হাওর বার্তা ডেস্কঃ ভোলার চর কুকরি-মুকরিতে হচ্ছে হরিণ প্রজনন কেন্দ্র। বন বিভাগের উদ্যোগে ১৫০ একর বনভূমিতে হচ্ছে এ প্রজনন কেন্দ্র। এ অঞ্চলটি ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় অবস্থিত।
ভোলা জেলা সদর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে চর কুকরি-মুকরির অবস্থান। এই চর কুকরি-মুকরিতেই আগামী ১৬ জানুয়ারিতে হরিণ প্রজনন কেন্দ্রের যাত্রা হবে। এছাড়াও এলাকাটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।

বন বিভাগের দেওয়া তথ্যমতে, এ বনে রয়েছে ১৫ হাজারেরও বেশি হরিণ রয়েছে। কিন্তু বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতি বছর বর্ষা ও বন্যার কারণে এ অঞ্চলে প্রতিকুল অবস্থার মধ্যে চরম বিপর্যায়ের মুখে পড়তে হয়েছে এই বনের হরিণগুলোকে।
অন্যদিকে চরটিকে পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হলেও উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বললেই চলে। হরিণের বংশবৃদ্ধির জন্যই এই প্রজনন কেন্দ্র বলছে বন বিভাগ।

বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে ম্যানগ্রোভ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তিন বছর ধরে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনার অভাবে প্রায় ১৫০ একরের বনভূমিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও পর্যটকদের জন্য চরটি দৃষ্টিনন্দন করাসহ বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতেও বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
পরবর্তী সময়ের এ বনের উন্নয়ন ও হরিণ বসবাসের জন্য পদক্ষেপ হিসেবে হরিণ প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজে হাত দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আল ইসলাম জ্যাকব।
চর কুকরি মুকরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম মহাজন জানান, সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানের অভাবে এতো দিন এ এলাকার হরিণগুলো নানা কারণে বিপর্যয়ের মুখে পড়তো। প্রজনন কেন্দ্র হলে সমস্যা কেটে যাবে। এছাড়া বনটি ঘিরে স্থানীয় জেলেদের উৎপাতের কারণে হরিণের স্বাভাবিক চলাফেরা ব্যাহত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বন বিভাগ জানান, এ এলাকার হরিণগুলো বাচ্চা প্রসব করছে। কিন্তু একশ্রেণীর অসাধু মানুষের কারণে হরিণগুলো প্রায়ই বন ছেড়ে লোকালয়ে চলে আসে।

এ চরের বাসিন্দা মো. লোকমান মিয়া জানান, কয়েকবার হরিণগুলো দল বেঁধে নদী সাঁতরে লোকালয়ে চলে এসেছিল। পরে বনে পাঠিয়ে দিয়েদিয়েছেন তারা। বেড়িবাঁধ না থাকায় এ চরের অধিকাংশ এলাকা প্রায় সময়ই জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকে। আর সে সময়ে হরিণগুলোর জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় থাকে না। একটিমাত্র মাটির কেল্লা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে এ বনে। হরিণগুলোর নিরাপত্তা, বসবাস ও বাচ্চা প্রসবের জন্য বনের মধ্যে আরও কেল্লা তৈরি করা দরকার।
এ ব্যাপারে বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সোলায়মান হাওলাদার জানান, হরিণ বসবাসের জন্য উঁচু টিলা, পুকুর খনন ও নিরাপদ আশ্রয় দরকার। হরিণ মিষ্টি পানি পান করে। কিন্তু এই বন সব সময়ে জোয়ারের লোনা পানিতে ডুবে থাকে। সে কারণে প্রজনন কেন্দ্রের পাশেই মিষ্টি পানির পুকুর খনন করার কাজ শুরু হয়েছে।
Reporter Name 

























