ঢাকা ০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কে এই আরমান

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৮:২৯:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ অক্টোবর ২০১৯
  • ২৭৬ বার

তিনি ক্যাসিনো বাণিজ্যের মূল হোতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের গুরু। বিদেশের আদলে ঢাকায় ক্যাসিনো গড়তে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তিনিই। তার কাছ থেকেই সম্রাট আয়ত্ত করেছেন ক্যাসিনো বাণিজ্য। এই ক্যাসিনো গুরুর নাম এনামুল হক আরমান। নানাভাবে পরিচিত তিনি। যুবলীগ নেতা, চলচ্চিত্র প্রযোজক। নারী ও মদে বুঁদ হয়ে থাকেন তিনি। মদ্যপ অবস্থাতেই সম্রাটের সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে চাঞ্চর‌্যকর তথ্য দিয়েছে আরমান। এক সময় সিঙ্গাপুর থেকে লাগেজ আনার কাজ করতেন আরমান। এ সূত্রেই পরিচয় ক্যাসিনোর সঙ্গে। ক্রমেই জুয়ার এই বাণিজ্যে গুরু হয়ে উঠেন তিনি। পরবর্তীতে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে এই ব্যবসার ধারণা দেন আরমান। দ্রুতই ঢাকা ও আশপাশে গড়ে তোলা হয় ক্যাসিনো। সম্রাট বাস্তবেই হয়ে যান ক্যাসিনো জগতের সম্রাট। ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি আরমান এখন সম্রাটের ক্যাসিনোর টাকার সংগ্রাহক তথা ক্যাশিয়ার। তবে ক্যাসিনো কারবারে আরমানকে গুরু বলে মানেন সম্রাট। এছাড়া আরমান চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। সমপ্রতি জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খানকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেখে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তিনি লগ্নি করেছেন কয়েক কোটি টাকা। নিজেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খোলেন। ‘দেশ বাংলা মাল্টিমিডিয়া’ নামের চলচ্চিত্র প্রোডাকশন হাউসের প্রধান কর্ণধার আরমান।
গত ঈদুল আযহায় মুক্তি পাওয়া শাকিব খান ও বুবলী অভিনীত ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ সিনেমাটির প্রযোজক আরমান। এটি আরমানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রথম ফিল্ম। এরপর শাকিব খানের বিপরীতে নবাগতা এক নায়িকাকে নিয়ে ‘আগুন’ নামের দ্বিতীয় ফিল্মের কাজও শুরু হয় আরমানের প্রযোজনায়। রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের সঙ্গে আরমানও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এর আগে রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন সম্রাটের ডান হাত হিসেবে পরিচিত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপরই ধরা পড়েন রাজধানীর টেন্ডার কিং আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। এ দ’ুজনই অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেপ্তার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

কে এই আরমান

আপডেট টাইম : ০৮:২৯:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ অক্টোবর ২০১৯

তিনি ক্যাসিনো বাণিজ্যের মূল হোতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটের গুরু। বিদেশের আদলে ঢাকায় ক্যাসিনো গড়তে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন তিনিই। তার কাছ থেকেই সম্রাট আয়ত্ত করেছেন ক্যাসিনো বাণিজ্য। এই ক্যাসিনো গুরুর নাম এনামুল হক আরমান। নানাভাবে পরিচিত তিনি। যুবলীগ নেতা, চলচ্চিত্র প্রযোজক। নারী ও মদে বুঁদ হয়ে থাকেন তিনি। মদ্যপ অবস্থাতেই সম্রাটের সঙ্গে তাকেও গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে চাঞ্চর‌্যকর তথ্য দিয়েছে আরমান। এক সময় সিঙ্গাপুর থেকে লাগেজ আনার কাজ করতেন আরমান। এ সূত্রেই পরিচয় ক্যাসিনোর সঙ্গে। ক্রমেই জুয়ার এই বাণিজ্যে গুরু হয়ে উঠেন তিনি। পরবর্তীতে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে এই ব্যবসার ধারণা দেন আরমান। দ্রুতই ঢাকা ও আশপাশে গড়ে তোলা হয় ক্যাসিনো। সম্রাট বাস্তবেই হয়ে যান ক্যাসিনো জগতের সম্রাট। ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি আরমান এখন সম্রাটের ক্যাসিনোর টাকার সংগ্রাহক তথা ক্যাশিয়ার। তবে ক্যাসিনো কারবারে আরমানকে গুরু বলে মানেন সম্রাট। এছাড়া আরমান চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেন। সমপ্রতি জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খানকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রেখে দুটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তিনি লগ্নি করেছেন কয়েক কোটি টাকা। নিজেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খোলেন। ‘দেশ বাংলা মাল্টিমিডিয়া’ নামের চলচ্চিত্র প্রোডাকশন হাউসের প্রধান কর্ণধার আরমান।
গত ঈদুল আযহায় মুক্তি পাওয়া শাকিব খান ও বুবলী অভিনীত ‘মনের মতো মানুষ পাইলাম না’ সিনেমাটির প্রযোজক আরমান। এটি আরমানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের প্রথম ফিল্ম। এরপর শাকিব খানের বিপরীতে নবাগতা এক নায়িকাকে নিয়ে ‘আগুন’ নামের দ্বিতীয় ফিল্মের কাজও শুরু হয় আরমানের প্রযোজনায়। রোববার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রাম থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের সঙ্গে আরমানও গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এর আগে রাজধানীতে ক্লাব ব্যবসার আড়ালে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন সম্রাটের ডান হাত হিসেবে পরিচিত যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। এরপরই ধরা পড়েন রাজধানীর টেন্ডার কিং আরেক যুবলীগ নেতা জি কে শামীম। এ দ’ুজনই অবৈধ আয়ের ভাগ দিতেন সম্রাটকে। তারা গ্রেপ্তার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো সাম্রাজ্য নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।