ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

হজ-ওমরাবিষয়ক আরবি পরিভাষা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১১:৩২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জুন ২০১৮
  • ৫১৭ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মাস দেড়েক পরই শুরু হবে হজের মৌসুম। পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত হবে আল্লাহ প্রেমিক মুসলমানদের বিশ্ব সম্মেলন। এর আগে প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাজীরা। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হজ পালনের লক্ষ্যে সৌদি আরব পৌঁছবেন লাখ লাখ মুসলমান। বাংলাদেশে পহেলা জিলকদ থেকে শুরু হবে পবিত্র হজের ফ্লাইট। ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান ‘হজ’ বিষয়ে নিয়মিত আয়োজন থাকবে। এই আয়োজনে আপনিও লিখতে পারেন। আজ হজ ও ওমরাবিষয়ক আরবি পরিভাষাগুলো তুলে ধরেছেন আলী হাসান তৈয়ব।

আইয়ামে তাশরিক : জিলহজ মাসের ১১, ১২, ১৩ তারিখকে আইয়ামে তাশরিক বলা হয়। ইজতিবা : ডান বগলের নিচ দিয়ে চাদরের প্রান্ত বাম কাঁধের ওপর উঠিয়ে রাখা। এভাবে ডান কাঁধ খালি রেখে উভয় প্রান্ত বাম কাঁধের ওপর ঝুলিয়ে রাখা। ইয়াওমুত তারবিয়া : জিলহজ মাসের ৮ তারিখ মিনায় যাওয়ার দিন। ইয়াওমু আরাফা : আরাফা দিবস। জিলহজ মাসের ৯ তারিখ সূর্য হেলে যাওয়ার পর থেকে সূযাস্ত পর্যন্ত ফরজ হিসেবে আরাফায় অবস্থান করতে হয়। এ দিনকে ইয়াওমু আরাফা বলে। ইহরাম : হারাম বা নিষিদ্ধ করে নেওয়া। হজ ও ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু কথা ও কাজ নিজের ওপর নিষিদ্ধ করে নেওয়ার সংকল্প করা। ওয়াদি মুহাসসার : এটি মুজদালিফা ও মিনার মাঝামাঝি একটি জায়গার নাম, যেখানে আবরাহা ও তার হস্তী বাহিনীকে ধ্বংস করা হয়েছিল। স্থানটি হেরেমের ভেতরে অবস্থিত; কিন্তু ইবাদতের স্থান নয়। এখানে পৌঁছলে আল্লাহর গজব নাজিল হওয়ার স্থান হিসেবে তা দ্রুত অতিক্রম করা উচিত।

ওয়াদি উরনাহ : আরাফার মাঠের পাশে বিস্তৃত উপত্যকা, যা মুজদালিফার দিক থেকে আরাফায় প্রবেশের সময় প্রথম সামনে পড়ে। উকুফ : অবস্থান করা। আরাফা ও মুজদালিফায় অবস্থান করাকে যথাক্রমে উকুফে আরাফা ও উকুফে মুজদালিফা বলা হয়। কসর : সংক্ষিপ্ত করা। চার রাকাতবিশিষ্ট সালাতগুলো দুই রাকাত করে আদায় করা।
কিরান : মিলিয়ে করা। হজ ও ওমরাকে একই সঙ্গে আদায় করার নাম কিরান করা। এটি তিন প্রকার হজের অন্যতম। জামরাহ : শাব্দিক অর্থ পাথর। মিনায় অবস্থিত শয়তানকে পাথর মারার স্থান। জামরার সংখ্যা তিনটি।
জাবাল : পাহাড়। জাবালে আরাফা : আরাফায় অবস্থিত পাহাড়, যাকে সাধারণ মানুষ জাবালে রহমতও বলে থাকে।
তাওয়াফ : প্রদক্ষিণ করা। কাবার চারপাশে প্রদক্ষিণ করাকে তাওয়াফ বলে। তাওয়াফে ইফাজা বা তাওয়াফে জিয়ারাহ : ১০ জিলহজ কোরবানি ও হলক-কসরের পর থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে কাবা শরিফের তাওয়াফ করাকে তাওয়াফে ইফাজা বা তাওয়াফে জিয়ারাহ বলে। এ তাওয়াফ ফরজ। তাওয়াফে কুদুম : কদুম অর্থ আগমন করা। সুতরাং এর অর্থ আগমনি তাওয়াফ। মিকাতের বাইরের লোকরা যখন হজ বা ওমরার উদ্দেশ্যে কাবা শরিফে আসেন, তখন তাদের বায়তুল্লাহ তথা কাবার সম্মানার্থে এ তাওয়াফটি করতে হয়। এটি সুন্নত। তাওহিদ : আল্লাহর একত্ববাদ।

