ঢাকা ০৮:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

গ্রাম-বাংলার জ্বালানি গোবরের লাকড়ি

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৫৬৪ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এক সময়ে গ্রাম-বাংলার আড়া-জঙ্গলের লতাপাতা কুড়িয়ে জ্বালানি হিসাবে রান্নার কাজে ব্যবহার হতো।এখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে গ্রামীণ আড়া-জঙ্গল নিধন করে ভূমি তৈরি করা হচ্ছে। আর ওই ভূমিতে ফসল উৎপাদনসহ বসবাস শুরু করেছে মালিকরা।

এ কারণে বিলুপ্তির পথে বনাঞ্চল বা আড়া-জঙ্গল। এর ফলে নিন্ম আয়ের বধুদের রান্না কাজে দেখা দেয় জ্বালানি খড়ির সংকট। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বধুরা নিজের গাছের খড়ি বা গ্যাস দিয়ে রান্না করতে পারলেও চরম বেকায়দায় পড়েছেন নিন্ম আয়ের বধুরা।

তারা গ্যাস বা গাছের কাঠ-খড়ি ক্রয় করতে না পেড়ে শুরু করেছেন গৃহপালিত গরুর গোবর সংগহে। সেই গোবর দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে লাখড়ি/খড়ি। সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবহারের জন্য গরুর গোবরের তৈরি লাখড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার গ্রামঞ্চলের গরীব গৃহবধুদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই সম্প্রতি উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে গরুর গোবর দিয়ে লাকড়ি তৈরি ধুম পড়েছে।

সোমবার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামঞ্চলে ঘরে দেখা গেছে, বিশেষ করে নিন্ম আয়ের পরিবারের বধুরা গৃহপালিত গরুর গোবরের লাখড়ী তৈরিতে মেতে উঠেছেন। গ্রামীণ এই বধুরা সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠে গোয়াল ঘরে প্রবেশ করেন। এবং ডালি ভর্তি বের করে নিয়ে আসেন গোবর। এরপর বাড়ির আঙ্গিনায় অথবা উঠানে বসে পরেন লাখড়ি তৈরির কাজে।

জানা যায়, গোবরের সাথে মিশ্রিত করা হয় আংশিক পরিমানের ধানের তুষ বা গাছের ভূষি। এরপর ২/৩ ফুট লম্বা বাঁশের চিকন বাতি বা পাটের শলা দিয়ে বধুরা তৈরি করে লাখড়ি। এসব তৈরিকৃত কাঁচা লাখড়িগুলো শুকানো জন্য বাড়ির আঙ্গিনায় অথবা উঠানে দাড় করে রাখা হয়।

২/৩ দিন পরই শুকিয়ে যায় লাকড়িগুলো। এভাবে নিত্যদিনের তৈরি শুকানো লাকড়িগুলো মজুদ করে রাখা হয় নিজ ঘরে।

উপজেলার আমিনা, সাহেলা, কুতুবানুসহ কয়েক জন গৃহবধুরা জানান, প্রতি বছরের শুস্ক মৌসুমে আমরা গোবরের খড়ি তৈরি করি। নিত্যদিন চুলার জ্বালিয়ে অতিরিক্ত খড়ি মজুদ রাখি। যা বর্ষা মৌসুমে ব্যবহার করা হয়।

যাদুরানী নন্দগাও ঝাবরগাছি এলাকার গৃহবধু তালহে বেগম জানান, আমরা গরীব মানুষ। প্রতিদিন খড়ি ক্রয় করার মতো অর্থ আমাদের নাই। তাই আমাদের গৃহপালিত গরুরের গোবর দিয়ে খড়ি তৈরি করে জ্বালানি হিসাবে রান্নার কাজে ব্যবহার করি। যা আর্থিকভাবে অনেক সাশ্রয় হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

গ্রাম-বাংলার জ্বালানি গোবরের লাকড়ি

আপডেট টাইম : ০৪:২৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ এক সময়ে গ্রাম-বাংলার আড়া-জঙ্গলের লতাপাতা কুড়িয়ে জ্বালানি হিসাবে রান্নার কাজে ব্যবহার হতো।এখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে গ্রামীণ আড়া-জঙ্গল নিধন করে ভূমি তৈরি করা হচ্ছে। আর ওই ভূমিতে ফসল উৎপাদনসহ বসবাস শুরু করেছে মালিকরা।

এ কারণে বিলুপ্তির পথে বনাঞ্চল বা আড়া-জঙ্গল। এর ফলে নিন্ম আয়ের বধুদের রান্না কাজে দেখা দেয় জ্বালানি খড়ির সংকট। উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বধুরা নিজের গাছের খড়ি বা গ্যাস দিয়ে রান্না করতে পারলেও চরম বেকায়দায় পড়েছেন নিন্ম আয়ের বধুরা।

তারা গ্যাস বা গাছের কাঠ-খড়ি ক্রয় করতে না পেড়ে শুরু করেছেন গৃহপালিত গরুর গোবর সংগহে। সেই গোবর দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে লাখড়ি/খড়ি। সাশ্রয়ী জ্বালানি ব্যবহারের জন্য গরুর গোবরের তৈরি লাখড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার গ্রামঞ্চলের গরীব গৃহবধুদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তাই সম্প্রতি উপজেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে গরুর গোবর দিয়ে লাকড়ি তৈরি ধুম পড়েছে।

সোমবার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামঞ্চলে ঘরে দেখা গেছে, বিশেষ করে নিন্ম আয়ের পরিবারের বধুরা গৃহপালিত গরুর গোবরের লাখড়ী তৈরিতে মেতে উঠেছেন। গ্রামীণ এই বধুরা সকালে ঘুম থেকে জেগে উঠে গোয়াল ঘরে প্রবেশ করেন। এবং ডালি ভর্তি বের করে নিয়ে আসেন গোবর। এরপর বাড়ির আঙ্গিনায় অথবা উঠানে বসে পরেন লাখড়ি তৈরির কাজে।

জানা যায়, গোবরের সাথে মিশ্রিত করা হয় আংশিক পরিমানের ধানের তুষ বা গাছের ভূষি। এরপর ২/৩ ফুট লম্বা বাঁশের চিকন বাতি বা পাটের শলা দিয়ে বধুরা তৈরি করে লাখড়ি। এসব তৈরিকৃত কাঁচা লাখড়িগুলো শুকানো জন্য বাড়ির আঙ্গিনায় অথবা উঠানে দাড় করে রাখা হয়।

২/৩ দিন পরই শুকিয়ে যায় লাকড়িগুলো। এভাবে নিত্যদিনের তৈরি শুকানো লাকড়িগুলো মজুদ করে রাখা হয় নিজ ঘরে।

উপজেলার আমিনা, সাহেলা, কুতুবানুসহ কয়েক জন গৃহবধুরা জানান, প্রতি বছরের শুস্ক মৌসুমে আমরা গোবরের খড়ি তৈরি করি। নিত্যদিন চুলার জ্বালিয়ে অতিরিক্ত খড়ি মজুদ রাখি। যা বর্ষা মৌসুমে ব্যবহার করা হয়।

যাদুরানী নন্দগাও ঝাবরগাছি এলাকার গৃহবধু তালহে বেগম জানান, আমরা গরীব মানুষ। প্রতিদিন খড়ি ক্রয় করার মতো অর্থ আমাদের নাই। তাই আমাদের গৃহপালিত গরুরের গোবর দিয়ে খড়ি তৈরি করে জ্বালানি হিসাবে রান্নার কাজে ব্যবহার করি। যা আর্থিকভাবে অনেক সাশ্রয় হয়।