,

6

কোটি মানুষের জন্য একটি ল্যাব করোনা পরীক্ষায় গতি আনা জরুরি

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা- ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও বরিশাল মিলিয়ে প্রায় কোটি মানুষের বসবাস।

এ এক কোটি মানুষের করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য বিভাগে আছে মাত্র একটি পিসিআর ল্যাব। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ওই ল্যাবের সামনে প্রতিদিন করোনা পরীক্ষার জন্য হাজারও মানুষের ভিড় লেগেই থাকে।

দুর্ভাগ্যের বিষয়, ওই ল্যাবটিও তীব্র জনবল সংকটের কারণে সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগাতে পারছে না। যেখানে কমপক্ষে ৩৬ জন টেকনোলজিস্ট দরকার, সেখানে আছেন মাত্র ১০ জন। ফলে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ পরীক্ষার সক্ষমতাসম্পন্ন ল্যাবটিতে সর্বোচ্চ ১৮৮টি পরীক্ষা করা যাচ্ছে।

এ অবস্থায় আমলা, চিকিৎসক ও পুলিশের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এতে করে তৃণমূলে ব্যাপকহারে করোনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকারের ক্ষেত্রে বৈষম্যও তৈরি হচ্ছে, যা কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না।

জানা যায়, পরীক্ষা কম হওয়ার কারণে আগে বরিশালে দৈনিক গড়ে ২০০ নমুনা সংগ্রহ করা হলেও বর্তমানে তা ৫০-৬০-এ নেমে এসেছে। বিভাগের অন্যান্য জেলা-উপজেলাতেও আনুপাতিক হারে কমানো হয়েছে নমুনা সংগ্রহ।

নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা কমার কারণে অনেকে শরীরে করোনাভাইরাস নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন এবং নিজের অজান্তে অন্যের মধ্যে প্রাণঘাতী ভাইরাসটি ছড়িয়ে দেবেন, এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া পরীক্ষার জন্য শেবাচিম হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আসার পরও যখন এক-দেড় সপ্তাহ পরের তারিখ দিয়ে কাউকে ফেরত পাঠানো হয়, তখন তিনি যে আর পরীক্ষা করাতে আগ্রহী হবেন না, এটাও স্বাভাবিক।

এ অবস্থায় বিভাগের সব জেলায় পরীক্ষা কেন্দ্র-ল্যাব চালু করা, বিভাগীয় পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার কেন্দ্র-ল্যাব বাড়ানো এবং শেবাচিমের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে দ্রুত।

কেবল যে বরিশালে করোনা পরীক্ষায় মানুষকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তা নয়, খোদ রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনা পরীক্ষার জন্য মানুষকে পদে পদে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

দিনের পর দিন ঘুরেও পরীক্ষা করানো যাচ্ছে না, আবার পরীক্ষা হলেও রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হয় কম-বেশি এক সপ্তাহের মতো।

এতে করে করোনা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি মানুষের সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা পেতেও সমস্যা হচ্ছে। কারণ করোনা নেগেটিভ না হলে নিয়মিত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি নেয়া হচ্ছে না।

উন্নত বিশ্বে যেখানে রাস্তাঘাটে ও বাড়িতে গিয়ে পরীক্ষা করানো হচ্ছে, সেখানে আমাদের পরীক্ষার জন্য ভোগান্তি স্বাস্থ্যব্যবস্থার দৈন্যরই প্রকাশ। সরকারের উচিত করোনা ব্যবস্থাপনা উন্নত ও গতিশীল করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবাকে ঢেলে সাজানো।

Print Friendly, PDF & Email

     এ ক্যাটাগরীর আরো খবর