,

HJ_0120170120221750

বোধের তাড়নায় শীতার্তদের পাশে এক রাত

কনকনে শীতে শীতার্তদের পাশে না থাকলে ওদেরকে বোঝার অনুভুতিটা কিঞ্চিৎ দুর্বল থাকে। তাই বাস্তবে উপলব্ধি করতেই শুক্রবার রাতভর ওদের পাশেই ছিলাম।

রেলস্টেশনের প্লাটফর্মে থাকলেও আপ্যায়নে ওরা অট্টালিকা বাসিদের চাইতেও এগিয়ে। প্রমাণ দিলো একটু জায়গা চাইতেই প্রথমে পলিথিন বিছিয়ে ব্যাগ থেকে বের করে দিল মোটা একটা কাথা। যেটি অফিস আলী বহন করে বেড়াচ্ছেন গত ৫ বছর ধরে। যার উত্তরসূরি ছিলো তার বড় ভাই জজমিয়া। জয়দেবপুর রেল স্টেশনের প্লাটফর্মই যিনি পার করেছেন জীবনের ১৩টি বছর।

ভাই গত হয়েছেন ৫ বছর। তাই তার দেওয়া এই শেষ সম্বলটুকু বয়ে বেড়ান তিনি। কেউ যায়গা চাইলে তাকে এভাবেই বিছানা করে দেন তিনি। কারণ বড় ভাইয়ের জন্য কিছুই করতে পারেননি তিনি, তাই কেউ তার কাছে কিছু চাইলে তিনি যেভাবে পারেন সহায়তা করেন। তার বিশ্বাস এটুকু সহায়তায় হয়তো তার মৃত ভাইয়ের আত্নায় কিছুটা স্বস্তি মিলবে।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় জয়দেবপুর রেলস্টেশনে কথা হচ্ছিলো অফিস আলীর সাথে। বাড়ী জামালপুরের ইসলামপুরে। নদীতে ঘরবাড়ি ভেঙ্গে নিয়েছে ২০০১ সালে। তারপর থেকেই কাজের সন্ধানে রাজধানীর অদূরে গাজীপুরে। বড় ভাইয়ের হাত ধরে শিখেছেন রাজযোগালীর কাজ।

একটি কাস্তে, লোহার ১ টা শাবল, ছেনি, ঝাকা/টুকরি আর একটা কোদাল তার সম্বল। দিনের বেলায় কাজের সন্ধানে ছুটে যান সাধ্যমত গন্তব্যে। আর রাত হলেই চলে আসেন স্টেশনের প্লাটফর্মে। কাজ পেলে পেটে আহার যোগে না হলে আবার আপন ঠিকানা স্টেশনের প্লাটফর্ম।

ষাটোর্ধ হলেও নিজের আত্নসম্মানবোধ রেয়েছে। কারণ তিনি এখনো নিজেই নিজের কাজ করেন। সারাক্ষণ তার ভাবনা একটাই তিনবেলা খাবার টাকা, সকালে গোছলের টাকা, বাথরুমের টাকা তাকে প্রতিদিন ম্যানেজ করতেই হবে। বলছিলেন, ঢালাইয়ের কাজে অনেক কষ্ট, এই বয়সে এখন আর পারেন না। তাই মাঝে মধ্যে তিন রিক্সাও চালান।

বয়সের ভারে নুজ্ব্য অফিস আলী এখনো নিজের কাজটি নিজেই করেন। আমরা কি করি? এ জিজ্ঞাসা বার বার করতে ইচ্ছে করে নিজেকেই। ছবি তুলে পোষ্ট করার ইচ্ছা ছিলোনা তবে তুলে ফেললাম ওদের পাশে শুয়ে থাকার অভিজ্ঞতার স্মারক রাখবার জন্য।

লেখক: সাংবাদিক

হাসান জাকিরের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া। আংশিক সম্পাদিত

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর