ঢাকা ১১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

আল্লাহর জন্য ভালোবাসার পুরস্কার অফুরন্ত

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • ৪৭৯ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মানুষের সহজাত একটি প্রেরণা অন্যকে ভালোবাসা। এ ভালোবাসা যদি হয় নিঃস্বার্থ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তবে এর পুরস্কার অফুরন্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করবেন, ‘যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবেসেছিল, তারা কোথায়? আজ আমি তাদের আমার আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দান করব।’ (মুসলিম : ২৫৬৬)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে যারা পরস্পর ভালোবাসার সম্পর্ক রাখে, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য নুরের মিম্বর স্থাপন করা হবে, যা দেখে নবী এবং শহীদরা ঈর্ষা করবেন।’ (তিরমিজি : ২৩৯০)।

পবিত্র ইসলামে পরস্পরকে ভালোবাসার গুরুত্ব এত বেশি যে, এর ওপর ঈমানের ভিত্তি রাখা হয়েছে। প্রিয় নবীজি (সা.) এরশাদ করেন, ‘তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে না যতক্ষণ না মোমিন হবে। আর তোমরা মোমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পরস্পরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের আপসে ভালোবাসা পয়দা হবে? তা হলো সালামের প্রসার ঘটানো।’ (মুসলিম : ৫৪)। অন্য একটি হাদিসে নবীজি বলেছেন, ‘তোমরা একে অপরকে উপহার দাও। তাহলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাস ও হৃদ্যতা তৈরি হবে।’ (আদাবুল মুফরাদ : ৫৯৪)।

সমাজ জীবনে আমরা অন্যের জন্য কিছু না কিছু খরচ করে থাকি। উপহার, উপঢৌকন দিয়ে থাকি। আমাদের এ খরচ ও উপহার যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হয়, তবে তা আমাদের জন্য বয়ে আনবে প্রভূত কল্যাণ। মুয়াজ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যারা একে অপরকে ভালোবাসে, পরস্পর ওঠাবসা ও দেখা-সাক্ষাৎ করে কিংবা একে অপরের জন্য খরচ করে, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা ওয়াজিব হয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহমদ : ২১৫২৫)।

মা-বাবা, ভাইবোন, স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়স্বজনের ভালোবাসা মজ্জাগত ও স্বভাবজাত। এক্ষেত্রেও যদি আমরা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে পারি অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নবীজির সুন্নত পালন উদ্দেশ্য হয়, তবে এ ভালোবাসাতেও আমরা আল্লাহর তরফ থেকে পাব অফুরন্ত পুরস্কার। কেউ স্ত্রীকে ভালোবাসে রিপুর তাড়নায়। কেউবা ভালোবাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায়। দৃশ্যত উভয়ের ভালোবাসা এক হলেও প্রতিদানের বিচারে দুজনের ভালোবাসার মধ্যে রয়েছে আকাশপাতাল ব্যবধান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিবিদের সঙ্গে গল্প করেছেন। বিবিদের ১১ জন নারীর গল্প শোনানোর কথা হাদিসের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে। আম্মাজান আয়েশা (রা.) কে নিয়ে দৌড় প্রতিযোগিতার কথাও হাদিসে উল্লেখ আছে। তিনি শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাদের গালে স্নেহের চুমু এঁকে দিতেন। মাথায় হাত বুলাতেন। উপহার দিতেন। কখনও তাদের সঙ্গে খেলাধুলায় শরিক হতেন। সুুতরাং রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নত পালনার্থে স্ত্রী ও শিশুদের ভালোবাসা আল্লাহর জন্য ভালোবাসা বিবেচিত হবে।

