ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে মদনে জামায়াতের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ুতি (রহ.) তাফসির শাস্ত্রের কিংবদন্তি যিনি আগস্টের ৫ তারিখ যেভাবে ‘৩৬ জুলাই’ হলো মাটি ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে রূপান্তরের অঙ্গীকার আনসার-ভিডিপির ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য : প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আর কখনো নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বপ্নযাত্রায় ধীরগতি তারা বলে ডিসেম্বরে দেশে আসবে, আসেন দেখা হবে রাজপথে: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি আপনার দলের লোকেরাই আপনাকে পদচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করছে: প্রধানমন্ত্রীকে কর্নেল অলি সরকার জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লিচুর অজানা কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৬:২৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ মে ২০১৮
  • ৫০০ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ গ্রীষ্মের আগমনের সাথে সাথে এই সুস্বাদু ও রসালো ফলের আগমন ঘটে। মিষ্টি ও পুষ্টিকর হবার পাশাপাশি গ্রীষ্মের কঠোর তাপ থেকে রেহাই পাবার জন্য মানব শরীরের তাপমাত্রায় শীতল প্রভাব বৃদ্ধি করে।

উদ্ভিদবিদ্যা অনুযায়ী, এই বহিরাগত ফলটি সাপিন্ডাচি (Sapindaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। লিচুর বৈজ্ঞানিক নাম হল লিচি চাইনেন্সিস (Litchi chinensis)

লিচু গাছ খুব ধীরগতিতে বড় হয়। এটি একটি মসৃণ, ধূসর, ভঙ্গুর ট্রাঙ্ক, ঘন, বৃত্তাকার ও মাঝারি আকারের চিরহরিৎ গাছ। এর উচ্চতা ৪০-৫০ ফুট পর্যন্ত হয়। ফল হবার পূর্বে ফুলের কুঁড়ি দিয়ে যখন যখন গাছটি অলঙ্কৃত হয়, তখন গাছটি অনেক আকর্ষণীয় দেখায়। বসন্তের সময় যখন গাছটি ফলে ভরে যায়, তখন আরও বেশী সুন্দর রূপ ধারণ করে।

কাঠামোগত কারনে লিচুর আকার ডিম্বাকৃতির হয়। এরা ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৩ সেন্টিমিটার ব্যাস বিশিষ্ট হয়। প্রতিটি লিচুর ওজন প্রায় ১০ গ্রাম এর মত হয়।

লিচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই-
১. প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে ৬৬ ক্যালরি রয়েছে। যা আঙ্গুরের তুলনায় অনেক কম। লিচুতে কোন সম্পৃক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই। কিন্তু, এতে ভালো পরিমাণে খাদ্য তালিকাগত ফাইবার, ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমূহ রয়েছে।

২. গবেষকরা বলেছেন, তারা লিচুতে প্রচুর পরিমাণে “অলিগনাল” নামক একটি আণবিক উপাদান পেয়েছেন। যা পলিফেনলের একটি আণবিক উপাদান। অলিগনাল এ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস কর্ম রয়েছে। যা বিভিন্ন ধরণের রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়াও রক্ত পরিবাহনের মাত্রা উন্নত করে, ওজন হ্রাস করে ও সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি হতে ত্বককে রক্ষা করে।

৩. লিচু একটি লেবু জাতীয় ফলের মত। এতে লেবুর মত প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। ১০০ গ্রাম তাজা ফল ৭১.৫ মিলিগ্রাম বা শরীরের দৈনন্দিন প্রস্তাবিত ১১৯ শতাংশ ভিটামিন প্রদান করে। গবেষণায় পাওয়া গেছে, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল শরীরের সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শরীরের প্রদাহজনিত ময়লা পরিষ্কার করে। মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করে।

৪. থিয়ামিন, নিয়াসিন ও ফলেটস এর মত ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর সবথেকে ভালো উৎস হল লিচু। এই উপাদানগুলো শরীরের জন্য অনেক কার্যকরী। কারন, এ সকল উপাদানে শরীরের প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও চর্বি রয়েছে। যা শরীরের জন্য অপরিহার্য।

৫. লিচুতে খুব ভালো পরিমাণে কপার ও পটাসিয়াম এর মত খনিজ রয়েছে। পটাসিয়াম আমাদের শরীরের কোষের জন্য অনেক উপকারী। এছাড়াও আমাদের হার্টের সুরক্ষা প্রদান করে, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

তাই, এই গ্রীষ্মে এই মজাদার সুস্বাদু ফল গ্রহণ করুন। লিচুর নানা প্রকারের সুবিধা ভোগ করে স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করুন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে মদনে জামায়াতের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

লিচুর অজানা কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা

আপডেট টাইম : ০৬:২৩:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ মে ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ গ্রীষ্মের আগমনের সাথে সাথে এই সুস্বাদু ও রসালো ফলের আগমন ঘটে। মিষ্টি ও পুষ্টিকর হবার পাশাপাশি গ্রীষ্মের কঠোর তাপ থেকে রেহাই পাবার জন্য মানব শরীরের তাপমাত্রায় শীতল প্রভাব বৃদ্ধি করে।

উদ্ভিদবিদ্যা অনুযায়ী, এই বহিরাগত ফলটি সাপিন্ডাচি (Sapindaceae) পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। লিচুর বৈজ্ঞানিক নাম হল লিচি চাইনেন্সিস (Litchi chinensis)

লিচু গাছ খুব ধীরগতিতে বড় হয়। এটি একটি মসৃণ, ধূসর, ভঙ্গুর ট্রাঙ্ক, ঘন, বৃত্তাকার ও মাঝারি আকারের চিরহরিৎ গাছ। এর উচ্চতা ৪০-৫০ ফুট পর্যন্ত হয়। ফল হবার পূর্বে ফুলের কুঁড়ি দিয়ে যখন যখন গাছটি অলঙ্কৃত হয়, তখন গাছটি অনেক আকর্ষণীয় দেখায়। বসন্তের সময় যখন গাছটি ফলে ভরে যায়, তখন আরও বেশী সুন্দর রূপ ধারণ করে।

কাঠামোগত কারনে লিচুর আকার ডিম্বাকৃতির হয়। এরা ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৩ সেন্টিমিটার ব্যাস বিশিষ্ট হয়। প্রতিটি লিচুর ওজন প্রায় ১০ গ্রাম এর মত হয়।

লিচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই-
১. প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে ৬৬ ক্যালরি রয়েছে। যা আঙ্গুরের তুলনায় অনেক কম। লিচুতে কোন সম্পৃক্ত চর্বি বা কোলেস্টেরল নেই। কিন্তু, এতে ভালো পরিমাণে খাদ্য তালিকাগত ফাইবার, ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমূহ রয়েছে।

২. গবেষকরা বলেছেন, তারা লিচুতে প্রচুর পরিমাণে “অলিগনাল” নামক একটি আণবিক উপাদান পেয়েছেন। যা পলিফেনলের একটি আণবিক উপাদান। অলিগনাল এ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস কর্ম রয়েছে। যা বিভিন্ন ধরণের রোগ প্রতিরোধ করে। এছাড়াও রক্ত পরিবাহনের মাত্রা উন্নত করে, ওজন হ্রাস করে ও সূর্যের অতি বেগুনী রশ্মি হতে ত্বককে রক্ষা করে।

৩. লিচু একটি লেবু জাতীয় ফলের মত। এতে লেবুর মত প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। ১০০ গ্রাম তাজা ফল ৭১.৫ মিলিগ্রাম বা শরীরের দৈনন্দিন প্রস্তাবিত ১১৯ শতাংশ ভিটামিন প্রদান করে। গবেষণায় পাওয়া গেছে, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল শরীরের সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শরীরের প্রদাহজনিত ময়লা পরিষ্কার করে। মস্তিষ্ক বিকাশে সহায়তা করে।

৪. থিয়ামিন, নিয়াসিন ও ফলেটস এর মত ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এর সবথেকে ভালো উৎস হল লিচু। এই উপাদানগুলো শরীরের জন্য অনেক কার্যকরী। কারন, এ সকল উপাদানে শরীরের প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও চর্বি রয়েছে। যা শরীরের জন্য অপরিহার্য।

৫. লিচুতে খুব ভালো পরিমাণে কপার ও পটাসিয়াম এর মত খনিজ রয়েছে। পটাসিয়াম আমাদের শরীরের কোষের জন্য অনেক উপকারী। এছাড়াও আমাদের হার্টের সুরক্ষা প্রদান করে, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।

তাই, এই গ্রীষ্মে এই মজাদার সুস্বাদু ফল গ্রহণ করুন। লিচুর নানা প্রকারের সুবিধা ভোগ করে স্বাস্থ্যের উন্নতি সাধন করুন।