস্থান কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। দলের জাতীয় মুখপাত্র এম জে আকবর বলেন, `ভারত ও পাকিস্তান কিন্তু দুটো সার্বভৌম দেশ হিসেবেই পরস্পরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে থাকে – আর সেটাই বাস্তব। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীজি লাহোর গিয়েও ঠিক এ কথাটাই বলেছিলেন। রাম মাধবের কোনও ব্যক্তিগত মত থাকতেই পারে, কিন্তু আমি মনে করি না সরকারের অবস্থান নিয়ে এখানে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়ার দরকার আছে।` বিজেপি দূরত্ব বজায় রাখতে চাইলেও কেন রাম মাধব এ কথা বললেন তা নিয়ে অবশ্য তুমুল জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। বিজেপির শরিক ও ক্যাবিনেট মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ানও এর মধ্যে বলে ফেলেছেন, অখন্ড ভারত খুবই সম্ভব। আবার আরএসএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে অখন্ড ভারত আসলে একটা কালচারাল কনসেপ্ট বা সাংস্কৃতিক ভাবনা – রাজনৈতিক নয়। সঙ্ঘের প্রবীণ নেতা এমজি বৈদ্যর কথায়, `ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একদিন আবার জুড়তেই পারে – ইতিহাসে এর অনেক দৃষ্টান্ত আছে। দুই জার্মানি একদিন এক হয়েছে, ভিয়েতনাম দু`ভাগ হয়েও আবার জুড়েছে, অনেকে দুই কোরিযারও মিলন চান। ফলে ভারতও কেন নয়? কিন্তু আমি মনে করি এখানে পদক্ষেপটা নিতে হবে মুসলিমদের – বিশেষ করে ভারতীয় মুসলিমদের।` কংগ্রেস নেতা মনীশ তিওয়ারি যদিও মনে করছেন অখন্ড ভারতের প্রসঙ্গ তুললে সেটা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে শুধু দক্ষিণপন্থী শক্তি বা মৌলবাদীদেরই উস্কানি দেবে। ফলে তার মতে ভারতের কূটনীতির জন্য এর চেয়ে খারাপ কিছু আর হতে পারে না। সারা ভারত জুড়ে আরএসএসের অজস্র শাখায় প্রভাতী অনুশীলনের সময় আজও অখন্ড ভারতেরই জয়গান গাওয়া হয়। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মিলন যতই অবাস্তব ও অসম্ভব শোনাক – সঙ্ঘের নেতারা এখনও যে সেই স্বপ্নে বিভোর, রাম মাধবের সাক্ষাৎকার সেটাই আরও একবার সামনে এনে দিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান এক হওয়া নিয়ে ভারতে হুলস্থূল কাণ্ড

আপডেট টাইম : ১১:০১:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫

বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত মিলে একদিন আবার মানুষের ইচ্ছাতেই এক অখন্ড ভারত গড়ে তোলা সম্ভব – বিজেপির প্রভাবশালী নেতা রাম মাধব এই মন্তব্য করার পর দলের পক্ষ থেকে সেটাকে তার ব্যক্তিগত মত বলে বর্ণনা করা হয়েছে। বিজেপি এই বিতর্কিত মন্তব্য থেকে নিজেদের দূরে রাখতে চাইলেও তাদের আদর্শিক অভিভাবক বলে পরিচিত বলে আরএসএস অবশ্য দাবি করছে ‘অখন্ড ভারত’ কোনও অবাস্তব কল্পনা নয়। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা যায়। ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস আবার এই ভাবনা-কে ভারতের কূটনীতির জন্য চরম বিপর্যয় বলেই মনে করছে। কিন্তু কেন অখন্ড ভারত নিয়ে আচমকা এই বিতর্ক? আল-জাজিরা টেলিভিশন চ্যানেলে অখন্ড ভারত নিয়ে মুখ খুলে যিনি তোলপাড় ফেলে দিয়েছেন – বিজেপির সেই সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব দলের খুব ক্ষমতাশালী একজন নীতি-নির্ধারক হিসেবেই পরিচিত। বহু বছর আরএসএসের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করার পর কিছু কারণেই তাকে