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ঈমানের পূর্ণতার লক্ষণ। নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে আল্লাহর জন্য দান করল কিংবা আল্লাহর জন্য দান করা থেকে বিরত রইল এবং আল্লাহর জন্য কারও সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক কায়েম করল কিংবা আল্লাহর জন্য কারও সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাউকে বিবাহ করল, তার ঈমান পূর্ণতা লাভ করেছে।’ (তিরমিজি : ২৫২১)। মোমেন মূলত আল্লাহকেই ভালোবাসে। মানুষের ভালোবাসাও যদি হয় আল্লহর জন্য তখন স্বয়ং আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, ‘এক ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সাক্ষাতের জন্য ঘর থেকে রওনা হলো।

পথিমধ্যে আল্লাহ এক ফেরেশতাকে মানুষের বেশে পাঠালেন। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করল, তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে উত্তর দিল, এই গ্রামে আমার এক ভাই থাকেন। তাকে দেখতে যাচ্ছি। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করল, তোমার প্রতি কি তার কোনো অনুগ্রহ রয়েছে, যার বিনিময় দেওয়ার জন্য যাচ্ছ? সে বলল, না। আমি যাচ্ছি এজন্য যে, আমি তাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসি। ফেরেশতা বলল, (তাহলে শোন) আমি তোমার কাছে আল্লাহর দূত হিসেবে এসেছি এ কথা জানানোর জন্য যে, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন; যেমন তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাস।’ (মুসলিম : ২৫৬৭)।

আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসলে তাকে সেকথা জানিয়ে দেওয়া উচিত। তাহলে উভয়পক্ষ থেকে ভালোবাসার সৃষ্টি হবে এবং সে ভালোবাসা প্রগাঢ় হবে। মিকদাদ বিন মাদিকারিব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘কেউ অন্যকে ভালোবাসলে যেন তাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে দেয়।’ (আবু দাউদ : ৫১২৪)।
ইসলামের এ পবিত্র ভালোবাসা যেন অপাত্রে না হয়। সব জিনিসের বৈধ-অবৈধ ক্ষেত্র রয়েছে। ভালোবাসার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম নয়। বিবাহপূর্ব ছেলেমেয়ের ভালোবাসা ইসলামের দৃষ্টিতে অবৈধ ও অন্যায়। এতে চারিত্রিক পবিত্রতা বিনষ্ট হয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে অশান্তি ও বহুমুখী সংকট তৈরি হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো পুরুষ যখন পরনারীর সঙ্গে নির্জনে সাক্ষাৎ করে, তখন সেখানে তৃতীয়জন হিসেবে শয়তান উপস্থিত থাকে।’ (তিরমিজি : ১১৭১)। অন্য একটি হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘চোখের জেনা দেখা। মুখের জেনা কথা বলা। হাতের জেনা স্পর্শ করা। পায়ের জেনা তার দিকে চলা।’ (বোখারি : ৬২৪৩)।

বর্তমানে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালনের যে অপসংস্কৃতি চালু হয়েছে, তা যুবসমাজকে অন্যায়ের পথে ঠেলে দিচ্ছে। দিবসটির কুপ্রভাব দিন দিন এতই বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, সমাজ থেকে বিদায় নিচ্ছে লজ্জা-শরম, শালীনতা ও নীতিবোধ। মূলত মুসলমানদের চরিত্র বিনষ্ট করার অসৎ উদ্দেশ্যেই দিবসটি আমদানি করা হয়েছে। তাই আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য এ অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। বিশেষ করে সরকার ও অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে। মনে রাখতে হবে, যুবসমাজের চরিত্র পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। যুবকরা ভালো হলে জাতি ভালো হবে। আর যুবকরা বিপথগামী হলে পুরো জাতি বিপথগামী হতে বাধ্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

