ঢাকা ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
রিজার্ভ চুরি মামলার ‘খসড়া চার্জশিট’ নিয়ে প্রকাশিত তথ্য সিআইডির নয় গাঢ় নীল-জলপাই রঙে ফিরছে পুলিশের ইউনিফর্ম ১৪০ কোটি টাকা পাচ্ছে বেসরকারি এতিমখানা ‘এখনো সময় আছে’, জুলাইপন্থীদের উদ্দেশে মাহফুজ আলমের বার্তা সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের দুঃখপ্রকাশ সাকলায়েন–পরীমণির সম্পর্ক: প্রশ্নের জবাবে যা বলেছিলেন নায়িকা হাতে স্টিয়ারিং, কাঁধে নিজের ব্যাগ, কী বার্তা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তরুণীকে মদের বারে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প নিয়ে সুসংবাদ দিলেন পানি সম্পদমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে জাহাজ চলাচল

ফুলনগরীর নতুন অতিথি এখন জারবেরা ফুল

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:৪১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • ৮৫৮ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ঝিনাইদহের ফুলনগরী খ্যাত কালীগঞ্জের নতুন অতিথি এখন জারবেরা ফুল। কালীগঞ্জ উপজেলা ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের ছোটঘিঘাটির মাঠে এই বিদেশি জাতের ফুলের চাষ করা হয়েছে। ত্রিলোচনপুর গ্রামের ফুল চাষী ও ফুল ব্যবসায়ী টিপু সুলতান এবং নুর মোহাম্মদ যৌথভাবে প্রায় তিন বিঘা জমিতে এই ফুলের চাষ করেছেন।

প্রায় ২০ বছর ধরে এই ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে কৃষকরা শত শত একর জমিতে গাঁধা, রজনীগন্ধা, গোলাপ ও গ্যালোডিয়াসসহ বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করে থাকে। চলতি বছরও এই উপজেলার ৩২০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুলের চাষ করা হয়েছে। যে কারণে এ এলাকাটি মানুষের কাছে ফুল নগরী বলে পরিচিত। বিদেশি জাতের এই ফুল লাল, সাদা, হলুদ ও গোলাপিসহ ৮টি বাহারি রঙের হয়ে থাকে। তবে এই ফুলের কোন গন্ধ নেই। বিদেশি জাতের এই ফুলটি ক্ষেত থেকে তোলার পরও ১০ থেকে ১৫ দিন তাজা থাকে। যে কারণে বাজারে এই ফুলে চাহিদা বেশ।

২০১৭ সালের জুন মাসে প্রায় তিন বিঘা জমিতে প্রথম এই ফুলের বীজ রোপণ করেন ফুলচাষী টিপু সুলতান ও নুর মোহাম্মদ। বীজ আনা হয় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে। আর ফুল ক্ষেতের উপর ছাউনি দিতে একই দেশ থেকে আমদানি করা হয় বিশেষ ধরনের পলিথিন। যা তৈরি হয় ইউরোপের দেশ গুলোতে। রোপণের তিন মাস পর গাছে ফুল আসতে শুরু করে। একটি গাছ একাধারে দুই থেকে তিন বছর ফুল দেয়। এ সময়ে একটি গাছে ২০ থেকে ২৫টি ফুল পাওয়া যায়।

কৃষিবিদ ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জারবেরা ফুল চাষের জন্য এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া বেশ উপযোগী। বছরের যে কোন সময় চাষ করা যায়। শীত মৌসুমের উৎপাদন বেশি হয়। এছাড়া দেশের বাজারে এই ফুলে দাম ও চাহিদা বেশি। তবে এই ফুল লাভজনক হলেও খরচ বেশি হওয়ায় চাষ করতে পারছে না সাধারণ কৃষকরা।

ফুলচাষী টিপু সুলতান জানান, গেল বছরের রোজার মাসে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বীজ সংগ্রহ করে ৯৬ শতক জমিতে রোপণ করি। এরপর তিন মাস পর গাছে ফুল আসতে শুরু করে। বীজ রোপণ, ক্ষেতের চারপাশে বাঁশের বেড়া স্থাপন, উপরের ছাউনি, সার ওষুধ ও শ্রমিক খরচসহ এ পর্যন্ত ৩৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এই ফুল পরিচর্যা করার জন্য চারজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে।

