ঢাকা ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

হাকালুকিতে হাওরে কমছে অতিথি পাখি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:২৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • ২৮৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সুদূর সাইবেরিয়া থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে প্রতিবছর যেখানে ৫০-৬০ প্রজাতির অতিথি পাখি আসতো দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে এবার ৩০-৩৫ প্রজাতির পাখি এসেছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ, পাখি শিকারীদের বেপরোয়া তৎপরতার কারনে নিধন হচ্ছে অতিথি পাখি। এছাড়াও হাকালুকিতে মাত্রাতিরিক্ত মহিষ চড়ানোর কারনে বিনষ্ট হচ্ছে সোয়াম ফরেষ্ট (জলজ বন)। এতে জীব বৈচিত্র হারাচ্ছে এই হাওর।

এক সময় এই হাওর অতিথি পাখি নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র ছিল কিন্তু সাম্প্রতিক বছর গুলোতে হাওরটি অতিথি পাখির জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। বিষটোপ দিয়ে, বিভিন্ন ফাঁদ তৈরি করে পাখি শিকারের ফলে অতিথি পাখিরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে এই অঞ্চল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পাখির সংখ্যা। আশু পদক্ষেপ না নিলে হুমকিতে পড়বে জীববৈচিত্র।

জানা যায়, ২৩৮টি বিল, ১০টি নদী নিয়ে গঠিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ৫ টি উপজেলায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। শীতকাল শুরুর সাথে শীতপ্রধান দেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করে ৫০-৬০ প্রজাতির অতিথি পাখি। সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয়ের পাদদেশ লাদাক থেকে অতিথি পাখি আসে হাকালুকি হাওরে। ঐসব দেশে যখন শীতের তীব্রতা দেখা দেয়, তখন এদেশের আতিথ্য গ্রহণ করতে লাখো অতিথি পাখি ছুটে আসে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। ভিনদেশী বিচিত্র রঙের এসব অতিথি পাখি হাকালুকি হাওরে আসা শত শত পর্যটকদের মধ্যে বিনোদনের অন্যতম খোরাক।

অতিথি পাখিরা হাকালুকি হাওরের চকিয়া, কাংলি, গোবরকুড়ি, গৌড়কুড়ি, জল্লা, হাওরখাল, পিংলা, কালাপানি, মালাম, বাইয়াগজুয়া, নাগুয়ালরীবাই, ফুটবিল ও কৈয়াকোনা বিলে আশ্রয় নেয়।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাকালুকিতে অনেক দুষ্প্রাপ্য মাছ ফিরে আসার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু হাওরে মহিষ চরিয়ে জলজ বন (সোয়াম্প ফরেষ্ট) ধ্বংস এবং বিষটোপ দিয়ে পাখি শিকারের কারনে অতিথি পাখিরা আর আগের মত আসছে না। আগে ৫০-৬০ প্রজাতির পাখি আসলেও এবার বড়জোর ৩০-৩৫ প্রজাতির পাখি এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে হাওর একসময় পাখিশুন্য হয়ে পড়বে। অবিলম্বে হাওরের জলজ বনে মহিষ চরানো বন্ধ করা ও বিষটোপ দিয়ে পাখি শিকার বন্ধ করা না গেলে চরম হুমকিতে পড়বে হাওর জীববৈচিত্র।

গত ৯ ফেব্রুয়ারী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুছ আকন্দ এবং কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহমুদ বিলুপ্ত প্রায় মাছের প্রাচুর্যতা সমীক্ষা করার জন্য হাকালুকিতে যান। এসময় বিভিন্ন স্থানে এলাপাতাড়ি পানি কিংবা ডাঙ্গায় অসংখ্য মৃত অতিথি দেখতে পান তাঁরা। ধারনা করা হচ্ছে ওগুলো বিষটোপে মারা গেছে।

এবিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মৃত অতিথি পাখি দেখে আমি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের আশু পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মত প্রকাশ করি। ইতিমধ্যে বন বিভাগ এবং পরিবেশ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেছেন। প্রয়োজনে যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। তিনি পাখি শিকার চক্রকে ধরিয়ে দিতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

