ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিপন্ন প্রজাতির পাখি শ্বেত শকুন

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৩:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯
  • ৫৩০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিপন্ন প্রজাতির পাখি ‘শ্বেত শকুন’। আইইউসিএন প্রজাতিটিকে লাল তালিকাভুক্ত করেছে ইতিমধ্যে। পঞ্চাশ বছর আগে দেশে দেখা যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে দেশে দেখা যাওয়ার নজির নেই। এতদাঞ্চলে দেখা মেলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাঝে মধ্যে পরিযায়ী হয়ে বাংলাদেশে আগমন ঘটতে পারে বলে পাখি বিশারদদের ধারণা। বৈশ্বিক বিস্তৃতি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকা (আরব), দক্ষিণ-মধ্যএশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত, পূর্ব-দক্ষিণ ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত।

অন্যসব প্রজাতির শকুনের মতো দেখতে ওরা কদাকার নয়। সুশ্রী। ঈগলাকৃতির চেহারা। শ্বেত শুভ্র পালকের সঙ্গে কালো পালকের মিশ্রণ দারুণ দেখায়। খোলামাঠ প্রান্তরে বিচরণ করে। বালিড়ায়ি এলাকা ওদের খানিকটা পছন্দের জায়গা। জোড়ায় কিংবা দলবেঁধে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। সব ধরনের মৃতদেহ ও সরীসৃপ খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। আবার বিষাক্ত মৃতদেহ খেয়ে নিজেদের জীবনাবসানও ঘটে দ্রুত। প্রজাতির অন্যদের তুলনায় এরা দীর্ঘজীবী। গড় আয়ু ৩৭ বছর।  download

 

 

পাখির বাংলা নাম: ‘শ্বেত শকুন’, ইংরেজি নাম: ‘স্কেভেঞ্জার ভালচার’ (Scavenger Vulture), বৈজ্ঞানিক নাম: Neophron percnopterus. এরা ‘ধলা শকুন, মিসরীয় শকুন ও সাদা গিদরি’ নামেও পরিচিত।

প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য ৫৮-৭০ সেন্টিমিটার। ওজন ১৬০০-২২০০ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারায় তেমন পার্থক্য নেই। হলুদ-কমলা রঙের চামড়ায় আবৃত মুখমণ্ডল। মাথায় কদম ফুলের রোয়ার মতো খাড়া সাদা পালক। ঘাড়, গলা, বুক ও পিঠ ময়লা মিশ্রিত সাদা। ডানার প্রান্ত পালক কালো। সাদা লেজের ডগা ত্রিকোণাকৃতির। ওড়ার পালক কালো। উপরের ঠোঁট বড়শির মতো বাঁকানো, অগ্রভাগ শিং কালো, বাদবাকি কমলা-হলুদ। চোখের বলয় হলুদ, তারা বাদামি। পা ও পায়ের পাতা গোলাপি। অপ্রাপ্তবয়স্কদের মুখ ধূসর। দেখতে কালচে-বাদামি।

প্রধান খাবার: যে কোনো ধরনের মৃতদেহ বা উচ্ছিষ্ট খাবার এদের খাদ্য। খাদ্য তালিকা থেকে বাদ যায় না শামুক, পাখির ডিম, ছোট পাখি কিংবা সরীসৃপও।

প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে মে। বাসা বাঁধে পুরনো দর-দালানে কিংবা উঁচু গাছের ডালে। ডিম পাড়ে ১-৩টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ৩৯-৪৫ দিন। যৌবনপ্রাপ্ত হতে সময় লাগে ৬ বছর।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপন্ন প্রজাতির পাখি শ্বেত শকুন

আপডেট টাইম : ০৩:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৯

হাওর বার্তা ডেস্কঃ বিপন্ন প্রজাতির পাখি ‘শ্বেত শকুন’। আইইউসিএন প্রজাতিটিকে লাল তালিকাভুক্ত করেছে ইতিমধ্যে। পঞ্চাশ বছর আগে দেশে দেখা যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। বর্তমানে দেশে দেখা যাওয়ার নজির নেই। এতদাঞ্চলে দেখা মেলে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাঝে মধ্যে পরিযায়ী হয়ে বাংলাদেশে আগমন ঘটতে পারে বলে পাখি বিশারদদের ধারণা। বৈশ্বিক বিস্তৃতি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকা (আরব), দক্ষিণ-মধ্যএশিয়া, উত্তর-পশ্চিম ভারত, পূর্ব-দক্ষিণ ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত।

অন্যসব প্রজাতির শকুনের মতো দেখতে ওরা কদাকার নয়। সুশ্রী। ঈগলাকৃতির চেহারা। শ্বেত শুভ্র পালকের সঙ্গে কালো পালকের মিশ্রণ দারুণ দেখায়। খোলামাঠ প্রান্তরে বিচরণ করে। বালিড়ায়ি এলাকা ওদের খানিকটা পছন্দের জায়গা। জোড়ায় কিংবা দলবেঁধে খাদ্যের সন্ধানে বের হয়। সব ধরনের মৃতদেহ ও সরীসৃপ খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। আবার বিষাক্ত মৃতদেহ খেয়ে নিজেদের জীবনাবসানও ঘটে দ্রুত। প্রজাতির অন্যদের তুলনায় এরা দীর্ঘজীবী। গড় আয়ু ৩৭ বছর।  download

 

 

পাখির বাংলা নাম: ‘শ্বেত শকুন’, ইংরেজি নাম: ‘স্কেভেঞ্জার ভালচার’ (Scavenger Vulture), বৈজ্ঞানিক নাম: Neophron percnopterus. এরা ‘ধলা শকুন, মিসরীয় শকুন ও সাদা গিদরি’ নামেও পরিচিত।

প্রজাতির গড় দৈর্ঘ্য ৫৮-৭০ সেন্টিমিটার। ওজন ১৬০০-২২০০ গ্রাম। স্ত্রী-পুরুষ পাখির চেহারায় তেমন পার্থক্য নেই। হলুদ-কমলা রঙের চামড়ায় আবৃত মুখমণ্ডল। মাথায় কদম ফুলের রোয়ার মতো খাড়া সাদা পালক। ঘাড়, গলা, বুক ও পিঠ ময়লা মিশ্রিত সাদা। ডানার প্রান্ত পালক কালো। সাদা লেজের ডগা ত্রিকোণাকৃতির। ওড়ার পালক কালো। উপরের ঠোঁট বড়শির মতো বাঁকানো, অগ্রভাগ শিং কালো, বাদবাকি কমলা-হলুদ। চোখের বলয় হলুদ, তারা বাদামি। পা ও পায়ের পাতা গোলাপি। অপ্রাপ্তবয়স্কদের মুখ ধূসর। দেখতে কালচে-বাদামি।

প্রধান খাবার: যে কোনো ধরনের মৃতদেহ বা উচ্ছিষ্ট খাবার এদের খাদ্য। খাদ্য তালিকা থেকে বাদ যায় না শামুক, পাখির ডিম, ছোট পাখি কিংবা সরীসৃপও।

প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে মে। বাসা বাঁধে পুরনো দর-দালানে কিংবা উঁচু গাছের ডালে। ডিম পাড়ে ১-৩টি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ৩৯-৪৫ দিন। যৌবনপ্রাপ্ত হতে সময় লাগে ৬ বছর।