তিনি আরো জানান, গত ছয় মাসে ১৫ লক্ষাধিক টাকার ফুল বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন এক হাজার থেকে ১২শ ফুল সংগ্রহ করা যাচ্ছে। একটি ফুল ১০ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন এই ফুল ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করে ঢাকা, সিলেট, চট্রগ্রাম দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, জার্মান পরিবেশবিদ ডাক্তার ট্রগোট জারবের এর নামানুসারে ফুলটির নামকরণ করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

রিজার্ভ চুরি মামলার ‘খসড়া চার্জশিট’ নিয়ে প্রকাশিত তথ্য সিআইডির নয়

ফুলনগরীর নতুন অতিথি এখন জারবেরা ফুল

আপডেট টাইম : ০৪:৪১:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ ঝিনাইদহের ফুলনগরী খ্যাত কালীগঞ্জের নতুন অতিথি এখন জারবেরা ফুল। কালীগঞ্জ উপজেলা ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের ছোটঘিঘাটির মাঠে এই বিদেশি জাতের ফুলের চাষ করা হয়েছে। ত্রিলোচনপুর গ্রামের ফুল চাষী ও ফুল ব্যবসায়ী টিপু সুলতান এবং নুর মোহাম্মদ যৌথভাবে প্রায় তিন বিঘা জমিতে এই ফুলের চাষ করেছেন।

প্রায় ২০ বছর ধরে এই ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠে কৃষকরা শত শত একর জমিতে গাঁধা, রজনীগন্ধা, গোলাপ ও গ্যালোডিয়াসসহ বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ করে থাকে। চলতি বছরও এই উপজেলার ৩২০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুলের চাষ করা হয়েছে। যে কারণে এ এলাকাটি মানুষের কাছে ফুল নগরী বলে পরিচিত। বিদেশি জাতের এই ফুল লাল, সাদা, হলুদ ও গোলাপিসহ ৮টি বাহারি রঙের হয়ে থাকে। তবে এই ফুলের কোন গন্ধ নেই। বিদেশি জাতের এই ফুলটি ক্ষেত থেকে তোলার পরও ১০ থেকে ১৫ দিন তাজা থাকে। যে কারণে বাজারে এই ফুলে চাহিদা বেশ।

২০১৭ সালের জুন মাসে প্রায় তিন বিঘা জমিতে প্রথম এই ফুলের বীজ রোপণ করেন ফুলচাষী টিপু সুলতান ও নুর মোহাম্মদ। বীজ আনা হয় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে। আর ফুল ক্ষেতের উপর ছাউনি দিতে একই দেশ থেকে আমদানি করা হয় বিশেষ ধরনের পলিথিন। যা তৈরি হয় ইউরোপের দেশ গুলোতে। রোপণের তিন মাস পর গাছে ফুল আসতে শুরু করে। একটি গাছ একাধারে দুই থেকে তিন বছর ফুল দেয়। এ সময়ে একটি গাছে ২০ থেকে ২৫টি ফুল পাওয়া যায়।

কৃষিবিদ ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জারবেরা ফুল চাষের জন্য এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া বেশ উপযোগী। বছরের যে কোন সময় চাষ করা যায়। শীত মৌসুমের উৎপাদন বেশি হয়। এছাড়া দেশের বাজারে এই ফুলে দাম ও চাহিদা বেশি। তবে এই ফুল লাভজনক হলেও খরচ বেশি হওয়ায় চাষ করতে পারছে না সাধারণ কৃষকরা।

ফুলচাষী টিপু সুলতান জানান, গেল বছরের রোজার মাসে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে বীজ সংগ্রহ করে ৯৬ শতক জমিতে রোপণ করি। এরপর তিন মাস পর গাছে ফুল আসতে শুরু করে। বীজ রোপণ, ক্ষেতের চারপাশে বাঁশের বেড়া স্থাপন, উপরের ছাউনি, সার ওষুধ ও শ্রমিক খরচসহ এ পর্যন্ত ৩৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এই ফুল পরিচর্যা করার জন্য চারজন শ্রমিক নিয়মিত কাজ করে।

তিনি আরো জানান, গত ছয় মাসে ১৫ লক্ষাধিক টাকার ফুল বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন এক হাজার থেকে ১২শ ফুল সংগ্রহ করা যাচ্ছে। একটি ফুল ১০ থেকে ১৬ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন এই ফুল ক্ষেত থেকে সংগ্রহ করে ঢাকা, সিলেট, চট্রগ্রাম দেশের বিভিন্ন শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, জার্মান পরিবেশবিদ ডাক্তার ট্রগোট জারবের এর নামানুসারে ফুলটির নামকরণ করা হয়।