হাকালুকিতে হাওরে কমছে অতিথি পাখি

আপডেট টাইম : ১২:২৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ সুদূর সাইবেরিয়া থেকে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে প্রতিবছর যেখানে ৫০-৬০ প্রজাতির অতিথি পাখি আসতো দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকিতে এবার ৩০-৩৫ প্রজাতির পাখি এসেছে। স্থানীয়দের ক্ষোভ, পাখি শিকারীদের বেপরোয়া তৎপরতার কারনে নিধন হচ্ছে অতিথি পাখি। এছাড়াও হাকালুকিতে মাত্রাতিরিক্ত মহিষ চড়ানোর কারনে বিনষ্ট হচ্ছে সোয়াম ফরেষ্ট (জলজ বন)। এতে জীব বৈচিত্র হারাচ্ছে এই হাওর।

এক সময় এই হাওর অতিথি পাখি নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র ছিল কিন্তু সাম্প্রতিক বছর গুলোতে হাওরটি অতিথি পাখির জন্য অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। বিষটোপ দিয়ে, বিভিন্ন ফাঁদ তৈরি করে পাখি শিকারের ফলে অতিথি পাখিরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে এই অঞ্চল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পাখির সংখ্যা। আশু পদক্ষেপ না নিলে হুমকিতে পড়বে জীববৈচিত্র।

জানা যায়, ২৩৮টি বিল, ১০টি নদী নিয়ে গঠিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলার ৫ টি উপজেলায় অবস্থিত দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকি। শীতকাল শুরুর সাথে শীতপ্রধান দেশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে শুরু করে ৫০-৬০ প্রজাতির অতিথি পাখি। সুদূর সাইবেরিয়া ও হিমালয়ের পাদদেশ লাদাক থেকে অতিথি পাখি আসে হাকালুকি হাওরে। ঐসব দেশে যখন শীতের তীব্রতা দেখা দেয়, তখন এদেশের আতিথ্য গ্রহণ করতে লাখো অতিথি পাখি ছুটে আসে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। ভিনদেশী বিচিত্র রঙের এসব অতিথি পাখি হাকালুকি হাওরে আসা শত শত পর্যটকদের মধ্যে বিনোদনের অন্যতম খোরাক।

অতিথি পাখিরা হাকালুকি হাওরের চকিয়া, কাংলি, গোবরকুড়ি, গৌড়কুড়ি, জল্লা, হাওরখাল, পিংলা, কালাপানি, মালাম, বাইয়াগজুয়া, নাগুয়ালরীবাই, ফুটবিল ও কৈয়াকোনা বিলে আশ্রয় নেয়।

স্থানীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, হাকালুকিতে অনেক দুষ্প্রাপ্য মাছ ফিরে আসার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু হাওরে মহিষ চরিয়ে জলজ বন (সোয়াম্প ফরেষ্ট) ধ্বংস এবং বিষটোপ দিয়ে পাখি শিকারের কারনে অতিথি পাখিরা আর আগের মত আসছে না। আগে ৫০-৬০ প্রজাতির পাখি আসলেও এবার বড়জোর ৩০-৩৫ প্রজাতির পাখি এসেছে। এভাবে চলতে থাকলে হাওর একসময় পাখিশুন্য হয়ে পড়বে। অবিলম্বে হাওরের জলজ বনে মহিষ চরানো বন্ধ করা ও বিষটোপ দিয়ে পাখি শিকার বন্ধ করা না গেলে চরম হুমকিতে পড়বে হাওর জীববৈচিত্র।

গত ৯ ফেব্রুয়ারী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুছ আকন্দ এবং কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহমুদ বিলুপ্ত প্রায় মাছের প্রাচুর্যতা সমীক্ষা করার জন্য হাকালুকিতে যান। এসময় বিভিন্ন স্থানে এলাপাতাড়ি পানি কিংবা ডাঙ্গায় অসংখ্য মৃত অতিথি দেখতে পান তাঁরা। ধারনা করা হচ্ছে ওগুলো বিষটোপে মারা গেছে।

এবিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, মৃত অতিথি পাখি দেখে আমি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের আশু পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মত প্রকাশ করি। ইতিমধ্যে বন বিভাগ এবং পরিবেশ অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেছেন। প্রয়োজনে যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। তিনি পাখি শিকার চক্রকে ধরিয়ে দিতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।