ঢাকা ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

সাকলায়েন–পরীমণির সম্পর্ক: প্রশ্নের জবাবে যা বলেছিলেন নায়িকা

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ১২:১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ০ বার

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর আবারো আলোচনায় এসেছে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে ঘিরে বহুল আলোচিত সেই ঘটনা। ২০২৪ সালের ২৫ জুন, এক সাক্ষাৎকারে সাকলায়েনকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে খোলামেলা কথা বলেছিলেন পরীমণি। সে সময় এ অভিনেত্রী দাবি করেছিলেন—সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।

সাকলায়েনের চাকরি হারানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পরীমণি বলেছিলেন, “আমি বা সাকলায়েন বলার আগে তো পাবলিকই এটা নিয়ে কথা বলছে। প্রশাসনও এটা নিয়ে বলছে। এটা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে এখনো আসেনি। ব্যক্তিগত পর্যায়ে যদি আসে, তখন আমি কথা বলব।”

সাকলায়েনের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে পরীমণি বলেছিলেন, “সম্পর্কের বিষয় যদি আসে, এটা তো একজনের ব্যাপার না, দুজনের পক্ষ থেকেই আসে। এখন পর্যন্তও আমাদের সম্পর্কটা তো মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা প্রেমে ছিলাম, না কি কী করছি, কোনো কিছুই তো পরিষ্কার নয়। এটা না সাকলায়েনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, না আমার কাছে। সবখানে মনগড়া জিনিস লেখা হয়েছে।”

তাদের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে পরীমণি বলেছিলেন, “যেখানে সম্পর্কটা ডিফাইন করার আগেই এত অপবাদ নিয়ে ফেলছি, সেখানে এই সম্পর্কটা কী, তা নিয়ে কথা বলার জায়গাও তো জনগণ রাখেনি। আমার মনে হয় না, এটার আর কোনো দরকার আছে।”

একই সাক্ষাৎকারে সাকলায়েনের বিষয়ে পরীমণি পরিষ্কার বলেন, “আমার শুধু মনে হয়, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের মধ্যে পড়েছে।”

সাকলায়েনের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পরীমণি। তার ভাষায়, “প্রেম-ভালোবাসা যা-ই হোক না কেন, এটা শুধু একটা অদ্ভুত কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। আবারো বলছি, আমার মনে হয়, সে অন্য কোথাও ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।”

ব্যক্তিগত আক্রোশটা কার? এমন প্রশ্নের জবাবে পরীমণি বলেন, “আমি জানি না। তবে অবশ্যই ব্যক্তিগত আক্রোশ। কিন্তু এমনটা নয়, প্রেম-ভালোবাসা ও সম্পর্কের কারণে হয়েছে, তা আমি বিশ্বাস করি না।”

সাকলায়েনকে একজন মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে পরীমণি বলেছিলেন, “নিঃসন্দেহে সাকলায়েন একজন ট্যালেন্টেড ও সফল মানুষ। ওর পেছনেও অনেকে হয়তো লেগেছিল। তার এখনকার বরখাস্ত হওয়ার ব্যাপারটা খুবই অদ্ভুত। এটা খুবই অন্যায় হয়েছে। সাকলায়েনের প্রতি নিঃসন্দেহে অন্যায় হয়েছে।”

সাক্ষাৎকারের শেষ দিকেও একই অবস্থানে অনড় ছিলেন পরীমণি। তিনি বলেছিলেন, “সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে। সে ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।”

গতকাল জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে মো. গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

জনসচেতনতা বাড়লে সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

সাকলায়েন–পরীমণির সম্পর্ক: প্রশ্নের জবাবে যা বলেছিলেন নায়িকা

আপডেট টাইম : ১২:১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর আবারো আলোচনায় এসেছে চিত্রনায়িকা পরীমণিকে ঘিরে বহুল আলোচিত সেই ঘটনা। ২০২৪ সালের ২৫ জুন, এক সাক্ষাৎকারে সাকলায়েনকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে খোলামেলা কথা বলেছিলেন পরীমণি। সে সময় এ অভিনেত্রী দাবি করেছিলেন—সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।

সাকলায়েনের চাকরি হারানোর বিষয়ে জানতে চাইলে পরীমণি বলেছিলেন, “আমি বা সাকলায়েন বলার আগে তো পাবলিকই এটা নিয়ে কথা বলছে। প্রশাসনও এটা নিয়ে বলছে। এটা কিন্তু ব্যক্তিগত পর্যায়ে এখনো আসেনি। ব্যক্তিগত পর্যায়ে যদি আসে, তখন আমি কথা বলব।”

সাকলায়েনের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে পরীমণি বলেছিলেন, “সম্পর্কের বিষয় যদি আসে, এটা তো একজনের ব্যাপার না, দুজনের পক্ষ থেকেই আসে। এখন পর্যন্তও আমাদের সম্পর্কটা তো মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। আমরা প্রেমে ছিলাম, না কি কী করছি, কোনো কিছুই তো পরিষ্কার নয়। এটা না সাকলায়েনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, না আমার কাছে। সবখানে মনগড়া জিনিস লেখা হয়েছে।”

তাদের সম্পর্কের প্রকৃতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে পরীমণি বলেছিলেন, “যেখানে সম্পর্কটা ডিফাইন করার আগেই এত অপবাদ নিয়ে ফেলছি, সেখানে এই সম্পর্কটা কী, তা নিয়ে কথা বলার জায়গাও তো জনগণ রাখেনি। আমার মনে হয় না, এটার আর কোনো দরকার আছে।”

একই সাক্ষাৎকারে সাকলায়েনের বিষয়ে পরীমণি পরিষ্কার বলেন, “আমার শুধু মনে হয়, সাকলায়েন ব্যক্তিগত আক্রোশের মধ্যে পড়েছে।”

সাকলায়েনের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পরীমণি। তার ভাষায়, “প্রেম-ভালোবাসা যা-ই হোক না কেন, এটা শুধু একটা অদ্ভুত কারণ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। আবারো বলছি, আমার মনে হয়, সে অন্য কোথাও ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।”

ব্যক্তিগত আক্রোশটা কার? এমন প্রশ্নের জবাবে পরীমণি বলেন, “আমি জানি না। তবে অবশ্যই ব্যক্তিগত আক্রোশ। কিন্তু এমনটা নয়, প্রেম-ভালোবাসা ও সম্পর্কের কারণে হয়েছে, তা আমি বিশ্বাস করি না।”

সাকলায়েনকে একজন মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে পরীমণি বলেছিলেন, “নিঃসন্দেহে সাকলায়েন একজন ট্যালেন্টেড ও সফল মানুষ। ওর পেছনেও অনেকে হয়তো লেগেছিল। তার এখনকার বরখাস্ত হওয়ার ব্যাপারটা খুবই অদ্ভুত। এটা খুবই অন্যায় হয়েছে। সাকলায়েনের প্রতি নিঃসন্দেহে অন্যায় হয়েছে।”

সাক্ষাৎকারের শেষ দিকেও একই অবস্থানে অনড় ছিলেন পরীমণি। তিনি বলেছিলেন, “সাকলায়েনের জন্য খারাপ লাগছে। সে ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার।”

গতকাল জারি করা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হয়েও চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগে মো. গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।