তাকবির : বড় করা। ইসলামি পরিভাষায় ‘আল্লাহু আকবার’ বলাকে তাকবির বলে। তামাত্তু : উপকৃত হওয়া, উপকার নেওয়া, ভোগ করা। একই সফরে প্রথমে ওমরা আর পরে হজ আলাদাভাবে আদায় করাকে তামাত্তু বলে। এটি তিন প্রকার হজের অন্যতম। তালবিয়া : সাড়া দেওয়া। এখানে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে হজ বা ওমরার উদ্দেশ্যে আগমনকারীকে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ বলে যে বাণী পাঠ করতে হয় তাকে তালবিয়া বলা হয়।
তাহলিল : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা। দম : রক্ত। হজ ও ওমরা আদায়ে ওয়াজিব ছুটে যাওয়া, ভুলত্রুটি হলে তার কাফফারাস্বরূপ একটি পশু জবাই করে গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়। এই পশু জবাইকে বলে দম দেওয়া। নহর : কোরবানি করা। উট কোরবানি করার জন্য দাঁড়ানো অবস্থায় তার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এ প্রক্রিয়াকে নহর বলে।

ফিদয়া : ক্ষতিপূরণ। সাধারণ কোনো অপরাধ হয়ে গেলে তিনটি কাজের যে-কোনো একটি করতে হয়। ছয়জন মিসকিনকে এক কেজি দশ গ্রাম পরিমাণ খাবার প্রদান কিংবা তিন দিন সিয়াম পালন করা অথবা ছাগল জবাই করে গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া। বাতনে ওয়াদি : বাতন অর্থ পেট বা মধ্যভাগ। আর ওয়াদি অর্থ উপত্যকা। তাই বাতনে ওয়াদি শব্দ দুটির অর্থ উপত্যকার মধ্যভাগ। সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝখানে নিচু উপত্যকা ছিল। সে উপত্যকাটিকেই বাতনে ওয়াদি বলে। মাকামে ইবরাহিম : ইবরাহিম (আ.) এর দাঁড়ানোর স্থান। একটি বড় পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে ইবরাহিম (আ.) কাবা নির্মাণ সম্পন্ন করেন। সে পাথরে তার পদচিহ্ন পড়ে যায়, যা এখনও বর্তমান রয়েছে। কাবা শরিফের সামনে অবস্থিত এই পাথরকে মাকামে ইবরাহিম বলা হয়।
মাতাফ : তাওয়াফ করার স্থান। কাবা ঘরের চারদিকে সাদা পাথর বিছানো এলাকাকে মাতাফ বলা হয়। এখান দিয়েই তাওয়াফ করা হয়।

মাবরুর : মকবুল। হাদিসে মকবুল হজকে মাবরুর হজ বলা হয়েছে। মাশআর : নিদর্শনসংবলিত স্থান। আর মাশআরুল হারাম বলতে মুজদালিফাকে বোঝানো হয়েছে। মাসআ : সাঈ করার স্থান। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী জায়গা, যেখানে লোকজন সাঈ করে। মুলতাজাম : লেপ্টে থাকার স্থান। হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানির মাঝখানে অবস্থিত কাবা ঘরের স্থান, যা দোয় কবুলের স্থান হিসেবে পরিচিত। তাই এখানে সবসময় লোকজন লেগেই থাকে। রওজা : বাগান। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ মিম্বর ও ঘরের মাঝখানের অংশকে রওজাতুম মিন রিয়াজিল জান্নাত বা জান্নাতের একটি বাগান বলে অভিহিত করেছেন। নবীজি তার ঘরের মধ্যে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। রমল : ঘন পদক্ষেপে দ্রুত হাঁটা। হজ বা ওমরার প্রথম তাওয়াফের সময় প্রথম তিন চক্কর ডান কাঁধ খোলা রেখে বীরত্বের বেশে  দ্রুত হাঁটতে হয়। এটাকে রমল বলে।

