ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দিনে হিটস্ট্রোকের ভয়, চাঁদের আলোয় ধান কাটছেন চাষিরা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১০:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪
  • ১০ বার

দেশের ১৬টি জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। তীব্র তাপদাহের ফলে বিপাকে পড়েছেন শরীয়তপুরের ধানচাষিরা। অতিরিক্ত গরমে দিনের বেলা হিটস্ট্রোকের ভয়ে পাকা ধান কাটতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে ধান কাটার সময় হিসেবে রাতের বেলাকে বেছে নিয়েছেন অনেক চাষি।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সরেজমিনে বেশ কয়েকটি ধানের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে দুলছে সোনালী ধান। অধিকাংশ জমির ধান এখন পেকে গিয়েছে। দিনের বেলা প্রখর রোদের তাপ থাকায় রাতের বেলা চাঁদের আলোয় ধান কাটছেন চাষিরা।

চর কাশাভোগ এলাকার চাষি আজিজুল শিকদার জানান, এ বছর ৭০ শতাংশ জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি। তবে বিপাকে পড়েছেন ধান পাকার পর। প্রচণ্ড তাপদাহে দিনে হিটস্ট্রোকের ভয়ে মাঠে নামছেন না। তাই বাধ্য হয়ে রাতে চাঁদের আলোয় ধান কাটছেন। এতে অনেকটাই স্বস্তি মিলেছে তার।

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশাভোগ এলাকার চাষি জামাল শিকদার বলেন, প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে দিনের বেলা শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে বেশ বিপাকে পড়ে যাই। পরে আমার এক ভাই রাতে ধান কাটার পরামর্শ দেয়। পরে তিনজন শ্রমিক ও দুই ভাই মিলে রাতে ধান কাটা শুরু করি। দিনের তুলনায় রাতে বেশি ধান কাটা যায়।

চাঁদের আলোয় ধান কাটার দেখতে আসা সাইফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, জীবনের প্রথম রাতে ধান কাটা দেখলাম। এ বছর তাপদাহ অনেক বেশি, যে কারণে দিনের বেলা কেউ কাজ করতে চায় না। তবে যদি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকত, তাহলে চাষিদের ধান কাটা আরও সহজ হতো।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ছয়টি উপজেলায় ২৫ হাজার ৫২৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ২৫ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯০৬ মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় এ বছর উৎপাদন বেড়েছে ৩৩৬ হেক্টর জমিতে।

চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬২৭ মেট্রিক টন। তবে তীব্র তাপদাহে উৎপাদনে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে ধারণা কৃষি বিভাগের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মোহাম্মদ রিয়াজুর রহমান বলেন, তীব্র তাপদাহে কৃষকদের দিনের বেলা ধান কাটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ অতিরিক্ত গরমে কাজ করলে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। তাই যারা এই গরমে মাঠে কাজ করবেন তাদের প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করার পাশাপাশি মাথায় টুপি ও গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে হবে।

রাতের বেলা ধান কাটার বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন জায়গায় রাতে ধান কাটা হচ্ছে। এতে হিটস্ট্রোক এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। তবে এসব চাষিরা যদি আমাদের হারভেস্টার মেশিনগুলো ব্যবহার করেন তাহলে আরও দ্রুত ধান সংগ্রহ করতে পারবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

দিনে হিটস্ট্রোকের ভয়, চাঁদের আলোয় ধান কাটছেন চাষিরা

আপডেট টাইম : ১০:৫৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪

দেশের ১৬টি জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়েছে জনজীবনে। তীব্র তাপদাহের ফলে বিপাকে পড়েছেন শরীয়তপুরের ধানচাষিরা। অতিরিক্ত গরমে দিনের বেলা হিটস্ট্রোকের ভয়ে পাকা ধান কাটতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে ধান কাটার সময় হিসেবে রাতের বেলাকে বেছে নিয়েছেন অনেক চাষি।

বুধবার (২৪ এপ্রিল) দিবাগত রাতে সরেজমিনে বেশ কয়েকটি ধানের জমিতে গিয়ে দেখা যায়, মাঠজুড়ে দুলছে সোনালী ধান। অধিকাংশ জমির ধান এখন পেকে গিয়েছে। দিনের বেলা প্রখর রোদের তাপ থাকায় রাতের বেলা চাঁদের আলোয় ধান কাটছেন চাষিরা।

চর কাশাভোগ এলাকার চাষি আজিজুল শিকদার জানান, এ বছর ৭০ শতাংশ জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় খুশি। তবে বিপাকে পড়েছেন ধান পাকার পর। প্রচণ্ড তাপদাহে দিনে হিটস্ট্রোকের ভয়ে মাঠে নামছেন না। তাই বাধ্য হয়ে রাতে চাঁদের আলোয় ধান কাটছেন। এতে অনেকটাই স্বস্তি মিলেছে তার।

আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশাভোগ এলাকার চাষি জামাল শিকদার বলেন, প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে দিনের বেলা শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল না। এতে বেশ বিপাকে পড়ে যাই। পরে আমার এক ভাই রাতে ধান কাটার পরামর্শ দেয়। পরে তিনজন শ্রমিক ও দুই ভাই মিলে রাতে ধান কাটা শুরু করি। দিনের তুলনায় রাতে বেশি ধান কাটা যায়।

চাঁদের আলোয় ধান কাটার দেখতে আসা সাইফুল ইসলাম নামে একজন বলেন, জীবনের প্রথম রাতে ধান কাটা দেখলাম। এ বছর তাপদাহ অনেক বেশি, যে কারণে দিনের বেলা কেউ কাজ করতে চায় না। তবে যদি পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকত, তাহলে চাষিদের ধান কাটা আরও সহজ হতো।

শরীয়তপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ছয়টি উপজেলায় ২৫ হাজার ৫২৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ২৫ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল ১ লাখ ১৫ হাজার ৯০৬ মেট্রিক টন। গত বছরের তুলনায় এ বছর উৎপাদন বেড়েছে ৩৩৬ হেক্টর জমিতে।

চলতি মৌসুমে জেলায় বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৬২৭ মেট্রিক টন। তবে তীব্র তাপদাহে উৎপাদনে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে ধারণা কৃষি বিভাগের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মোহাম্মদ রিয়াজুর রহমান বলেন, তীব্র তাপদাহে কৃষকদের দিনের বেলা ধান কাটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ অতিরিক্ত গরমে কাজ করলে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। তাই যারা এই গরমে মাঠে কাজ করবেন তাদের প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করার পাশাপাশি মাথায় টুপি ও গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নিতে হবে।

রাতের বেলা ধান কাটার বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন জায়গায় রাতে ধান কাটা হচ্ছে। এতে হিটস্ট্রোক এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। তবে এসব চাষিরা যদি আমাদের হারভেস্টার মেশিনগুলো ব্যবহার করেন তাহলে আরও দ্রুত ধান সংগ্রহ করতে পারবেন।