আল্লাহর জন্য ভালোবাসার পুরস্কার অফুরন্ত

আপডেট টাইম : ০৪:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ মানুষের সহজাত একটি প্রেরণা অন্যকে ভালোবাসা। এ ভালোবাসা যদি হয় নিঃস্বার্থ ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তবে এর পুরস্কার অফুরন্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করবেন, ‘যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবেসেছিল, তারা কোথায়? আজ আমি তাদের আমার আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দান করব।’ (মুসলিম : ২৫৬৬)। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘আল্লাহর ওয়াস্তে যারা পরস্পর ভালোবাসার সম্পর্ক রাখে, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য নুরের মিম্বর স্থাপন করা হবে, যা দেখে নবী এবং শহীদরা ঈর্ষা করবেন।’ (তিরমিজি : ২৩৯০)।

পবিত্র ইসলামে পরস্পরকে ভালোবাসার গুরুত্ব এত বেশি যে, এর ওপর ঈমানের ভিত্তি রাখা হয়েছে। প্রিয় নবীজি (সা.) এরশাদ করেন, ‘তোমরা জান্নাতে যেতে পারবে না যতক্ষণ না মোমিন হবে। আর তোমরা মোমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পরস্পরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদের এমন আমলের কথা বলে দেব না, যা করলে তোমাদের আপসে ভালোবাসা পয়দা হবে? তা হলো সালামের প্রসার ঘটানো।’ (মুসলিম : ৫৪)। অন্য একটি হাদিসে নবীজি বলেছেন, ‘তোমরা একে অপরকে উপহার দাও। তাহলে তোমাদের মধ্যে ভালোবাস ও হৃদ্যতা তৈরি হবে।’ (আদাবুল মুফরাদ : ৫৯৪)।

সমাজ জীবনে আমরা অন্যের জন্য কিছু না কিছু খরচ করে থাকি। উপহার, উপঢৌকন দিয়ে থাকি। আমাদের এ খরচ ও উপহার যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য হয়, তবে তা আমাদের জন্য বয়ে আনবে প্রভূত কল্যাণ। মুয়াজ (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যারা একে অপরকে ভালোবাসে, পরস্পর ওঠাবসা ও দেখা-সাক্ষাৎ করে কিংবা একে অপরের জন্য খরচ করে, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা ওয়াজিব হয়ে যায়।’ (মুসনাদে আহমদ : ২১৫২৫)।

মা-বাবা, ভাইবোন, স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়স্বজনের ভালোবাসা মজ্জাগত ও স্বভাবজাত। এক্ষেত্রেও যদি আমরা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে পারি অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং নবীজির সুন্নত পালন উদ্দেশ্য হয়, তবে এ ভালোবাসাতেও আমরা আল্লাহর তরফ থেকে পাব অফুরন্ত পুরস্কার। কেউ স্ত্রীকে ভালোবাসে রিপুর তাড়নায়। কেউবা ভালোবাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনায়। দৃশ্যত উভয়ের ভালোবাসা এক হলেও প্রতিদানের বিচারে দুজনের ভালোবাসার মধ্যে রয়েছে আকাশপাতাল ব্যবধান। রাসুলুল্লাহ (সা.) বিবিদের সঙ্গে গল্প করেছেন। বিবিদের ১১ জন নারীর গল্প শোনানোর কথা হাদিসের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে। আম্মাজান আয়েশা (রা.) কে নিয়ে দৌড় প্রতিযোগিতার কথাও হাদিসে উল্লেখ আছে। তিনি শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাদের গালে স্নেহের চুমু এঁকে দিতেন। মাথায় হাত বুলাতেন। উপহার দিতেন। কখনও তাদের সঙ্গে খেলাধুলায় শরিক হতেন। সুুতরাং রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সুন্নত পালনার্থে স্ত্রী ও শিশুদের ভালোবাসা আল্লাহর জন্য ভালোবাসা বিবেচিত হবে।