রুকন : স্তম্ভ। হজের রুকনের অর্থ হজের স্তম্ভগুলো, যার ওপর হজের ভিত্তি। এর কোনোটি বাদ গেলে হজ হয় না।
রুকনে ইয়ামানি : রুকনে ইয়ামানির অর্থ কাবার সেই স্তম্ভ যেটি ইয়ামান দেশের দিকে স্থাপিত। সাঈ : দৌড়ানো। এখানে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে সাতবার যাওয়া আসা করাকে বোঝায়। হজ্জে আকবার : জিলহজের ১০ তারিখের দিনকে কোরআনে ‘ইয়াওমুল হাজ্জিল-আকবার তথা বড় হজের দিন বলা হয়েছে। জিলহজের ৯ তারিখ তথা আরাফা দিবস যদি শুক্রবারে হয় তাহলে আরাফা দিবস ও জুমাবার উভয়ের ফজিলত লাভ হয়। তবে এটি আকবরি হজ নামে যে লোকমুখে প্রচলিত তার কোনো ভিত্তি নেই। হলক-কসর : হজ বা ওমরার কাজ সম্পন্ন হলে মাথার চুল কামাতে বা ছোট করতে হয়। মাথা কামানোকে হলক এবং চুল ছোট করাকে কসর বলা হয়।
হারাম : নিষিদ্ধ বস্তুকে হারাম বলে। আবার সম্মানিত স্থানকেও হারাম বলে। মক্কা ও মদিনার নির্দিষ্ট সীমারেখাকে হারাম বলে। হালাল : বৈধ হওয়া। ইহরাম শেষ হওয়ার পর মুক্ত অবস্থাকে হালাল হওয়া বলে। হিজর বা হাতিম : কাবাসংলগ্ন উত্তর পাশে খোলা জায়গা, যা ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক নির্মিত মূল কাবার অংশ ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

হজ-ওমরাবিষয়ক আরবি পরিভাষা

আপডেট টাইম : ১১:৩২:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ জুন ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মাস দেড়েক পরই শুরু হবে হজের মৌসুম। পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত হবে আল্লাহ প্রেমিক মুসলমানদের বিশ্ব সম্মেলন। এর আগে প্রস্তুতি নিচ্ছেন হাজীরা। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে হজ পালনের লক্ষ্যে সৌদি আরব পৌঁছবেন লাখ লাখ মুসলমান। বাংলাদেশে পহেলা জিলকদ থেকে শুরু হবে পবিত্র হজের ফ্লাইট। ইসলামের অন্যতম ফরজ বিধান ‘হজ’ বিষয়ে নিয়মিত আয়োজন থাকবে। এই আয়োজনে আপনিও লিখতে পারেন। আজ হজ ও ওমরাবিষয়ক আরবি পরিভাষাগুলো তুলে ধরেছেন আলী হাসান তৈয়ব।

আইয়ামে তাশরিক : জিলহজ মাসের ১১, ১২, ১৩ তারিখকে আইয়ামে তাশরিক বলা হয়। ইজতিবা : ডান বগলের নিচ দিয়ে চাদরের প্রান্ত বাম কাঁধের ওপর উঠিয়ে রাখা। এভাবে ডান কাঁধ খালি রেখে উভয় প্রান্ত বাম কাঁধের ওপর ঝুলিয়ে রাখা। ইয়াওমুত তারবিয়া : জিলহজ মাসের ৮ তারিখ মিনায় যাওয়ার দিন। ইয়াওমু আরাফা : আরাফা দিবস। জিলহজ মাসের ৯ তারিখ সূর্য হেলে যাওয়ার পর থেকে সূযাস্ত পর্যন্ত ফরজ হিসেবে আরাফায় অবস্থান করতে হয়। এ দিনকে ইয়াওমু আরাফা বলে। ইহরাম : হারাম বা নিষিদ্ধ করে নেওয়া। হজ ও ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট কিছু কথা ও কাজ নিজের ওপর নিষিদ্ধ করে নেওয়ার সংকল্প করা। ওয়াদি মুহাসসার : এটি মুজদালিফা ও মিনার মাঝামাঝি একটি জায়গার নাম, যেখানে আবরাহা ও তার হস্তী বাহিনীকে ধ্বংস করা হয়েছিল। স্থানটি হেরেমের ভেতরে অবস্থিত; কিন্তু ইবাদতের স্থান নয়। এখানে পৌঁছলে আল্লাহর গজব নাজিল হওয়ার স্থান হিসেবে তা দ্রুত অতিক্রম করা উচিত।

