ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোটের ফলাফল খুলনাবাসী মানবে না : মঞ্জু

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৫:২৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮
  • ৫৯১ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ খুলনা সিটি করপোরেশন (খুসিক) নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে একে ‘খেলা’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ‘জালিয়াতি, কারচুপি, ভোট ডাকাতির ফলাফল খুলনাবাসী মেনে নেবে না।’

ভোট চলাকালে মঙ্গলবার (১৫ মে) দুপুরে একটি কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় একথা বলেন বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী।

নির্বাচন নিয়ে খেলার কি দরকার ছিল—এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেছেন, ‘এই নির্বাচন না হলে তো সমস্যা ছিল না। পুলিশের সামনে নৌকার লোকজন কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল মারছে। ধরাও পড়ছে। অথচ তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। নির্বাচন কমিশনের লোকজনও এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’

মঞ্জু সকালে ভোট দিয়ে প্রথমে ২৫টি ও পরে ৩০টি কেন্দ্রে তার এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন। পরে তিনি বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এর মধ্যে দুটি কেন্দ্রে গিয়ে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দেয়ার ঘটনা দেখেন মঞ্জুর। পরে সে দুটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়।

মঞ্জু বলেছেন, ‘রূপসা স্কুল থেকে মাত্র ৩০ মিনিট আগে দেখে গেলাম সবকিছু ঠিকঠাক কিন্তু এসে দেখলাম সবগুলো বুথে নৌকায় সিল মেরে ব্যালট দিয়ে বাক্স ভরে রাখা হয়েছে। নির্বাচনের কাজে জড়িত কর্মকর্তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আমার নির্বাচনী এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেয়া হচ্ছে।’

তিনি জানিয়েছেন, যেখানেই কোনো ধরনের সমস্যার কথা শুনেছেন সেখানেই তিনি ছুটে যান। কোনো অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এই মেয়রপ্রার্থী।

এ অবস্থায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আপনি থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নে মঞ্জু বলেছেন, ‘হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত থাকব। আমরা সরকারের এবং তার বাহিনীর এসব দুষ্কর্ম জাতিকে, বিশ্ববাসীকে দেখাতে চাই। প্রমাণ হবে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।

ফলাফল মেনে নিবেন কি না? জানতে চাইলে মঞ্জু বলেছেন, ‘ফলাফল তো পরের বিষয়। আগে সুষ্ঠুভাবে ভোট শেষ হোক। জালিয়াতি, কারচুপি, ভোট ডাকাতির ফলাফল খুলনাবাসী মেনে নেবে না।’

খুলনায় চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন ভোটারের জন্য এবার কেন্দ্র রয়েছে মোট ৯৮টি। এর মধ্যে জাল ভোটের অভিযোগে একটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল, দুটি কেন্দ্র এবং এবং একটি বুথে ভোট স্থগিত করা হয়। এর বাইরে একটি কেন্দ্রের অদূরে বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেছেন, ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে। আর যেখানেই সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেখানেই তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভোটের ফলাফল খুলনাবাসী মানবে না : মঞ্জু

আপডেট টাইম : ০৫:২৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ মে ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ খুলনা সিটি করপোরেশন (খুসিক) নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ এনে একে ‘খেলা’ আখ্যা দিয়ে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, ‘জালিয়াতি, কারচুপি, ভোট ডাকাতির ফলাফল খুলনাবাসী মেনে নেবে না।’

ভোট চলাকালে মঙ্গলবার (১৫ মে) দুপুরে একটি কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় একথা বলেন বিএনপির এই মেয়র প্রার্থী।

নির্বাচন নিয়ে খেলার কি দরকার ছিল—এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেছেন, ‘এই নির্বাচন না হলে তো সমস্যা ছিল না। পুলিশের সামনে নৌকার লোকজন কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপারে সিল মারছে। ধরাও পড়ছে। অথচ তারা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। নির্বাচন কমিশনের লোকজনও এর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’

মঞ্জু সকালে ভোট দিয়ে প্রথমে ২৫টি ও পরে ৩০টি কেন্দ্রে তার এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন। পরে তিনি বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এর মধ্যে দুটি কেন্দ্রে গিয়ে নৌকা প্রতীকে জাল ভোট দেয়ার ঘটনা দেখেন মঞ্জুর। পরে সে দুটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিত করা হয়।

মঞ্জু বলেছেন, ‘রূপসা স্কুল থেকে মাত্র ৩০ মিনিট আগে দেখে গেলাম সবকিছু ঠিকঠাক কিন্তু এসে দেখলাম সবগুলো বুথে নৌকায় সিল মেরে ব্যালট দিয়ে বাক্স ভরে রাখা হয়েছে। নির্বাচনের কাজে জড়িত কর্মকর্তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। আমার নির্বাচনী এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বের করে দেয়া হচ্ছে।’

তিনি জানিয়েছেন, যেখানেই কোনো ধরনের সমস্যার কথা শুনেছেন সেখানেই তিনি ছুটে যান। কোনো অনিয়ম পেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এই মেয়রপ্রার্থী।

এ অবস্থায় শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে আপনি থাকবেন কি না—এমন প্রশ্নে মঞ্জু বলেছেন, ‘হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত থাকব। আমরা সরকারের এবং তার বাহিনীর এসব দুষ্কর্ম জাতিকে, বিশ্ববাসীকে দেখাতে চাই। প্রমাণ হবে এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।

ফলাফল মেনে নিবেন কি না? জানতে চাইলে মঞ্জু বলেছেন, ‘ফলাফল তো পরের বিষয়। আগে সুষ্ঠুভাবে ভোট শেষ হোক। জালিয়াতি, কারচুপি, ভোট ডাকাতির ফলাফল খুলনাবাসী মেনে নেবে না।’

খুলনায় চার লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন ভোটারের জন্য এবার কেন্দ্র রয়েছে মোট ৯৮টি। এর মধ্যে জাল ভোটের অভিযোগে একটি কেন্দ্রে ভোট বাতিল, দুটি কেন্দ্র এবং এবং একটি বুথে ভোট স্থগিত করা হয়। এর বাইরে একটি কেন্দ্রের অদূরে বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ইউনুচ আলী বলেছেন, ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হচ্ছে। আর যেখানেই সমস্যা দেখা দিয়েছে, সেখানেই তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন।’