ঢাকা ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

পোকামাকড় ছাড়া অসম্ভব প্রাণীজগৎ

  • Reporter Name
  • আপডেট টাইম : ০১:০৭:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী ২০১৮
  • ৫১৬ বার

হাওর বার্তা ডেস্কঃ অধিকাংশ মানুষই পোকা-মাকড় দেখলে বিরক্তবোধ করেন। কিন্তু এ পোকামাকড় ছাড়া মানুষ খুবই অসহায়। শুধু মানুষ নয়, গোটা প্রাণীজগতের খাদ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পোকা। বিজ্ঞানীরা বলেন, পোকামাকড় হলো পৃথিবীকে সচল রাখা এক অদৃশ্য শক্তি।

পোকা যদি না থাকতো তবে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হতো না। গাছে দেখা যেত না বাদাম, তরমুজ, টমেটোর মতো ফল। এরা না থাকলে মানুষের উচ্ছিষ্ট খাবারে ভরে যেত পৃথিবী। মানুষের অগোচরেই তারা বহন করে পুরো পৃথিবীর ভার।

মার্কিন পতঙ্গবিজ্ঞানী মেইস ভন ও জন লোসি গভীরভাবে গবেষণা করেন পোকামাকড়ের অর্থনৈতিক গুরুত্বের উপর। এ দুই বিজ্ঞানীর মতে, শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবেই পোকা ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ভূমিকা রাখে। কারণ, পোকারা বেশিরভাগ প্রাণী যেমন- পাখি ও মাছের প্রধান খাদ্য। আর খাদ্য-শৃংখলে পোকা-মাকড়ের অবস্থান একদম প্রাথমিক পর্যায়ে।

প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবেও পোকার গুরুত্ব অনেক। অনেক অঞ্চলের কৃষিজমিতে ক্ষতিকর পোকা দমনে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির পোকা ব্যবহার করা হয়।

মৌমাছি মিশর সভ্যতার আমল থেকে মানব সম্প্রদায়কে মধু দিয়ে আসছে। তাছাড়া মেক্সিকো, চীন, থাইল্যান্ড, ব্রুনাইসহ অনেক দেশের মানুষই বিভিন্ন প্রজাতির পোকা খায়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, পৃথিবী থেকে পোকা বিলুপ্ত হয়ে গেলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। জলবায়ু পরিবর্তন পোকা-মাকড়ের বিচরণক্ষেত্রকে প্রভাবিত করছে।

কোনো অঞ্চলে উদ্ভিদের সংখ্যা কমে গেলে ওই উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল পোকাও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া সুনির্দিষ্ট আবহাওয়ার উপরও পোকারা নির্ভরশীল। তাই আবহাওয়ার বিরূপ আচরণের ফলেও পোকা-মাকড় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Haor Barta24

জনপ্রিয় সংবাদ

মিঠামইনে উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা, আহত আরও একজন

পোকামাকড় ছাড়া অসম্ভব প্রাণীজগৎ

আপডেট টাইম : ০১:০৭:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জানুয়ারী ২০১৮

হাওর বার্তা ডেস্কঃ অধিকাংশ মানুষই পোকা-মাকড় দেখলে বিরক্তবোধ করেন। কিন্তু এ পোকামাকড় ছাড়া মানুষ খুবই অসহায়। শুধু মানুষ নয়, গোটা প্রাণীজগতের খাদ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে পোকা। বিজ্ঞানীরা বলেন, পোকামাকড় হলো পৃথিবীকে সচল রাখা এক অদৃশ্য শক্তি।

পোকা যদি না থাকতো তবে বিভিন্ন প্রকার খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হতো না। গাছে দেখা যেত না বাদাম, তরমুজ, টমেটোর মতো ফল। এরা না থাকলে মানুষের উচ্ছিষ্ট খাবারে ভরে যেত পৃথিবী। মানুষের অগোচরেই তারা বহন করে পুরো পৃথিবীর ভার।

মার্কিন পতঙ্গবিজ্ঞানী মেইস ভন ও জন লোসি গভীরভাবে গবেষণা করেন পোকামাকড়ের অর্থনৈতিক গুরুত্বের উপর। এ দুই বিজ্ঞানীর মতে, শুধু প্রাকৃতিক খাদ্য হিসেবেই পোকা ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনৈতিক ভূমিকা রাখে। কারণ, পোকারা বেশিরভাগ প্রাণী যেমন- পাখি ও মাছের প্রধান খাদ্য। আর খাদ্য-শৃংখলে পোকা-মাকড়ের অবস্থান একদম প্রাথমিক পর্যায়ে।

প্রাকৃতিক কীটনাশক হিসেবেও পোকার গুরুত্ব অনেক। অনেক অঞ্চলের কৃষিজমিতে ক্ষতিকর পোকা দমনে ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতির পোকা ব্যবহার করা হয়।

মৌমাছি মিশর সভ্যতার আমল থেকে মানব সম্প্রদায়কে মধু দিয়ে আসছে। তাছাড়া মেক্সিকো, চীন, থাইল্যান্ড, ব্রুনাইসহ অনেক দেশের মানুষই বিভিন্ন প্রজাতির পোকা খায়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, পৃথিবী থেকে পোকা বিলুপ্ত হয়ে গেলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। জলবায়ু পরিবর্তন পোকা-মাকড়ের বিচরণক্ষেত্রকে প্রভাবিত করছে।

কোনো অঞ্চলে উদ্ভিদের সংখ্যা কমে গেলে ওই উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল পোকাও বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া সুনির্দিষ্ট আবহাওয়ার উপরও পোকারা নির্ভরশীল। তাই আবহাওয়ার বিরূপ আচরণের ফলেও পোকা-মাকড় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।