ঢাকা ০৮:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন নেতৃত্ব আসছে বিএনপিতে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০১৯
  • ৩২৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আমূল পাল্টে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্ব। অবশেষে তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী দলের অসুস্থ, প্রবীণদের অলংকার করে, মূল নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে দলে অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং সক্রিয়দের হাতে। ঈদের পর নাটকীয় ভাবে দলের বিশেষ কাউন্সিল ডাকা হতে পারে। গোপনে তার প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে। বিএনপি`র একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, তারেক জিয়া প্রতিদিনই দলের বিভিন্ন জেলার তৃণমূলের সঙ্গে কথা বলছেন। দলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে তৃণমূলের মতামত নিচ্ছেন।

তারেক জিয়ার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স আলাপ করা বিএনপির একজন নেতা বলেছেন,‘ চমকে দেওয়ার মতো পরিবর্তন আসছে বিএনপিতে। নতুন নেতৃত্বে নতুন করে আন্দোলন শুরু করবে।’ বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে তারেক জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব পরিবর্তনে আওয়ামী লীগের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। দলের অসুস্থ এবং দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে একবারে দল থেকে বাদ দেওয়া হবে না। বরং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদটিকে পাল্টে প্রবীণদের এই পথটি দেওয়া হবে। আর দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটিতে থাকা হবে সক্রিয় এবং তরুণদের।

বিএনপি`র একাধিক নেতা বলেছেন তারেক জিয়া নতুন আঙ্গিকে বিএনপিকে সাজাতে চান জন্যই বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এজন্যই তিনি মেয়ের ব্যাপারে সক্রিয় নয়। একটি সূত্র বলছে, অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতে আটক সালাউদ্দিন আহমেদকে মহাসচিব করার ব্যাপারে আগ্রহী তারেক। কিন্তু আইনি জটিলতায় তার দেশে ফেরা অনিশ্চিত। এক্ষেত্রে তার দেশে ফেরা বিলম্বিত হলে রুহুল কবির রিজভীকে মন্দের ভালো হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন তৃণমূলের দারুণ জনপ্রিয় রিজভী।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চেয়ারপার্সনের পর দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা হল স্থায়ী কমিটি। মূলত স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে দল পরিচালিত হয়। এজন্য স্থায়ী কমিটিতে সিনিয়র অপেক্ষাকৃত তরুণদের আনতে চাইছেন। তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে স্কাইপ বৈঠকে যে নামগুলো বিএনপি`র আগামী নেতৃত্বের জন্য ঘুরে ফিরে এসেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নওশাদ জমির, তাবিথ আউয়াল, নিতাই রায় (গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ছেলে), মীর হেলাল উদ্দিন, শামা ওবায়েদ, হাবিবুন্নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এনি, রুমিন ফারহানা, নাসির উদ্দিন অসীম প্রমুখ। তারেকের সঙ্গে স্কাইপ আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকজন অবশ্য দাবি করেছেন যে তারেক জিয়া এই নামগুলো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের জিজ্ঞেস করেছেন। বলেছেন, এরা নেতৃত্বে আসলে কেমন হবে, আপনাদের মত কি? ইত্যাদি।

বিএনপি`র একজন নেতা বলেছেন, তারেক জিয়ার একটা পরিকল্পনা আছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী সে একটা কমিটির অবয়ব তৈরি করেছে। এখন সে এই নামগুলো তৃণমূলের কাছে বলছে, যেন তৃণমূল এই নাম গুলোর ব্যাপারে আপত্তি না করে। বিএনপি`র একজন নেতা বলেছেন,‘ তারেক এখন তার মাকে মাইনাস করেছে। তার মত করে সে বিএনপিকে সাজাতে চাইছে, এখনই সারাদেশে কথা বলছে, নতুন নেতৃত্বে নিয়ে যেন দলে কোন বিরোধ না হয় সেজন্য এই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারেক’।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন নেতৃত্ব আসছে বিএনপিতে