ওয়াদি উরনাহ : আরাফার মাঠের পাশে বিস্তৃত উপত্যকা, যা মুজদালিফার দিক থেকে আরাফায় প্রবেশের সময় প্রথম সামনে পড়ে। উকুফ : অবস্থান করা। আরাফা ও মুজদালিফায় অবস্থান করাকে যথাক্রমে উকুফে আরাফা ও উকুফে মুজদালিফা বলা হয়। কসর : সংক্ষিপ্ত করা। চার রাকাতবিশিষ্ট সালাতগুলো দুই রাকাত করে আদায় করা।
কিরান : মিলিয়ে করা। হজ ও ওমরাকে একই সঙ্গে আদায় করার নাম কিরান করা। এটি তিন প্রকার হজের অন্যতম। জামরাহ : শাব্দিক অর্থ পাথর। মিনায় অবস্থিত শয়তানকে পাথর মারার স্থান। জামরার সংখ্যা তিনটি।
জাবাল : পাহাড়। জাবালে আরাফা : আরাফায় অবস্থিত পাহাড়, যাকে সাধারণ মানুষ জাবালে রহমতও বলে থাকে।
তাওয়াফ : প্রদক্ষিণ করা। কাবার চারপাশে প্রদক্ষিণ করাকে তাওয়াফ বলে। তাওয়াফে ইফাজা বা তাওয়াফে জিয়ারাহ : ১০ জিলহজ কোরবানি ও হলক-কসরের পর থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে কাবা শরিফের তাওয়াফ করাকে তাওয়াফে ইফাজা বা তাওয়াফে জিয়ারাহ বলে। এ তাওয়াফ ফরজ। তাওয়াফে কুদুম : কদুম অর্থ আগমন করা। সুতরাং এর অর্থ আগমনি তাওয়াফ। মিকাতের বাইরের লোকরা যখন হজ বা ওমরার উদ্দেশ্যে কাবা শরিফে আসেন, তখন তাদের বায়তুল্লাহ তথা কাবার সম্মানার্থে এ তাওয়াফটি করতে হয়। এটি সুন্নত। তাওহিদ : আল্লাহর একত্ববাদ।

তাকবির : বড় করা। ইসলামি পরিভাষায় ‘আল্লাহু আকবার’ বলাকে তাকবির বলে। তামাত্তু : উপকৃত হওয়া, উপকার নেওয়া, ভোগ করা। একই সফরে প্রথমে ওমরা আর পরে হজ আলাদাভাবে আদায় করাকে তামাত্তু বলে। এটি তিন প্রকার হজের অন্যতম। তালবিয়া : সাড়া দেওয়া। এখানে আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে হজ বা ওমরার উদ্দেশ্যে আগমনকারীকে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ বলে যে বাণী পাঠ করতে হয় তাকে তালবিয়া বলা হয়।
তাহলিল : লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা। দম : রক্ত। হজ ও ওমরা আদায়ে ওয়াজিব ছুটে যাওয়া, ভুলত্রুটি হলে তার কাফফারাস্বরূপ একটি পশু জবাই করে গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে হয়। এই পশু জবাইকে বলে দম দেওয়া। নহর : কোরবানি করা। উট কোরবানি করার জন্য দাঁড়ানো অবস্থায় তার গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এ প্রক্রিয়াকে নহর বলে।

ফিদয়া : ক্ষতিপূরণ। সাধারণ কোনো অপরাধ হয়ে গেলে তিনটি কাজের যে-কোনো একটি করতে হয়। ছয়জন মিসকিনকে এক কেজি দশ গ্রাম পরিমাণ খাবার প্রদান কিংবা তিন দিন সিয়াম পালন করা অথবা ছাগল জবাই করে গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করে দেওয়া। বাতনে ওয়াদি : বাতন অর্থ পেট বা মধ্যভাগ। আর ওয়াদি অর্থ উপত্যকা। তাই বাতনে ওয়াদি শব্দ দুটির অর্থ উপত্যকার মধ্যভাগ। সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয়ের মাঝখানে নিচু উপত্যকা ছিল। সে উপত্যকাটিকেই বাতনে ওয়াদি বলে। মাকামে ইবরাহিম : ইবরাহিম (আ.) এর দাঁড়ানোর স্থান। একটি বড় পাথরের ওপর দাঁড়িয়ে ইবরাহিম (আ.) কাবা নির্মাণ সম্পন্ন করেন। সে পাথরে তার পদচিহ্ন পড়ে যায়, যা এখনও বর্তমান রয়েছে। কাবা শরিফের সামনে অবস্থিত এই পাথরকে মাকামে ইবরাহিম বলা হয়।
মাতাফ : তাওয়াফ করার স্থান। কাবা ঘরের চারদিকে সাদা পাথর বিছানো এলাকাকে মাতাফ বলা হয়। এখান দিয়েই তাওয়াফ করা হয়।

মাবরুর : মকবুল। হাদিসে মকবুল হজকে মাবরুর হজ বলা হয়েছে। মাশআর : নিদর্শনসংবলিত স্থান। আর মাশআরুল হারাম বলতে মুজদালিফাকে বোঝানো হয়েছে। মাসআ : সাঈ করার স্থান। সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী জায়গা, যেখানে লোকজন সাঈ করে। মুলতাজাম : লেপ্টে থাকার স্থান। হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানির মাঝখানে অবস্থিত কাবা ঘরের স্থান, যা দোয় কবুলের স্থান হিসেবে পরিচিত। তাই এখানে সবসময় লোকজন লেগেই থাকে। রওজা : বাগান। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজ মিম্বর ও ঘরের মাঝখানের অংশকে রওজাতুম মিন রিয়াজিল জান্নাত বা জান্নাতের একটি বাগান বলে অভিহিত করেছেন। নবীজি তার ঘরের মধ্যে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। রমল : ঘন পদক্ষেপে দ্রুত হাঁটা। হজ বা ওমরার প্রথম তাওয়াফের সময় প্রথম তিন চক্কর ডান কাঁধ খোলা রেখে বীরত্বের বেশে  দ্রুত হাঁটতে হয়। এটাকে রমল বলে।

রুকন : স্তম্ভ। হজের রুকনের অর্থ হজের স্তম্ভগুলো, যার ওপর হজের ভিত্তি। এর কোনোটি বাদ গেলে হজ হয় না।
রুকনে ইয়ামানি : রুকনে ইয়ামানির অর্থ কাবার সেই স্তম্ভ যেটি ইয়ামান দেশের দিকে স্থাপিত। সাঈ : দৌড়ানো। এখানে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝখানে সাতবার যাওয়া আসা করাকে বোঝায়। হজ্জে আকবার : জিলহজের ১০ তারিখের দিনকে কোরআনে ‘ইয়াওমুল হাজ্জিল-আকবার তথা বড় হজের দিন বলা হয়েছে। জিলহজের ৯ তারিখ তথা আরাফা দিবস যদি শুক্রবারে হয় তাহলে আরাফা দিবস ও জুমাবার উভয়ের ফজিলত লাভ হয়। তবে এটি আকবরি হজ নামে যে লোকমুখে প্রচলিত তার কোনো ভিত্তি নেই। হলক-কসর : হজ বা ওমরার কাজ সম্পন্ন হলে মাথার চুল কামাতে বা ছোট করতে হয়। মাথা কামানোকে হলক এবং চুল ছোট করাকে কসর বলা হয়।
হারাম : নিষিদ্ধ বস্তুকে হারাম বলে। আবার সম্মানিত স্থানকেও হারাম বলে। মক্কা ও মদিনার নির্দিষ্ট সীমারেখাকে হারাম বলে। হালাল : বৈধ হওয়া। ইহরাম শেষ হওয়ার পর মুক্ত অবস্থাকে হালাল হওয়া বলে। হিজর বা হাতিম : কাবাসংলগ্ন উত্তর পাশে খোলা জায়গা, যা ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক নির্মিত মূল কাবার অংশ ছিল।