ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি রিজার্ভের আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে: ত্রাণমন্ত্রী বিচারকদের সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির বগুড়ার আলোচিত তিন ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনে ডিসিকে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি তাপমাত্রা ও বৃষ্টি নিয়ে নতুন বার্তা দিল আবহাওয়া অফিস নানা সংকটে চ্যালেঞ্জে পুলিশ মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দুই দিনের সরকারি সফর শুরু কাল, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ, জানাল অক্টোপাস পলের উত্তরসূরিরা শুধু বেতন নয়, আরও যেসব সুবিধা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

হাওর থেকে অতিথি পাখিরা মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০৪:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৪৩২ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রতি বছর এ সময় সুদূর সাইবেরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মাইল পথ পাড়ি দিয়ে অতিথি পাখি আসে। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে হাওর এলাকা। কিন্তু এ বছর পাখির আগমন কম ঘটেছে। তাই পাখিপ্রেমী পর্যটকরা হতাশ।

এ সময়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে লেনজা হাঁস, পিং হাঁস, বালি হাঁস, সরালি কাইম, গংগা কবুতর, কালাকূড়া, পিয়ারিসহ বিভিন্ন রঙের অতিথি পাখি যা এসেছে, তা আবার শিকার করার পাঁয়তারা করছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র। পাখি বিশেষজ্ঞ ও এলাকাবাসী মনে করছেন, পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখির আবাসস্থল তৈরি করতে কার্যকরী কোন উদ্যোগ নিতে না পারায় বিশাল এই হাওর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে অতিথি পাখিরা।

জানা যায়, ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি ইরানের এক সম্মেলনে এ হাওরকে রামসার এলাকাভূক্ত করা হয়। ২০০৩ সালের নভেম্বর থেকে ইজারা প্রথা বাতিল করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় হাওরের জীব বৈচিত্র রক্ষা ও রামসার নীতি বাস্তবায়ন লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু গত ১৮ বছরেও টাঙ্গুয়ার হাওরে কোন উন্নয়ন হয়নি বরং যতদিন যাচ্ছে ততই হাওরের অবস্থা খারাপ হচ্ছে।

পাখি বিজ্ঞানী ও আইইউসিএনের তথ্য মতে, টাঙ্গুয়ার হাওরে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ২১৯ প্রজাতির পাখি ছিল। পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় প্যালাসিস ঈগল পাখিও আছে এ হাওরে। কালেম, পানকৌড়ি, ভূতিহাঁস, পিয়ংহাঁস, খয়রাবগা, লেঞ্জাহাঁস, নেউপিপি, সরালি, রাজসরালি, চখাচখি, পাতি মাছরাঙা, পাকড়া মাছরাঙা, মরিচা ভূতিহাঁস, সাধারণ ভূতিহাঁস, শোভেলার, লালশির, নীলশির, পাতিহাঁস, ডাহুক, বেগুনি কালেম, গাঙচিল, শক্সখচিল, বালিহাঁস, ডুবুরি, বক, সারসসহ তখনকার হিসেবে মতে প্রায় ২১৯ প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি থাকার কথা। কিন্তু ২০১১ সালের আইইউসিএনের অপর এক জরিপে টাঙ্গুয়ার হাওরে ৬৪ হাজার পাখির অস্তিত্ব দেখানো হয়েছে। এতে ৮৬ জাতের দেশীয় এবং ৮৩ জাতের বিদেশি পাখির কথা উল্লেখ করা হয়।

টাঙ্গুয়ার হাওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন সরকার জানান, এ বছর অতিথি পাখি একটু কম মনে হচ্ছে। তবে শীত যত ঘনিয়ে আসবে ততই পাখি সংখ্যা বাড়বে। তিনি বলেন, অসাধু চক্র যাতে হাওরে পাখি শিকার করতে না পারে সেজন্য পুলিশ, আনসার সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছোট এআই মডেলেই বড় চ্যালেঞ্জ: ক্লাউড সিস্টেমকে টক্কর দিচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

হাওর থেকে অতিথি পাখিরা মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে

আপডেট টাইম : ০৪:০৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রতি বছর এ সময় সুদূর সাইবেরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মাইল পথ পাড়ি দিয়ে অতিথি পাখি আসে। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে হাওর এলাকা। কিন্তু এ বছর পাখির আগমন কম ঘটেছে। তাই পাখিপ্রেমী পর্যটকরা হতাশ।

এ সময়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে লেনজা হাঁস, পিং হাঁস, বালি হাঁস, সরালি কাইম, গংগা কবুতর, কালাকূড়া, পিয়ারিসহ বিভিন্ন রঙের অতিথি পাখি যা এসেছে, তা আবার শিকার করার পাঁয়তারা করছে এক শ্রেণির অসাধু চক্র। পাখি বিশেষজ্ঞ ও এলাকাবাসী মনে করছেন, পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত টাঙ্গুয়ার হাওরে পাখির আবাসস্থল তৈরি করতে কার্যকরী কোন উদ্যোগ নিতে না পারায় বিশাল এই হাওর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে অতিথি পাখিরা।

জানা যায়, ১৯৯৯ সালে টাঙ্গুয়ার হাওরকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি ইরানের এক সম্মেলনে এ হাওরকে রামসার এলাকাভূক্ত করা হয়। ২০০৩ সালের নভেম্বর থেকে ইজারা প্রথা বাতিল করে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় হাওরের জীব বৈচিত্র রক্ষা ও রামসার নীতি বাস্তবায়ন লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু গত ১৮ বছরেও টাঙ্গুয়ার হাওরে কোন উন্নয়ন হয়নি বরং যতদিন যাচ্ছে ততই হাওরের অবস্থা খারাপ হচ্ছে।

পাখি বিজ্ঞানী ও আইইউসিএনের তথ্য মতে, টাঙ্গুয়ার হাওরে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ২১৯ প্রজাতির পাখি ছিল। পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় প্যালাসিস ঈগল পাখিও আছে এ হাওরে। কালেম, পানকৌড়ি, ভূতিহাঁস, পিয়ংহাঁস, খয়রাবগা, লেঞ্জাহাঁস, নেউপিপি, সরালি, রাজসরালি, চখাচখি, পাতি মাছরাঙা, পাকড়া মাছরাঙা, মরিচা ভূতিহাঁস, সাধারণ ভূতিহাঁস, শোভেলার, লালশির, নীলশির, পাতিহাঁস, ডাহুক, বেগুনি কালেম, গাঙচিল, শক্সখচিল, বালিহাঁস, ডুবুরি, বক, সারসসহ তখনকার হিসেবে মতে প্রায় ২১৯ প্রজাতির দেশি-বিদেশি পাখি থাকার কথা। কিন্তু ২০১১ সালের আইইউসিএনের অপর এক জরিপে টাঙ্গুয়ার হাওরে ৬৪ হাজার পাখির অস্তিত্ব দেখানো হয়েছে। এতে ৮৬ জাতের দেশীয় এবং ৮৩ জাতের বিদেশি পাখির কথা উল্লেখ করা হয়।

টাঙ্গুয়ার হাওর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল আমিন সরকার জানান, এ বছর অতিথি পাখি একটু কম মনে হচ্ছে। তবে শীত যত ঘনিয়ে আসবে ততই পাখি সংখ্যা বাড়বে। তিনি বলেন, অসাধু চক্র যাতে হাওরে পাখি শিকার করতে না পারে সেজন্য পুলিশ, আনসার সার্বক্ষণিক নজর রাখছে।