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা ঈমানের পূর্ণতার লক্ষণ। নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কাউকে আল্লাহর জন্য দান করল কিংবা আল্লাহর জন্য দান করা থেকে বিরত রইল এবং আল্লাহর জন্য কারও সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক কায়েম করল কিংবা আল্লাহর জন্য কারও সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করল এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাউকে বিবাহ করল, তার ঈমান পূর্ণতা লাভ করেছে।’ (তিরমিজি : ২৫২১)। মোমেন মূলত আল্লাহকেই ভালোবাসে। মানুষের ভালোবাসাও যদি হয় আল্লহর জন্য তখন স্বয়ং আল্লাহ তাকে ভালোবাসেন। হাদিসে বর্ণিত রয়েছে, ‘এক ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের সাক্ষাতের জন্য ঘর থেকে রওনা হলো।

পথিমধ্যে আল্লাহ এক ফেরেশতাকে মানুষের বেশে পাঠালেন। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করল, তুমি কোথায় যাচ্ছ? সে উত্তর দিল, এই গ্রামে আমার এক ভাই থাকেন। তাকে দেখতে যাচ্ছি। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করল, তোমার প্রতি কি তার কোনো অনুগ্রহ রয়েছে, যার বিনিময় দেওয়ার জন্য যাচ্ছ? সে বলল, না। আমি যাচ্ছি এজন্য যে, আমি তাকে আল্লাহর ওয়াস্তে ভালোবাসি। ফেরেশতা বলল, (তাহলে শোন) আমি তোমার কাছে আল্লাহর দূত হিসেবে এসেছি এ কথা জানানোর জন্য যে, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন; যেমন তুমি তাকে আল্লাহর জন্য ভালোবাস।’ (মুসলিম : ২৫৬৭)।

আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসলে তাকে সেকথা জানিয়ে দেওয়া উচিত। তাহলে উভয়পক্ষ থেকে ভালোবাসার সৃষ্টি হবে এবং সে ভালোবাসা প্রগাঢ় হবে। মিকদাদ বিন মাদিকারিব (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘কেউ অন্যকে ভালোবাসলে যেন তাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে দেয়।’ (আবু দাউদ : ৫১২৪)।
ইসলামের এ পবিত্র ভালোবাসা যেন অপাত্রে না হয়। সব জিনিসের বৈধ-অবৈধ ক্ষেত্র রয়েছে। ভালোবাসার বিষয়টি এর ব্যতিক্রম নয়। বিবাহপূর্ব ছেলেমেয়ের ভালোবাসা ইসলামের দৃষ্টিতে অবৈধ ও অন্যায়। এতে চারিত্রিক পবিত্রতা বিনষ্ট হয়। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে অশান্তি ও বহুমুখী সংকট তৈরি হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোনো পুরুষ যখন পরনারীর সঙ্গে নির্জনে সাক্ষাৎ করে, তখন সেখানে তৃতীয়জন হিসেবে শয়তান উপস্থিত থাকে।’ (তিরমিজি : ১১৭১)। অন্য একটি হাদিসে নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘চোখের জেনা দেখা। মুখের জেনা কথা বলা। হাতের জেনা স্পর্শ করা। পায়ের জেনা তার দিকে চলা।’ (বোখারি : ৬২৪৩)।

বর্তমানে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস পালনের যে অপসংস্কৃতি চালু হয়েছে, তা যুবসমাজকে অন্যায়ের পথে ঠেলে দিচ্ছে। দিবসটির কুপ্রভাব দিন দিন এতই বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, সমাজ থেকে বিদায় নিচ্ছে লজ্জা-শরম, শালীনতা ও নীতিবোধ। মূলত মুসলমানদের চরিত্র বিনষ্ট করার অসৎ উদ্দেশ্যেই দিবসটি আমদানি করা হয়েছে। তাই আমাদের প্রত্যেকের কর্তব্য এ অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো। বিশেষ করে সরকার ও অভিভাবকদের এ ব্যাপারে সোচ্চার হতে হবে। মনে রাখতে হবে, যুবসমাজের চরিত্র পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। যুবকরা ভালো হলে জাতি ভালো হবে। আর যুবকরা বিপথগামী হলে পুরো জাতি বিপথগামী হতে বাধ্য।