বিজেপিতে পাঠিয়েছে দল আর আরএসএসের মধ্যে সমন্বয় রাখার দায়িত্ব দিয়ে। এমন কী কাশ্মীরে পিডিপি-র সঙ্গে সমঝোতা কিংবা বাংলাদেশে বিএনপি-র সঙ্গে দলের যোগাযোগও সামলান তিনি। এহেন রাম মাধবকেই জিজ্ঞেস করা হয়েছিল অখন্ড ভারত নিয়ে এখন আরএসএসের মনোভাব কী? উত্তরে তিনি স্পষ্ট বলেন মাত্র ৬০ বছর আগে ঐতিহাসিক কারণে যে ভৌগোলিক ভূখন্ডগুলো আলাদা হয়েছিল, আরএসএস বিশ্বাস করে মানুষের ইচ্ছাতেই তা আবার এক হয়ে অখন্ড ভারত গড়ে উঠতে পারে। তিনি আরও বলেন, `একজন আরএসএস সদস্য হিসেবে আমিও তা মনে করি। তবে তার মানে এই নয় যে এর জন্য আমরা কোনও দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব বা কোনও দেশ দখল করে নেব। ` সপ্তাহ তিনেক আগে রেকর্ড করা এই সাক্ষাৎকার প্রচারিত হওয়ার পরই তা নিয়ে হইচই পড়ে যায়। ঘটনাচক্রে ঠিক সে সময়ই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আচমকা পাকিস্তান সফরে গিয়েছিলেন। তাই অনেকেই বলতে শুরু করেন মি. মোদির উদ্যোগকে ভেস্তে দিতেই আরএসএস এমন একটা অন্তর্ঘাতমূলক মন্তব্য করেছে। মি. মাধব নিজে সাফাই দিয়ে বলেন, ইন্টারভিউটা অনেক আগে রেকর্ড করা। আর এরপর বিজেপি-র পক্ষ থেকে এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হল অখন্ড ভারতের প্রশ্নে সরকারের অবস্থান কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। দলের জাতীয় মুখপাত্র এম জে আকবর বলেন, `ভারত ও পাকিস্তান কিন্তু দুটো সার্বভৌম দেশ হিসেবেই পরস্পরের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে থাকে – আর সেটাই বাস্তব। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ীজি লাহোর গিয়েও ঠিক এ কথাটাই বলেছিলেন। রাম মাধবের কোনও ব্যক্তিগত মত থাকতেই পারে, কিন্তু আমি মনে করি না সরকারের অবস্থান নিয়ে এখানে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়ার দরকার আছে।` বিজেপি দূরত্ব বজায় রাখতে চাইলেও কেন রাম মাধব এ কথা বললেন তা নিয়ে অবশ্য তুমুল জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। বিজেপির শরিক ও ক্যাবিনেট মন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ানও এর মধ্যে বলে ফেলেছেন, অখন্ড ভারত খুবই সম্ভব। আবার আরএসএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে অখন্ড ভারত আসলে একটা কালচারাল কনসেপ্ট বা সাংস্কৃতিক ভাবনা – রাজনৈতিক নয়। সঙ্ঘের প্রবীণ নেতা এমজি বৈদ্যর কথায়, `ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একদিন আবার জুড়তেই পারে – ইতিহাসে এর অনেক দৃষ্টান্ত আছে। দুই জার্মানি একদিন এক হয়েছে, ভিয়েতনাম দু`ভাগ হয়েও আবার জুড়েছে, অনেকে দুই কোরিযারও মিলন চান। ফলে ভারতও কেন নয়? কিন্তু আমি মনে করি এখানে পদক্ষেপটা নিতে হবে মুসলিমদের – বিশেষ করে ভারতীয় মুসলিমদের।` কংগ্রেস নেতা মনীশ তিওয়ারি যদিও মনে করছেন অখন্ড ভারতের প্রসঙ্গ তুললে সেটা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে শুধু দক্ষিণপন্থী শক্তি বা মৌলবাদীদেরই উস্কানি দেবে। ফলে তার মতে ভারতের কূটনীতির জন্য এর চেয়ে খারাপ কিছু আর হতে পারে না। সারা ভারত জুড়ে আরএসএসের অজস্র শাখায় প্রভাতী অনুশীলনের সময় আজও অখন্ড ভারতেরই জয়গান গাওয়া হয়। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মিলন যতই অবাস্তব ও অসম্ভব শোনাক – সঙ্ঘের নেতারা এখনও যে সেই স্বপ্নে বিভোর, রাম মাধবের সাক্ষাৎকার সেটাই আরও একবার সামনে এনে দিল।