হাওর বার্তা ডেস্কঃ আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচারণায় জমে উঠেছে ভোটের লড়াই। টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে প্রার্থী-সমর্থকদের মাঝে। চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সরব পদচারণায় মুখর এখন কটিয়াদীর ব্যস্ত শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম।
কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তানিয়া সুলতানা হ্যাপী (নৌকা), আওয়ামী লীগের তিন বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর (দোয়াত-কলম), ডা. মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (ঘোড়া) ও আলতাফ উদ্দীন (মোটর সাইকেল), স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার আনার (আনারস) এবং জাকের পার্টির প্রার্থী শহীদুজ্জামান স্বপন (গোলাপ ফুল) বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের মন জয় করতে প্রার্থীরা দিন-রাত ভোট চাওয়াসহ বিভিন্ন কৌশলে প্রচারণা-গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
এর আগে নানা অনিয়মের অভিযোগে গত ২৪ মার্চ ভোটের দিন কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। তবে এবার আর হয়তো সেরকম হবে না বলে ভোটারেরা মনে করছেন।
তাদের মতে, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের তিন বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর (দোয়াত-কলম), ডা. মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (ঘোড়া) ও আলতাফ উদ্দীন (মোটর সাইকেল) মাঠে তৎপর থাকায় কঠিন চ্যালেঞ্জে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তানিয়া সুলতানা হ্যাপী (নৌকা)।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন আলী আকবর বলেন, জন্ম থেকে আওয়ামী লীগ করে আসছি। তাই প্রতিটি ভোটারের কাছে গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এর আগেও আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। এলাকার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও গ্রামের আমাকে সৎ ও ত্যাগী কর্মী হিসেবে চিনেন।
তিনি বলেন, আমি আজন্ম আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ কর্মী এবং বঙ্গবন্ধুর অনুসারী। আমার রাজনৈতিক আদর্শ ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। সাবেক এই উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭৫ পরবর্তী কঠিন সময়ে দিনরাত খেয়ে না খেয়ে, ঘুমিয়ে না ঘুমিয়ে শুধু বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করেছি। তিনি আরো বলেন, দলের প্রত্যেকটি নেতাকর্মী আমার সাথে আছে। তারা আমার জন্য খেয়ে না খেয়ে অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সুতরাং আমার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
অপরদিকে আরেক প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত ডা. মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান গণসংযোগে ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তিনি শুধু জানিয়েছেন, কর্মীদের নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি-গণসংযোগ করছি। আশা করছি সফল হবো।
তবে নৌকার প্রার্থী তানিয়া সুলতানা হ্যাপী জানিয়েছেন, সকাল-বিকাল ও রমজানে মধ্যরাতে কটিয়াদী উপজেলার নৌকার সমর্থক প্রতিটি নেতাকর্মীর বাড়িতে বাড়িতে গণসংযোগ করেছি। তারা সবাই আমাকেই (নৌকা) ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে। নৌকার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না বলেও জানান তিনি।
তানিয়া সুলতানা হ্যাপী আওয়ামী যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে বলেও দাবি করেন এই প্রার্থী।
কটিয়াদী উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৩ হাজার ৬১৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ৮২২ জন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন।
চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা হলেন, আওয়ামী লীগ প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক তানিয়া সুলতানা হ্যাপী (নৌকা), জাকের পার্টির প্রার্থী শহীদুজ্জামান স্বপন (গোলাপ ফুল), আওয়ামী লীগের তিন বিদ্রোহী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়ন মো. আলী আকবর (দোয়াত-কলম), আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলতাফ উদ্দীন (মোটর সাইকেল) ও ডা. মোহাম্মদ মুশতাকুর রহমান (ঘোড়া) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার আনার (আনারস)। কটিয়াদী উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ প্রার্থী হলেন, রেজাউল করিম শিকদার (তালা), মো. বকুল মিঞা (টিউবওয়েল), সদরুল হক (বৈদ্যুতিক বাল্ব), মজিবুর রহমান (টিয়া পাখি), মো. কামরুজ্জামান (মাইক) এবং মো. আবুল কালাম (উড়োজাহাজ)।
কটিয়াদী উপজেলায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩ প্রার্থী হলেন, সাথী বেগম (কলস), রোকসানা (ফুটবল) এবং মোসা. নওরীন সুলতানা (হাঁস)।
Reporter Name 
























