ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি ভূমিকম্প মোকাবেলায় রাজধানীর ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত: ত্রাণমন্ত্রী এক বছরে ওরাকলের ১৩ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই সাঁথিয়ায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি আমার স্বামী না: চিত্রনায়িকা ববি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর রিজার্ভে চাপ বাড়ছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ মেসি সবসময়ই গোল করবে, আমি শুধু আমার দলকে জেতাতে চাই : কিলিয়ান এমবাপ্পে রাষ্ট্রীয় নিয়োগে ব্যক্তির মেধা, সততা, দেশপ্রেম ও কর্মনিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ: অ্যাটর্নি জেনারেল তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লিতে বাধা দেওয়ার বিষয়ে মুখ খুলল ভারত

ধার করে করে বই পড়ে জিপিএ-৫ নাসরিনের

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:০০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০১৯
  • ৩৯০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ অভাবের কারণে সব সময় বই কেনার সামর্থ্য হতো না ঢাকার কেরানীগঞ্জের নাসরিন আক্তারের। সহপাঠীদের কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে। এর ফলও পেয়েছে। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

নাসরিনের বাবা মান্নান মৃধা দিনমজুর। নাসরিনেরা দুই বোন, এক ভাই। স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে মান্নানকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে প্রায় তিন বছর আগে তিনি মেয়েকে বলেন, ‘আমার পক্ষে সংসারের খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারলে পড়ো, নইলে নয়।’ এরপর থেকে নাসরিন দুই বেলা টিউশনি শুরু করে। নিজের টাকায় নিজের পড়াশোনার খরচ চালায়। কেরানীগঞ্জের জিনজিরা পীর মোহাম্মদ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আমার স্বপ্ন আমি ভালোভাবে লেখাপড়া করে চিকিৎসক হব। আমার স্বপ্নকে বাস্তবায়নে আমি পড়ালেখার পাশাপাশি টিউশনি করে আমার খরচ চালিয়েছি। টাকার অভাবে বই কিনতে পারিনি। সহপাঠীদের কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে গেছি। আমার বাবা দিনমজুর। তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আমাকে বিনা বেতন পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

ক্লাস শেষে আমাকে আলাদাভাবে পড়িয়েছেন। আমি ভালো ফলাফল করেছি, কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হতে যে টাকার প্রয়োজন সেই টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার পরিবারের নেই।’

জিনজিরা পীর মোহাম্মদ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান বলেন, ‘নাসরিন আক্তার ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায় সাধারণ বৃত্তি পাওয়ার পর সে আমাদের নজরে আসে। এরপর থেকে তার লেখাপড়ার প্রতি আমরা মনোযোগ দিই। দরিদ্র তহবিল থেকে বিনা বেতনে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। সে ভালো ফলাফল করেছে। অর্থের অভাবে যেন নাসরিনের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে না যায়।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দি

ধার করে করে বই পড়ে জিপিএ-৫ নাসরিনের

আপডেট টাইম : ০৪:০০:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ মে ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ অভাবের কারণে সব সময় বই কেনার সামর্থ্য হতো না ঢাকার কেরানীগঞ্জের নাসরিন আক্তারের। সহপাঠীদের কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে গেছে সে। এর ফলও পেয়েছে। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

নাসরিনের বাবা মান্নান মৃধা দিনমজুর। নাসরিনেরা দুই বোন, এক ভাই। স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে মান্নানকে প্রতিনিয়ত হিমশিম খেতে হয়। তাই বাধ্য হয়ে প্রায় তিন বছর আগে তিনি মেয়েকে বলেন, ‘আমার পক্ষে সংসারের খরচ জোগানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারলে পড়ো, নইলে নয়।’ এরপর থেকে নাসরিন দুই বেলা টিউশনি শুরু করে। নিজের টাকায় নিজের পড়াশোনার খরচ চালায়। কেরানীগঞ্জের জিনজিরা পীর মোহাম্মদ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

নাসরিন আক্তার বলেন, ‘আমার স্বপ্ন আমি ভালোভাবে লেখাপড়া করে চিকিৎসক হব। আমার স্বপ্নকে বাস্তবায়নে আমি পড়ালেখার পাশাপাশি টিউশনি করে আমার খরচ চালিয়েছি। টাকার অভাবে বই কিনতে পারিনি। সহপাঠীদের কাছ থেকে বই ধার নিয়ে পড়ালেখা চালিয়ে গেছি। আমার বাবা দিনমজুর। তাই বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আমাকে বিনা বেতন পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।

ক্লাস শেষে আমাকে আলাদাভাবে পড়িয়েছেন। আমি ভালো ফলাফল করেছি, কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হতে যে টাকার প্রয়োজন সেই টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমার পরিবারের নেই।’

জিনজিরা পীর মোহাম্মদ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান বলেন, ‘নাসরিন আক্তার ২০১৭ সালে জেএসসি পরীক্ষায় সাধারণ বৃত্তি পাওয়ার পর সে আমাদের নজরে আসে। এরপর থেকে তার লেখাপড়ার প্রতি আমরা মনোযোগ দিই। দরিদ্র তহবিল থেকে বিনা বেতনে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। সে ভালো ফলাফল করেছে। অর্থের অভাবে যেন নাসরিনের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে না যায়।’