ঢাকা ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অস্তিত্বসংকটে বুড়িগঙ্গা ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রবাস থেকে যত প্রতিরোধ মেঘনার এক ইলিশ বিক্রি হলো ১০ হাজার টাকায় মাওলানা মাহমুদ মাদানী ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ মানবতা ও ভারতের নৈতিক মর্যাদার জন্য কলঙ্ক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ৫ আগস্ট সংবাদপত্রে ছুটি বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে কাজ করবে আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট : সেনাপ্রধান শেখ হাসিনা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে: দিনেশ ত্রিবেদীকে হুমায়ুন কবির

যৌনকর্মী তৈরি করে পুলিশ, অভিযোগ নির্যাতিত যৌনকর্মীদের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:১৬:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০১৫
  • ৪৩৬ বার

অনেক বছর ধরে নিগৃহীত নির্যাতিত যশোরের যৌনপল্লীর যৌনকর্মীরা। পুলিশের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস ছিল না এতদিন তাদের। পুলিশের এক টিএসআই’র বদলীর পর নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে বলার সাহস পেল তারা।

সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে নিষ্পেষণ ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন যৌনকর্মীরা।

যৌনকর্মীদের অভিযোগ, প্রতিদিন তারা শরীর বিক্রির টাকায় ভাগ বসায় পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা। সদর ফাঁড়ির প্রাক্তন টিএসআই রফিক তাদের অন্যতম। নানা কায়দায় অত্যাচার নির্যাতন করে লাখ লাখ এই টাকা আদায় করতো এই পুলিশ কর্মকর্তা। প্রতিনিয়ত পুলিশের ওই কর্মকর্তার নির্যাতনের শিকার হয়েছে অনেকে। কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

যৌনকর্মী সোনিয়া বলেন, আমাদের কাছে নতুন কোনো মেয়ে এলে, তাকে প্রথমে ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা রাখার অনুমতি দিলেই আমরা রাখি। এজন্য তারা ৫০/৬০ হাজার টাকা নেয়। তাই যৌনকর্মী তৈরি করে পুলিশ, আমরা না।

সোনিয়া আরও অভিযোগ করেন, যশোরের যৌনপল্লীর নাইটগার্ড আবুল কাশেম ও তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম তার নিজ ঘরে টিয়া নামের একটি মেয়েকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করতো। ওই মেয়েটির পরিবার তার সন্ধান পেয়ে র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দেয়। এরপর র‌্যাবের অভিযানে মেয়েটি উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় কাসেম, রাবেয়া, আঞ্জু, ডলি ও হিরার নামে মামলা হয়। এর বাইরে কাউকে আসামি করা হয়নি।

কিন্তু হঠাৎ গত ২৯ অক্টোবর সদর ফাঁড়ির প্রাক্তন টিএসআই রফিক যশোরে এসে যৌনকর্মী সোনিয়া ও স্বপ্নাকে ডেকে পাঠায়। তাদের কাছে রফিক ৩ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করে।

সোনিয়া আরও উল্লেখ করেন, সদর ফাঁড়ির টিএসআই দায়িত্বে থাকাকালীন যৌনপল্লীতে কোনো নতুন মেয়ে এলে রফিককে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হতো। কিন্তু আগে ৫-১০ হাজার টাকায় রফা হতো। যৌনকর্মীদের কাছ থেকে সে নিয়মিত প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা করে উৎকোচ আদায় করেছে। রফিকের উৎকোচের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে আমরা খরিদ্দারের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২০টাকা আদায় করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত টিএসআই রফিকের নির্যাতনের শিকার ১০-১২জন যৌন কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

বৃহত্তর ময়মনসিংহের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

যৌনকর্মী তৈরি করে পুলিশ, অভিযোগ নির্যাতিত যৌনকর্মীদের

আপডেট টাইম : ১১:১৬:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০১৫

অনেক বছর ধরে নিগৃহীত নির্যাতিত যশোরের যৌনপল্লীর যৌনকর্মীরা। পুলিশের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস ছিল না এতদিন তাদের। পুলিশের এক টিএসআই’র বদলীর পর নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে বলার সাহস পেল তারা।

সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করে নিষ্পেষণ ও নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন যৌনকর্মীরা।

যৌনকর্মীদের অভিযোগ, প্রতিদিন তারা শরীর বিক্রির টাকায় ভাগ বসায় পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তা। সদর ফাঁড়ির প্রাক্তন টিএসআই রফিক তাদের অন্যতম। নানা কায়দায় অত্যাচার নির্যাতন করে লাখ লাখ এই টাকা আদায় করতো এই পুলিশ কর্মকর্তা। প্রতিনিয়ত পুলিশের ওই কর্মকর্তার নির্যাতনের শিকার হয়েছে অনেকে। কিন্তু ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়নি।

যৌনকর্মী সোনিয়া বলেন, আমাদের কাছে নতুন কোনো মেয়ে এলে, তাকে প্রথমে ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা রাখার অনুমতি দিলেই আমরা রাখি। এজন্য তারা ৫০/৬০ হাজার টাকা নেয়। তাই যৌনকর্মী তৈরি করে পুলিশ, আমরা না।

সোনিয়া আরও অভিযোগ করেন, যশোরের যৌনপল্লীর নাইটগার্ড আবুল কাশেম ও তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম তার নিজ ঘরে টিয়া নামের একটি মেয়েকে দিয়ে দেহ ব্যবসা করতো। ওই মেয়েটির পরিবার তার সন্ধান পেয়ে র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দেয়। এরপর র‌্যাবের অভিযানে মেয়েটি উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় কাসেম, রাবেয়া, আঞ্জু, ডলি ও হিরার নামে মামলা হয়। এর বাইরে কাউকে আসামি করা হয়নি।

কিন্তু হঠাৎ গত ২৯ অক্টোবর সদর ফাঁড়ির প্রাক্তন টিএসআই রফিক যশোরে এসে যৌনকর্মী সোনিয়া ও স্বপ্নাকে ডেকে পাঠায়। তাদের কাছে রফিক ৩ লাখ টাকা উৎকোচ দাবি করে।

সোনিয়া আরও উল্লেখ করেন, সদর ফাঁড়ির টিএসআই দায়িত্বে থাকাকালীন যৌনপল্লীতে কোনো নতুন মেয়ে এলে রফিককে ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হতো। কিন্তু আগে ৫-১০ হাজার টাকায় রফা হতো। যৌনকর্মীদের কাছ থেকে সে নিয়মিত প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা করে উৎকোচ আদায় করেছে। রফিকের উৎকোচের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে আমরা খরিদ্দারের কাছ থেকে অতিরিক্ত ২০টাকা আদায় করেছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত টিএসআই রফিকের নির্যাতনের শিকার ১০-১২জন যৌন কর্মী উপস্থিত ছিলেন।