আপডেট টাইম : ১২:২৬:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ মে ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ আমূল পাল্টে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্ব। অবশেষে তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী দলের অসুস্থ, প্রবীণদের অলংকার করে, মূল নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে দলে অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং সক্রিয়দের হাতে। ঈদের পর নাটকীয় ভাবে দলের বিশেষ কাউন্সিল ডাকা হতে পারে। গোপনে তার প্রস্তুতি চালানো হচ্ছে। বিএনপি`র একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, তারেক জিয়া প্রতিদিনই দলের বিভিন্ন জেলার তৃণমূলের সঙ্গে কথা বলছেন। দলের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে তৃণমূলের মতামত নিচ্ছেন।

তারেক জিয়ার সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স আলাপ করা বিএনপির একজন নেতা বলেছেন,‘ চমকে দেওয়ার মতো পরিবর্তন আসছে বিএনপিতে। নতুন নেতৃত্বে নতুন করে আন্দোলন শুরু করবে।’ বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে তারেক জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব পরিবর্তনে আওয়ামী লীগের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছে। দলের অসুস্থ এবং দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে একবারে দল থেকে বাদ দেওয়া হবে না। বরং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদটিকে পাল্টে প্রবীণদের এই পথটি দেওয়া হবে। আর দলের মহাসচিবসহ স্থায়ী কমিটিতে থাকা হবে সক্রিয় এবং তরুণদের।

বিএনপি`র একাধিক নেতা বলেছেন তারেক জিয়া নতুন আঙ্গিকে বিএনপিকে সাজাতে চান জন্যই বিএনপির নির্বাচিতদের শপথ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এজন্যই তিনি মেয়ের ব্যাপারে সক্রিয় নয়। একটি সূত্র বলছে, অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতে আটক সালাউদ্দিন আহমেদকে মহাসচিব করার ব্যাপারে আগ্রহী তারেক। কিন্তু আইনি জটিলতায় তার দেশে ফেরা অনিশ্চিত। এক্ষেত্রে তার দেশে ফেরা বিলম্বিত হলে রুহুল কবির রিজভীকে মন্দের ভালো হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন তৃণমূলের দারুণ জনপ্রিয় রিজভী।

বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চেয়ারপার্সনের পর দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা হল স্থায়ী কমিটি। মূলত স্থায়ী কমিটির মাধ্যমে দল পরিচালিত হয়। এজন্য স্থায়ী কমিটিতে সিনিয়র অপেক্ষাকৃত তরুণদের আনতে চাইছেন। তৃণমূল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে স্কাইপ বৈঠকে যে নামগুলো বিএনপি`র আগামী নেতৃত্বের জন্য ঘুরে ফিরে এসেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নওশাদ জমির, তাবিথ আউয়াল, নিতাই রায় (গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ছেলে), মীর হেলাল উদ্দিন, শামা ওবায়েদ, হাবিবুন্নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এনি, রুমিন ফারহানা, নাসির উদ্দিন অসীম প্রমুখ। তারেকের সঙ্গে স্কাইপ আলোচনায় অংশ নেওয়া কয়েকজন অবশ্য দাবি করেছেন যে তারেক জিয়া এই নামগুলো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের জিজ্ঞেস করেছেন। বলেছেন, এরা নেতৃত্বে আসলে কেমন হবে, আপনাদের মত কি? ইত্যাদি।

বিএনপি`র একজন নেতা বলেছেন, তারেক জিয়ার একটা পরিকল্পনা আছে। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী সে একটা কমিটির অবয়ব তৈরি করেছে। এখন সে এই নামগুলো তৃণমূলের কাছে বলছে, যেন তৃণমূল এই নাম গুলোর ব্যাপারে আপত্তি না করে। বিএনপি`র একজন নেতা বলেছেন,‘ তারেক এখন তার মাকে মাইনাস করেছে। তার মত করে সে বিএনপিকে সাজাতে চাইছে, এখনই সারাদেশে কথা বলছে, নতুন নেতৃত্বে নিয়ে যেন দলে কোন বিরোধ না হয় সেজন্য এই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তারেক’।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার