হাওর বার্তা ডেস্কঃ ছোটবেলায় কলসি আর পিপাসার্ত কাকের গল্প শুনেননি এমন মানুষ কমই আছে। আধা পানি ভর্তি কলসিতে পাথর টুকরা ফেলে পানি উপরে তুলে পান করার গল্প সবার জানা। কাকের এই বুদ্ধিমত্তার গল্প ছোট থেকেই সবার মুখে মুখে। তবে গবেষণা কাকের আরও কিছু বুদ্ধিমত্তার বিষয় উঠে এসেছে, যেগুলো জানলে আপনি বিস্মিত হবেন-
১. কাকেরা বিশ্বের সবচেয়ে বুদ্ধিমান প্রাণীগুলোর একটি। এরা সাত বছর বয়সী মানুষের সমান বুদ্ধিমান।
২. কাকেরা অ্যানালজি বা তুলনামূলক সম্পর্ক বুঝতে পারে যা উন্নত বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।
৩. প্রাইমেট (এক ধরনের স্তন্যপায়ী প্রাণী) নয় এমন প্রাণীর মধ্যে একমাত্র কাক নতুন যন্ত্র তৈরি ও ব্যবহার করতে পারে।
৪. তারা একটি কাঠি দিয়ে নাগালের বাইরের জিনিস টেনে আনতে পারে।
৫. একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে কাক তার বাকিয়ে যন্ত্র তৈরি করছে, যদিও তারা আগে কখনোই তার দেখেনি।
৬. কাক জটিল, একাধিক ধাপের ধাঁধা সমাধান করতে পারে। একটি পরীক্ষায় আট ধাপ বিশিষ্ট একটি ধাঁধা দেয়া হয়। এটি নির্দিষ্ট ক্রমে সমাধান করলে পুরস্কার হিসেবে খাবার পাওয়া যায়। একটি কাক সবগুলো ধাপ সমাধান করে খাবার বের করে নেয়।
৭. কাকেরা অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং তাদের স্মৃতিশক্তি দারুণ। একটি কাক আলাদা আলাদা মানুষের চেহারা চিনতে ও মনে রাখতে পারে। বিশেষ করে যাদের সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতা খারাপ তাদের চেহারা মনে রাখতে পারে। একটি ভয়ঙ্কর মানুষ সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা অন্য কাকেদের জানাতে পারে।
৮. কাক রাগ পুষে রাখতে পারে এবং তা সন্তানদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারে। শীতের সময় কোথাও গিয়ে যদি একটিও কাক মারা যায়, তাহলে পরের বছর তারা ওই জায়গায় আর যায় না।
৯. কাকেরা মাঝে মধ্যে আদালত বসিয়ে দোষী কাককে শাস্তি দেয়। বড় কাক ছোট কাকের খাবার চুরি করলে তা অপরাধ বলে বিবেচিত হয়।
১০. কাক কার্য-কারণ সম্পর্ক বুঝতে পারে। একটি পরীক্ষায় কাকদেরকে একটি জায়গায় বন্ধ রাখা হয় এবং পাশের একটি স্থান থেকে একটি লাঠি বাড়িয়ে ধরা হয়। প্রথম ক্ষেত্রে ওই জায়গায় একজন মানুষ প্রবেশ করে এবং লাঠিটি নড়ে ওঠে। আরেকটি ক্ষেত্রে, লাঠিটি নড়ে কিন্তু কোনো মানুষ সেখানে যায় না। যেখানে মানুষ প্রবেশ করে, সেখানে কাক লাঠি নড়ার সাথে তার সম্পর্ক বুঝতে পারে এবং নিশ্চিন্ত হয়ে থাকে।
১১. কাক পানির অপসারণের ধারণাটি বুঝতে পারে। একটি টিউবের তলায় পানির ওপর ভাসমান জিনিসের পরীক্ষায় এটা প্রমাণিত হয়েছে। কাক যথেষ্ট পরিমাণ পাথর দিয়ে টিউবটি ভর্তি করে ফেলে, যেন টিউবের ভেতরের খাবার নাগালের মধ্যে চলে আসে। তারা পানির স্তর বাড়াতে বড় বড় পাথরও ব্যবহার করে।
১২. একটি কাক মারা গেলে অন্য কাকেরা তার পাশে জড়ো হয়ে হয়ে জোরে শব্দ করতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে- তারা ভয়ের কারণ সম্পর্কে জানতে মৃত কাকের চারপাশে জড়ো হয়। তারা মৃত্যুকে ভয় পায় এবং এটি এড়ানোর পদ্ধতি শিখে।
১৩. একটি গবেষণায় দেখা গেছে কাকের ‘মন সম্পর্কিত তত্ত্ব’ রয়েছে। এটা নিজের এবং অন্যদের ওপর মানসিক অবস্থা আরোপ করা এবং অন্যদের ক্ষেত্রে এই অবস্থা যে ভিন্ন হতে পারে বুঝার ক্ষমতা।
আপনি তাকিয়ে থাকলে একটি কাক তার খাবার লুকাবে না। পরিকল্পনা করার সময় কাক অন্যদের আচরণ বিবেচনা করে।
১৪. কাকেরা অন্য কাকদেরকে জটিল তথ্যও দিতে পারে। তবে কাকের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুব সামান্য বুঝা গেছে।
১৫. কাক পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে দারুণ সক্ষম এবং তারা পৃথিবী কিভাবে চলছে তা মনোযোগ দিয়ে দেখে। সংগৃহীত তথ্য তারা নিজেদের উন্নতির জন্য ব্যবহার করে।
১৬. বাদাম ভাঙ্গার জন্য কাককে রাস্তায় গাড়ির নিচে বাদাম ফেলতে দেখা গেছে। তারা ট্রাফিক লাইট খেয়াল করে আর শুধু রাস্তা পারাপারের সবুজ বাতি জ্বলার সময় ভাঙা বাদামগুলো তুলতে যায়।
Reporter Name 

























